📌 গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নতুন সামরিক নীতির কারণে শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, ঘুড়ি ও বেলুনকে ড্রোনের মতো বিবেচনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে
গাজা উপত্যকার শিশুদের জন্য ঘুড়ি ওড়ানো ছিল শৈশবের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত। কিন্তু ইসরায়েলের নতুন সামরিক নীতির কারণে সেই আনন্দ এখন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা করেছেন, গাজা থেকে উড়ানো ঘুড়ি ও বেলুনকে এখন থেকে ড্রোনের মতোই বিবেচনা করা হবে। ফলে সাধারণ খেলনা হিসেবে বিবেচিত ঘুড়িও সামরিক হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা করেছেন, গাজা থেকে উড়ানো ঘুড়ি ও বেলুনকে ড্রোনের মতো বিবেচনা করা হবে
- 📌 ২৪ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কাটজ জানান, সেনাবাহিনীকে গাজা থেকে ঘুড়ি ও বেলুন উড়ানোর ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
- 📌 গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা মারওয়ান আল-হারাজিন (৫৫) জানান, তাঁবুর আশপাশে শিশুরা প্রায়ই ঘুড়ি ওড়ায়, কিন্তু ইসরায়েলের হুমকির পর অভিভাবকদের সন্তানদের ঘুড়ি ওড়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে
- 📌 ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুখাইমার আবুসাদা বলেন, বর্তমানের ঘুড়ি ওড়ানোর সঙ্গে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের পরিস্থিতিকে এক করে দেখা ঠিক হবে না
📰 বিস্তারিত
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের নতুন সামরিক নীতির কারণে শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা করেছেন, গাজা থেকে উড়ানো ঘুড়ি ও বেলুনকে এখন থেকে ড্রোনের মতোই বিবেচনা করা হবে। ফলে সাধারণ খেলনা হিসেবে বিবেচিত ঘুড়িও সামরিক হুমকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’ জানিয়েছে, সম্প্রতি গাজা থেকে উড়ে আসা অন্তত চারটি ঘুড়ি সীমান্তসংলগ্ন ইসরায়েলি কিবুতজ নাহাল ওজে গিয়ে পড়ে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘুড়িগুলো পরীক্ষা করে কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরক পায়নি এবং এগুলোকে বিপজ্জনক বলেও মনে করেনি। তবু এই ঘটনায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ জানান, সেনাবাহিনীকে গাজা থেকে ঘুড়ি ও বেলুন উড়ানোর ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ার করেন, এই ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে তা বন্ধ করতে ‘শক্তিশালী পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে। কাটজ বলেন, ‘বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক, একটি বেলুন বা ঘুড়িকে ড্রোনের মতোই বিবেচনা করা হবে।’
"বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক, একটি বেলুন বা ঘুড়িকে ড্রোনের মতোই বিবেচনা করা হবে।" — ইসরায়েল কাটজ, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী
এই হুঁশিয়ারিতে গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উত্তর গাজার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী মারওয়ান আল-হারাজিন বাস্তুচ্যুত হয়ে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁবুর আশপাশে শিশুরা প্রায়ই ঘুড়ি ওড়ায়। কিন্তু ইসরায়েলের হুমকির পর অভিভাবকদের এখন সন্তানদের ঘুড়ি ওড়ানো থেকে বিরত রাখতে হবে। হারাজিন বলেন, ইসরায়েলের যে কোনো হুমকিকেই গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। কারণ হামলার জন্য তাদের সামান্য অজুহাতই যথেষ্ট।
তবে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুখাইমার আবুসাদা বলেন, বর্তমানের ঘুড়ি ওড়ানোর সঙ্গে ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের পরিস্থিতিকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। সে সময় ‘গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন’ আন্দোলনের সময় গাজা থেকে আগুন লাগানোর উপকরণ যুক্ত ঘুড়ি ও বেলুন ইসরায়েলের দিকে পাঠানো হয়েছিল, যা বিভিন্ন এলাকায় দাবানলের সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এখন শিশুদের হাতে থাকা ঘুড়িগুলো সাধারণ খেলনা বলেই তিনি উল্লেখ করেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজা উপত্যকা, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইসরায়েল কাটজ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী), মারওয়ান আল-হারাজিন (গাজার বাসিন্দা), মুখাইমার আবুসাদা (ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ আগস্ট, ২৪ আগস্ট, ৫৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!