📌 ইসরায়েলের 'হলুদ রেখা' দক্ষিণ লেবাননের ৫০টি গ্রাম ও শহর ধ্বংস করে ১২ লাখেরও বেশি লেবানিজকে বাস্তুচ্যুত করেছে। হিজবুল্লাহর বিরোধিতার বावজুদ লেবানন সরকারের সাথে ইসরায়েলের আলোচনা থেকে 'পাইলট জোন' গঠনের চুক্তি বের হলেও, ইসরায়েলের বাহিনী এখনও দক্ষিণ লেবাননের ১০ কিলোমিটার গভীরে দখল করে রেখেছে
দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম গ্রামের বাসিন্দা আলি (পূর্ণ নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক) বর্তমানে হাসবাইয়া গ্রামে বসবাস করছেন। তিনি দক্ষিণ লেবাননের শতকোটি লেবানিজের মধ্যে একজন যারা নিজ নিজ গ্রাম থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আলি আল জাজীরার সাথে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘দক্ষিণ লেবাননের লোকেরা একটি দুঃখের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এসব সবই ভুল ভুল দুঃখের ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার ফল।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১২ লাখেরও বেশি লেবানিজ বাস্তুচ্যুত**: ইসরায়েলের দক্ষিণ লেবাননে আক্রমণে ১২ লাখেরও বেশি লেবানিজ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ লেবাননের ৫০টি গ্রাম ও শহর।
- 📌 **হলুদ রেখার পিছনে ধ্বংসাবশেষ**: ইসরায়েলের 'হলুদ রেখা' নামক একটি সীমানা থেকে দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলো ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই অঞ্চলে বসবাসকারী লোকদের বাড়ি-ঘর ধ্বংস করে তাদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে।
- 📌 **২২ বছরের দখলের নমুনা**: ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ বলেছেন, ইসরায়েলের সৈন্যরা লেবানন থেকে প্রত্যাহার করা হবে না। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের দখল ২২ বছরের মতো আরও দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে পারে।
- 📌 **হিজবুল্লাহর প্রতিরোধে আলোচনা**: হিজবুল্লাহর বিরোধিতার বাবদ লেবানন সরকার ইসরায়েলের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আলোচনার ফলাফল হিসেবে 'পাইলট জোন' গঠনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে ইসরায়েলের সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে এবং লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী হিজবুল্লাহকে অস্ত্রহীন করবে।
- 📌 **হলুদ রেখা একটি কঠিন সীমানা**: ইসরায়েলের 'হলুদ রেখা' দক্ষিণ লেবাননের ১০ কিলোমিটার গভীরে একটি কঠিন সীমানা হিসেবে কাজ করছে। এই অঞ্চলে ইসরায়েলের সৈন্যরা বসবাসকারী লোকদের বাড়ি-ঘর ধ্বংস করে যাচ্ছে, যা শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে।
📰 বিস্তারিত
জুন মাসে স্বাক্ষরিত লেবানন-ইসরায়েলের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির পরেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে দখল বজায় রেখেছে। এই অঞ্চলে ইসরায়েলের সৈন্যরা শত শত গ্রাম ও শহরের বাড়ি-ঘর ধ্বংস করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ বলেছেন, ইসরায়েলের সৈন্যরা লেবানন থেকে প্রত্যাহার করা হবে না। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের দখল ২২ বছরের মতো আরও দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে পারে।
২ মার্চ, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রকেট আক্রমণ চালায়, যা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রথম ঘটনা। হিজবুল্লাহ বলেছে, এই আক্রমণটি ইসরায়েলের নভেম্বর ২০২৪ সালের শান্তি চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিবাদ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে। ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা লেবাননে দ্বিতীয়বারের মতো যুদ্ধ শুরু করে। এই যুদ্ধে ১২ লাখেরও বেশি লেবানিজ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইসরায়েলের 'হলুদ রেখা' নামক একটি সীমানা থেকে দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলো ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এই অঞ্চলে বসবাসকারী লোকদের বাড়ি-ঘর ধ্বংস করে তাদের বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে। ইসরায়েলের এই কৌশলটি গাজার মডেলের অনুরূপ। দক্ষিণ লেবাননের ৫০টি গ্রামের মধ্যে খিয়াম ও বিন্ট জবেইল উল্লেখযোগ্য।
নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ বাজি বলেছেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল এই গ্রামগুলোকে শূন্য করে দেওয়া এবং বাসযোগ্য করা। তিনি বলেন, 'এই ছিল গাজার মডেলের লেবাননে প্রয়োগ করা।'
লেবাননের স্থপতি ও ওপেন সোর্স গবেষক আহমদ বায়দুন বলেছেন, 'হলুদ রেখা' একটি কঠিন সীমানা হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, 'এই অঞ্চলে শান্তি চুক্তি লঙ্ঘিত হয়েছে। ইসরায়েলের সৈন্যরা এই অঞ্চলে বাড়ি-ঘর ধ্বংস করে যাচ্ছে, যা শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে।'
"দক্ষিণ লেবাননের লোকেরা একটি দুঃখের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এসব সবই ভুল ভুল দুঃখের ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার ফল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ লেবানন (খিয়াম, বিন্ট জবেইল, হাসবাইয়া)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলি (খিয়ামের বাসিন্দা), মোহাম্মদ বাজি (নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক), আহমদ বায়দুন (লেবাননের স্থপতি ও গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত লেবানিজ, ৫০টি ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রাম, ১০ কিলোমিটার দখলকৃত অঞ্চল, ২২ বছর দখল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!