📌 ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের কাতারের জন্য গোপন লবিং কেলেঙ্কারি উন্মোচিত হয়েছে। গোয়েন্দা তদন্তে জানা যায়, ২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধের সময় কাতারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে কোটি টাকার বিনিময়ে ভুয়া খবর ছড়ানো হয়েছিল
ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে নজিরবিহীন একটি কেলেঙ্কারি উন্মোচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাতারের জন্য গোপন লবিং পরিচালনা করে কোটি টাকার বিনিময়ে ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’ ও পুলিশের যৌথ তদন্তে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পর গাজা যুদ্ধ চলাকালীন কাতারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং ইসরায়েলের ঐতিহাসিক মিত্রদের ভূমিকা ক্ষুণ্ন করার জন্য এই অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেতানিয়াহুর প্রধান কৌশলগত উপদেষ্টা জোনাথন উরিখ, সাবেক সামরিক মুখপাত্র এলি ফেল্ডস্টাইন, রাজনৈতিক প্রচারক ইসরায়েল ইনহর্নসহ চারজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নাম কাতারগেট কেলেঙ্কারিতে উঠেছে।
- 📌 কাতারের জন্য ‘পারসেপশন’ নামের কনসালটিং ফার্মের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার বিনিময়ে ভুয়া খবর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানো হতো।
- 📌 ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপের আগে থেকেই কাতারের জন্য ‘কোশার’ খাবারের প্রচার করে ইহুদি-বান্ধব ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
- 📌 গাজা যুদ্ধের সময় কাতারকে হামাসের পৃষ্ঠপোষক থেকে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী’ হিসেবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে ভুয়া উক্তি ও সাজানো খবর ছড়ানো হয়েছিল।
- 📌 লন্ডনের রিজ হোটেলে গোপন বৈঠকে কাতারের লবিস্ট জে ফুটলিক ও ইসরায়েল ইনহর্ন ইসরায়েলি জনমত পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছিলেন।
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’ ও পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার পর গাজা যুদ্ধ চলাকালীন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠদের একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাতারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং ইসরায়েলের ঐতিহাসিক মিত্রদের ভূমিকা ক্ষুণ্ন করার জন্য গোপন লবিং পরিচালনা করেছিল। এই কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নেতানিয়াহুর প্রধান কৌশলগত উপদেষ্টা জোনাথন উরিখ, সাবেক সামরিক মুখপাত্র এলি ফেল্ডস্টাইন, রাজনৈতিক প্রচারক ইসরায়েল ইনহর্ন এবং সাবেক মার্কিন লবিস্ট জে ফুটলিক।
তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ‘পারসেপশন’ নামের কনসালটিং ফার্মের মাধ্যমে কাতার প্রতি মাসে ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার বিনিময়ে ভুয়া খবর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানো হতো। এই প্রচারের লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে কাতারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা। বিশেষ করে ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপের আগে থেকেই কাতারের জন্য ‘কোশার’ খাবারের প্রচার করে ইহুদি-বান্ধব ভাবমূর্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোতে ‘কোশার’ খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে—এমন প্রচার চালিয়ে দোহাকে ইহুদি-বান্ধব হিসেবে দেখানোর জন্য তৈরি করা হয়েছিল ভুয়া সংবাদ সাইট ও সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট।
গাজা যুদ্ধের সময় কাতারকে হামাসের পৃষ্ঠপোষক থেকে ‘শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী’ হিসেবে উপস্থাপনের লক্ষ্যে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে ভুয়া উক্তি ও সাজানো খবর ছড়ানো হয়েছিল। এই প্রচারের ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল:
"বন্ধ দরজার আড়ালে শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন—কাতার ছাড়া আর কোনো দেশ চুক্তি করাতে পারবে না।"
এই উক্তি ছিল সম্পূর্ণ সাজানো। এছাড়া, দীর্ঘদিনের মিত্র মিসরকে ‘অবিশ্বস্ত’ এবং ‘অক্ষম’ হিসেবে উপস্থাপন করা হতো, যাতে মধ্যস্থতার সমস্ত কৃতিত্ব কাতারের ঝুলিতে যায়। কায়রো এই প্রচারকে চরম ক্ষোভের সাথে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজা যুদ্ধের সময় লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী রিজ হোটেলে লবিস্ট জে ফুটলিক ও ইসরায়েল ইনহর্ন এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলি জনমত পুরোপুরি বদলে দেওয়া। ৭ অক্টোবরের হামলায় ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হওয়ার পর সাধারণ জনগণ কাতারকে ‘হামাসের প্রধান অর্থদাতা ও শত্রু’ হিসেবে দেখছিল। লবিস্টদের লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলিদের চোখে কাতারকে হামাসের পৃষ্ঠপোষক থেকে এ অঞ্চলের ‘একমাত্র কার্যকরী শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী’ হিসেবে দাঁড় করানো।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল, লন্ডন, ওয়াশিংটন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, জোনাথন উরিখ, এলি ফেল্ডস্টাইন, ইসরায়েল ইনহর্ন, জে ফুটলিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ অক্টোবর ২০২৩, ৫ লাখ মার্কিন ডলার, ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার, ১ হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!