📌 মার্কিন বাহিনী ইরাকের সর্বশেষ ঘাঁটি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন পর্যায় শুরু হয়েছে। ইরাক সরকার চার দিনের 'সার্বভৌমত্ব দিবস' পালন করছে, যেখানে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারের প্রতীকী অর্থের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যাহারের পর ইরাকের নিরাপত্তা কীভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
মার্কিন বাহিনী ইরাকের সর্বশেষ ঘাঁটি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি নতুন যুগ শুরু হয়েছে। ইরাকের রাজধানী বাগদাদ ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের 'সার্বভৌমত্ব দিবস' পালন করছে, যা মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারের প্রতীকী অর্থকে তুলে ধরে। তবে এই প্রত্যাহারের পর ইরাকের নিরাপত্তা কীভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন বাহিনী ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের সর্বশেষ ঘাঁটি থেকে প্রত্যাহার করে নেয়, যা গ্লোবাল কোয়ালিশন টু ডিফেট আইএসআইএল (আইএসআইএল) মিশনের অবসান ঘটায়।
- 📌 মার্কিন বাহিনী ইরাক থেকে ২০১১ সালে প্রত্যাহার করা হয়েছিল, কিন্তু ২০১৪ সালে আইএসআইএলের উত্থানের পর আবার ফিরে আসে এবং কেবলমাত্র প্রশিক্ষণ ও বিমান সমর্থন প্রদান করে।
- 📌 ইরাকের পেশমেরগা (কুর্দি বাহিনী) বলেছে, মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার পর তাদের অঞ্চলে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, বুদ্ধিমত্তা সমর্থন ও ড্রোন সহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
- 📌 কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি বলেছেন, ‘কুর্দিস্তান অঞ্চল ছাড়াই কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়াই যাওয়া একটি উদ্বেগের বিষয়।’
- 📌 ইরাকের বিমান বাহিনী কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালিদ আল-তামিমি বলেছেন, ইরাকের বিমান বাহিনী এখন স্বাধীনভাবে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে এবং ১০ দিন ধরে কোনো বাহ্যিক সহায়তা ছাড়াই মিশন সম্পন্ন করেছে।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন বাহিনী ইরাকের সর্বশেষ ঘাঁটি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি নতুন পর্যায় শুরু হয়েছে। বাগদাদ এই প্রত্যাহারের প্রতীকী অর্থকে তুলে ধরে চার দিনের 'সার্বভৌমত্ব দিবস' পালন করছে। মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারের পর ইরাকের নিরাপত্তা কীভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন ও ইরাক সরকারের একটি যৌথ বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, গ্লোবাল কোয়ালিশন টু ডিফেট আইএসআইএল মিশন দুই পর্যায়ে শেষ হবে। প্রথম পর্যায়ে, ২০২৫ সালের শেষের মধ্যে ইরাকের অভ্যন্তরে যুদ্ধ কার্যক্রম বন্ধ হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিরিয়ায় আইএসআইএল বিরোধী কার্যক্রমের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। জানুয়ারি মাসে ইরাক সরকার ঘোষণা করেছিল যে, কোয়ালিশন উপদেষ্টারা ইরাকের কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, তবে সিরিয়ায় কার্যক্রমের জন্য ইরবিলে একটি ঘাঁটি থেকে লজিস্টিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
মার্কিন বাহিনী ইরাকে ২০১৪ সালে আইএসআইএলের উত্থানের পর ফিরে আসে এবং মূলত বিমান সমর্থন ও প্রশিক্ষণ প্রদান করে। মার্কিন বাহিনী ইরাকের উত্তরাঞ্চলে প্রায় ২৫০০ জন সৈন্য এবং সিরিয়ায় অবস্থান করত। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় মার্কিন বাহিনীতে ছিল ১৭০,০০০ জন সৈন্য, যা ২০০৭ সালে সর্বোচ্চ ছিল।
মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারের সাথে সাথে তারা তাদের সামরিক সরঞ্জাম, বিশেষ করে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও নিয়ে যাচ্ছে। এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইরবিলে ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কুর্দি সামরিক কমান্ডার সিরওয়ান বারজানি রিয়াটার্সকে বলেছেন, ইরাক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হারাতে পারে: মার্কিন বুদ্ধিমত্তা, লজিস্টিক সমর্থন এবং ড্রোন।
কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রধানমন্ত্রী মাসরুর বারজানি বলেছেন, ‘কুর্দিস্তান অঞ্চল ছাড়াই কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়াই যাওয়া একটি উদ্বেগের বিষয়।’ তিনি আরও বলেছেন, তাদের অঞ্চলটি ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখ থেকে চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে ১০০০-এরও বেশি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল আক্রমণে লক্ষ্য হয়েছে। মাসরুর বারজানি’র কার্যালয়ও আগের মাসে একটি ড্রোন আক্রমণে লক্ষ্য হয়েছিল, যা ইরানি অঞ্চল থেকে চালানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
বাগদাদের দাবি, অনেক নিরাপত্তা দায়িত্ব ইতিমধ্যে ইরাকি বাহিনীকে হস্তান্তর করা হয়েছে। ইরাকের বিমান বাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালিদ আল-তামিমি বলেছেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকে কোনো কোয়ালিশন বাহিনী ইরাকের অভ্যন্তরে কোনো দায়িত্ব পালন করেনি। তিনি বলেছেন, ইরাকি ড্রোনগুলো এখন কোয়ালিশন বিমানগুলোর পরিবর্তে রিকনাইসেন্সে ব্যবহৃত হয় এবং বিমান বাহিনী দৈনিক বিমান পরিদর্শন পরিচালনা করে। তিনি আরও বলেছেন, ইরাকের ফ্লাইটগুলো ১০ দিন ধরে কোনো বাহ্যিক সহায়তা ছাড়াই মিশন পরিচালনা করেছে।
"কুর্দিস্তান অঞ্চল ছাড়াই কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা ছাড়াই যাওয়া একটি উদ্বেগের বিষয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরাক (বিশেষত ইরবিল ও কুর্দিস্তান অঞ্চল), সিরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাসরুর বারজানি (কুর্দিস্তান প্রধানমন্ত্রী), লেফটেন্যান্ট জেনারেল খালিদ আল-তামিমি (ইরাক বিমান বাহিনী কমান্ডার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫০০ (মার্কিন সৈন্য), ১০০০ (ড্রোন ও মিসাইল আক্রমণ), ১০ (দিন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!