📌 নির্বাচনের আগে ইরানে সামরিক হামলা না করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে হিজবুল্লাহ বা ইরানের সমর্থিত গোষ্ঠী হামলা চালালে কড়া প্রতিক্রিয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হিজবুল্লাহকে সতর্ক করেছেন: নতুন হামলায় ভয়াবহ পরিণতি হবে
নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তবে তিনি ইরান বা তাদের সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মতো সংগঠন যদি ইসরায়েলে হামলা চালায়, তাহলে তার কড়া প্রতিক্রিয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। আজ বুধবার ইসরায়েলের আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এ কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন সামরিক হামলা না করার ঘোষণা দিয়েছেন নেতানিয়াহু
- 📌 হিজবুল্লাহ বা ইরানের সমর্থিত গোষ্ঠী হামলা চালালে ইসরায়েলের কড়া প্রতিক্রিয়া হবে
- 📌 প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হিজবুল্লাহকে সতর্ক করেছেন: নতুন হামলায় ১০ লাখ শিয়া মুসলিম বাস্তুচ্যুত হবে
- 📌 সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১৩ জন নিহত, ইসরায়েলের সহায়তা নিয়ে নেতানিয়াহু অস্পষ্ট উত্তর দেন
- 📌 ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের উদাহরণ দিয়ে বাংলাদেশের তরুণদের প্রশংসা করেছেন নেতানিয়াহু
📰 বিস্তারিত
নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে নতুন সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন হামলা চালানো আমাদের জন্য কোনো উপযোগী বিষয় নয়’। তবে তিনি ইরান বা তাদের সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মতো সংগঠন যদি ইসরায়েলে হামলা চালায়, তাহলে তার কড়া প্রতিক্রিয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের তোলা ‘নির্বাচনকেন্দ্রিক সামরিক উসকানির’ অভিযোগের জবাবে বলেন, ‘এমনকি ইরান যদি আমাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, তাহলেও বিরোধীরা এর জন্য আমাকেই দায়ী করবে’। তবে নির্বাচনপরবর্তী কৌশল বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান নিরাপত্তা বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
এই ঘোষণা আসে এমন সময়ে যখন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন যে, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে বিজয়ী হতে ও ক্ষমতায় টিকে থাকতে তিনি নতুন করে সামরিক উত্তাপ ছড়াচ্ছেন। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) নিয়ন্ত্রণাধীন নিরাপত্তা অঞ্চল পরিদর্শনের সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হিজবুল্লাহর উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
কাৎজ জানান, হিজবুল্লাহ যদি নতুন করে হামলা চালায়, তবে তাদের ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ হামলা চালালে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে ও লিটানি নদীসংলগ্ন অঞ্চল হাতছাড়া করবে এবং সেগুলো ইসরায়েলের স্থায়ী নিরাপত্তাবলয়ের অংশ করা হবে। কাৎজ আরও সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত তীব্র হলে ১০ লাখের বেশি শিয়া মুসলিম বাস্তুচ্যুত হবে এবং বৈরুতে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটিগুলোকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মনে রাখতে হবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। জুনের পর ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি গোলাগুলি বন্ধ থাকলেও হিজবুল্লাহ ও হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
গত সপ্তাহে সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের রক্তক্ষয়ী হামলায় ১৩ জন নিহত হয়। এ ঘটনায় ইসরায়েল সৌদি আরবকে সহায়তা করবে কি না বা করবে কি না, নেতানিয়াহুর কাছে তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘আমরা এসব বিষয়ে জড়াতে চাই না। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে, আমাদের সাম্প্রতিক সামরিক সাফল্যের পর মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ সাহায্য ও পরামর্শের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে’।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের তরুণদের প্রশংসা করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ‘তাদের দেশের চলমান আন্দোলনে পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশ’।
"নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন হামলা চালানো আমাদের জন্য ভালো কোনো বিষয় নয়। এমনকি ইরান যদি আমাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, তাহলেও বিরোধীরা এর জন্য আমাকেই দায়ী করবে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল, দক্ষিণ লেবানন, সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর, ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু (ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী), ইসরায়েল কাৎজ (প্রতিরক্ষামন্ত্রী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ অক্টোবর (নির্বাচন তারিখ), ১০ লাখ (বাস্তুচ্যুত শিয়া মুসলিম), ২৮ ফেব্রুয়ারি (ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের ইরান হামলা), ১৩ জন (রিয়াদ বিমানবন্দরে নিহত)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!