📌 ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ২৬তম কনেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ বছর শাসনকারী নেটানিয়াহু কর্তৃক নেতৃত্বাধীন লিকুদ দল ও তার অধীন ফার-রাইট জোটের সাথে ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ১২০টি আসনের মধ্যে কোনো দলই এককভাবে ৬১টি আসন পেলে সরকার গঠন করতে পারবে না।
২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করবে। এই তারিখে দেশটি ২৬তম কনেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত করবে, যা গাজার প্যালেস্টাইন গণহত্যা ও লেবানন ও ইরানের যুদ্ধের পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন। ১৯ বছর শাসনকারী এবং ইতিহাসের দীর্ঘতম সময়কালের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত বেনজামিন নেটানিয়াহু, যিনি বর্তমানে দুটি দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি, পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে চাইছেন। তার নেতৃত্বাধীন লিকুদ দল ও ফার-রাইট জোটের সাথে ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, যেখানে কোনো দলই ১২০টি আসনের মধ্যে ৬১টি আসনের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারছে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ২৬তম কনেসেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা গাজার গণহত্যা ও লেবানন-ইরান যুদ্ধের পর প্রথম নির্বাচন।
- 📌 ১৯ বছর শাসনকারী নেটানিয়াহু দুটি দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি থাকা অবস্থায় পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে চাইছেন।
- 📌 ৭৩ লক্ষ ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ইসরায়েলি নাগরিক ভোটাধিকারী, কিন্তু ৩০ লক্ষ প্যালেস্টাইন অধিবাসী (গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম) তাদের নিয়ন্ত্রিত সীমানা ও আইনি অবস্থার উপর কোনো ভোটের অধিকার নেই।
- 📌 ১২০টি আসনের মধ্যে কোনো দলই ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে সরকার গঠন করতে পারবে না। দলগুলো ২৮ দিনের মধ্যে (১৪ দিনের প্রসারিত সময়সীমা সহ) ৬১টি আসনের জোট গঠন করতে হবে।
- 📌 ৩.২৫ শতাংশ ভোট পেলে দলগুলো কনেসেটে প্রবেশ করতে পারবে। ৩.২৫ শতাংশের কম ভোট পাওয়ার ফলে দলগুলোর ভোট বাতিল হয়ে যায়, যার কারণে নির্বাচনের আগে ছোট দলগুলো প্রায়ই একত্রিত হয়।
- 📌 ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পর থেকে, ইসরায়েল সরকার এখনও কোনো রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করতে পারেনি, যা ১,২০০-এরও বেশি মৃত্যুর সাথে জড়িত ছিল।
- 📌 ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রধান বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে: অক্টোবর ৭-এর নিরাপত্তা ব্যর্থতা, অত্যন্ত ধর্মীয় ব্যক্তিদের সশস্ত্র বাহিনী থেকে মুক্তি, বিচার বিভাগের সংস্কার, এবং গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননের যুদ্ধ ও নিরাপত্তা অবস্থা।
📰 বিস্তারিত
ইসরায়েলের নির্বাচন প্রক্রিয়া কিছুটা অনন্য। ভোটাররা দলের পক্ষে ভোট দেন, না ব্যক্তিগত প্রার্থীর পক্ষে। কোনো দল যদি ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারে, তাহলে দলগুলো ২৮ দিনের মধ্যে (১৪ দিনের প্রসারিত সময়সীমা সহ) একটি জোট গঠন করতে হবে। যদি কোনো দল বা জোট ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারে, তাহলে দেশে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আসন বণ্টন করা হয় দলের জাতীয় ভোটের অনুপাত অনুযায়ী, অর্থাৎ কোনো দল যদি ৩০ শতাংশ ভোট পায়, তাহলে তারা প্রায় ৩০ শতাংশ আসন পাবে।
৭৩ লক্ষেরও বেশি ইসরায়েলি নাগরিক ভোটাধিকারী, কিন্তু তাদের মধ্যে সবাইই ভোট দিতে পারেন না। গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের প্রায় ৩০ লক্ষ প্যালেস্টাইন অধিবাসী তাদের নিয়ন্ত্রিত সীমানা ও আইনি অবস্থার উপর কোনো ভোটের অধিকার নেই। ইহুদি ইসরায়েলি ও ইসরায়েলের প্যালেস্টাইন নাগরিকরা (যাদের সংখ্যা প্রায় ১২ লক্ষ) ভোট দিতে পারেন। পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরাও ভোট দিতে পারেন, যারা কনেসেটের আইন প্রণয়নের অধীনে থাকেন। তবে পূর্ব জেরুজালেমের অধিকাংশ প্যালেস্টাইন অধিবাসী ইসরায়েলি নাগরিকত্বের পরিবর্তে শুধুমাত্র ইসরায়েলি বাসিন্দা হিসেবে পরিচিত, এবং তারা জেরুজালেমের শহর পরিষদের জন্য ভোট দিতে পারেন, কিন্তু কনেসেটের জন্য নয়।
অবশ্য, ইসরায়েলের বাইরে থাকা অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিক ভোট দিতে পারেন না, কারণ দেশটি সাধারণভাবে অনুপস্থিত ভোটের ব্যবস্থা নেই এবং ভোটারদের দেশে উপস্থিত থাকতে হবে। তবে ইসরায়েলের দূতাবাস ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিদের ২০ অক্টোবর তাদের মিশনে ভোট দিতে পারবে।
নির্বাচনের প্রধান বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে অক্টোবর ৭-এর নিরাপত্তা ব্যর্থতা, অত্যন্ত ধর্মীয় ব্যক্তিদের সশস্ত্র বাহিনী থেকে মুক্তি, বিচার বিভাগের সংস্কার, এবং গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননের যুদ্ধ ও নিরাপত্তা অবস্থা। নেটানিয়াহু "সম্পূর্ণ বিজয়" ঘোষণা করেছেন, যা ইসরায়েলের জনগণের মধ্যে স্থিতিশীলতা চাইতে থাকা সত্ত্বেও, গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে কোনো সমঝোতা বা সমাধানের প্রতি সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
"total victory"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল (গাজা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনজামিন নেটানিয়াহু, লিকুদ দল, ইহুদি বিরোধী জোট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ অক্টোবর (নির্বাচন তারিখ), ১২০টি আসন, ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, ৭৩ লক্ষ ভোটার, ৩.২৫ শতাংশ (নির্বাচনী সীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!