📌 ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই) ও মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিগ সাওয়ার যৌথভাবে মেশিনগান সজ্জিত ড্রোন 'ফায়ার স্টর্ম ২৫০'-এর পরীক্ষা সফল করেছে। ড্রোনটি দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রব্যবস্থা ও 'এম-২৫০' মেশিনগান নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি প্রবর্তন করবে
ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রধান প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে একটি বিপ্লবী ড্রোন পরীক্ষা সফল করেছে। ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই) ও মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সিগ সাওয়ারের যৌথ উদ্যোগে তৈরি 'ফায়ার স্টর্ম ২৫০' ড্রোনটি মেশিনগান সজ্জিত হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন মাত্রা নিয়ে আসতে পারে। এই ড্রোনটি দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রব্যবস্থা ও 'এম-২৫০' মেশিনগান নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতের সামরিক অভিযানকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েল ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে 'ফায়ার স্টর্ম ২৫০' ড্রোনের পরীক্ষা সফল করেছে, যা মেশিনগান ও দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রব্যবস্থা নিয়ে তৈরি
- 📌 ড্রোনটি ২০০ রাউন্ড গুলি বহন করতে পারে এবং ২০০০ মিটার উচ্চতায় ৪০০-৬০০ মিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে গুলি চালাতে সক্ষম
- 📌 ড্রোনটির ওজন মাত্র ৫৩ পাউন্ড, যা ছোট সামরিক ইউনিটের জন্য সহজে পরিচালনাযোগ্য
- 📌 ড্রোনটি সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টা আকাশে থাকতে পারে এবং ওয়ার জোনেই জ্বালানি পুনরায় ভরার ব্যবস্থা রয়েছে
- 📌 সিগ সাওয়ারের মাইক জোসলিন বলেছেন, এই প্রযুক্তি সেনাদের সরাসরি গুলির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে
- 📌 পরীক্ষায় ড্রোনটি কৃত্রিম যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, তথ্য সংগ্রহ ও গুলি ছোড়ার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলের একটি কৃত্রিম যুদ্ধক্ষেত্রে 'ফায়ার স্টর্ম ২৫০' ড্রোনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই ড্রোনটি দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রব্যবস্থা এবং নতুন 'এম-২৫০' মেশিনগান নিয়ে তৈরি। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ড্রোনটি উড্ডয়ন অবস্থায় লক্ষ্য শনাক্ত, তথ্য সংগ্রহ এবং গুলি ছোড়ার সক্ষমতা সম্পন্ন। ড্রোনটি কৃত্রিম যুদ্ধক্ষেত্রে সিমুলেশন চালিয়ে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করে একক গুলি ও আধা-স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে গুলি ছোড়ার পরীক্ষা করা হয়। বিভিন্ন উচ্চতা ও দূরত্ব থেকে গুলি চালিয়ে অস্ত্রটির নির্ভুলতা, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপদ পরিচালনার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।
ড্রোনটির ভিটিওএল (VTOL) সক্ষমতা থাকায় এটি রানওয়ে ছাড়াই সামনের সারির অবস্থান থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারে। ড্রোনটি বহু ধরনের জ্বালানিতে চলতে সক্ষম অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন ব্যবহার করে। একবার জ্বালানি নিয়ে, ড্রোনটি সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা আকাশে থাকতে পারে এবং ওয়ার জোনেই জ্বালানি পুনরায় ভরার ব্যবস্থা রয়েছে।
সিগ সাওয়ারের 'এম-২৫০' মেশিনগান গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী '৭.৬২×৫১' মিলিমিটার অথবা '৬.৮×৫১' মিলিমিটার ক্যালিবারের সর্বোচ্চ ২০০ রাউন্ড গুলি বহন করতে পারে। ড্রোনটির সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য এবং গুলি চালানোর নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত উপাত্ত একত্র করে লক্ষ্যবস্তুর একটি সমন্বিত চিত্র তৈরি করা হয়। নিয়ন্ত্রকেরা তাৎক্ষণিক দৃশ্য, লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি অনুসরণের তথ্য এবং গুলি চালানোর বিকল্পগুলো দেখতে পান।
"সবচেয়ে বিপজ্জনক অবস্থানগুলোর একটি হলো অস্ত্রের রেঞ্জের ভেতরে থাকা। মূল ধারণাটি হলো, যাতে সেনাকে সরাসরি গুলির ঝুঁকিতে পড়তে না হয়, সেজন্যই এমন উদ্ভাবন। সেনাকে নিজের হাতে বন্দুক ধরে রাখার পরিবর্তে সেটি নিয়ন্ত্রণের ইন্টারফেসটি হাতে রাখতে হবে।"
— মাইক জোসলিন, সিগ সাওয়ারের প্রতিরক্ষা পণ্যবিষয়ক ব্যবস্থাপক
সিগ সাওয়ারের ইসরায়েল শাখার মহাব্যবস্থাপক সাল্লি ওকানিন বলেছেন, পরীক্ষাটি দেখিয়েছে, হালকা ওজনের অস্ত্র ছোট আকারের চালকবিহীন আকাশযানের সক্ষমতা কতটা বাড়াতে পারে। তিনি বলেন, 'ফায়ার স্টর্ম ২৫০' বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তিগুলোকে একত্র করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আইএআইয়ের ড্রোন প্ল্যাটফর্ম এবং 'এম-২৫০' মেশিনগান সংযুক্ত সিগ সাওয়ারের মাইক্রোলাইট দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রব্যবস্থা। এতে ছোট সামরিক ইউনিটের সুবিধা বাড়বে এবং ড্রোনের নতুন ব্যবহারও সম্ভব হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল (কৃত্রিম যুদ্ধক্ষেত্র), ওয়াশিংটন (আউসা ২০২৬ প্রদর্শনী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাইক জোসলিন (সিগ সাওয়ার), সাল্লি ওকানিন (সিগ সাওয়ার ইসরায়েল), মোশে লেভি (আইএআই)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০ (ড্রোন মডেল নম্বর), ২০০ (গুলির রাউন্ড), ৫৩ (পাউন্ড ওজন), ৩ (ঘণ্টা আকাশে থাকা), ২০০০ (মিটার উচ্চতা), ৪০০-৬০০ (মিটার গুলি চালানোর দূরত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!