📌 ইরাকে দুই দশক অবস্থানের পর মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার শেষ করেছে। দেশটির সরকার নতুন দিনের সূচনা ঘোষণা করলেও নিরাপত্তা উদ্বেগের সাথে সাথে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগ দেখা দিচ্ছে। ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন, কিন্তু বিশ্লেষকরা ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন
ইরাকের ইতিহাসে একটি মাইলফলক ঘটনা ঘটেছে। দুই দশক অবস্থানের পর গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটি থেকে মার্কিন বাহিনীর সর্বশেষ সেনা প্রত্যাহার শেষ হয়েছে। ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখন আর দেশটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোনো সামরিক উপস্থিতি নেই। এই প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকের জন্য একটি নতুন যুগ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের সাথে সাথে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধির সুযোগও দেখা দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মতে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যায় মার্কিন সেনাদের ইরাক থেকে দুই দশকব্যাপী অবস্থান। ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এখন আর দেশটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোনো সেনা নেই।
- 📌 ২০০৩ সাল থেকে ইরাকে মার্কিন হস্তক্ষেপ শুরু হয়। সাদ্দাম হোসেনের ক্ষমতাচ্যুতির পর ২০০৭ সালে সেনাদের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১ লাখ ৭০ হাজার।
- 📌 ২০২৪ সালের সমঝোতা অনুযায়ী, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের অধীনে আড়াই হাজার সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হয়েছে।
- 📌 ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার ইরানের জন্য কৌশলগত সুযোগ সৃষ্টি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
- 📌 ফালুজা অঞ্চলের নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর উদ্বেগ প্রকাশ করেন, ইরাকি বাহিনী নিরাপত্তা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত নয় বলে মনে করেন।
- 📌 ২০১৪ সালের আইএস বিরোধী অভিযানে ইরাকে মার্কিন সেনা পাঠানো হয়েছিল। এছাড়া, ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়া ইরান-সৌদি যুদ্ধে সাতজন ইরাকেই ছিলেন।
📰 বিস্তারিত
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি বলেছেন, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দেশটি বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন, এখন থেকে পুরো ইরাকের ভূখণ্ডে জাতীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি মন্তব্য করেছেন, মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার ইরানের জন্য কৌশলগত সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কারণ, বহু বছর ধরে ইরাকে ইরানের প্রভাবের বিরুদ্ধে ভারসাম্য রক্ষা করত মার্কিন সেনারা। এখন সেই ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান হবে। তবে ফালুজা অঞ্চলের আদিবাসী নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ইরাকি বাহিনী এখনো নিরাপত্তা দায়িত্ব পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে প্রস্তুত নয়।
ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল বুধবার। কিন্তু এক দিন আগেই প্রত্যাহার শেষ হয়ে গেছে। ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এখন আর ইরাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোনো সেনা নেই। ইরাকি বাহিনী এখন সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব নিতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন তিনি।
"৩০ সেপ্টেম্বর ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান হবে। ইরাকে দখলদারদের ব্যর্থতা উদ্যাপন করবে দেশটির মানুষ।"
— আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি, ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরাক (বিশেষত বাগদাদ, কুর্দি এলাকা, ফালুজা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলী আল-জাইদি (প্রধানমন্ত্রী), জো বাইডেন (প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট), আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি (ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার), আবদুল রহমান আল-জোবাইর (ফালুজা অঞ্চলের নেতা), জাসিম আল-বাহাদলি (নিরাপত্তা বিশ্লেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০০৩ (মার্কিন হস্তক্ষেপের বছর), ১ লাখ ৭০ হাজার (সেনাদের সর্বোচ্চ সংখ্যা), ২০২৪ (সমঝোতা স্বাক্ষরিত বছর), ১৮ (মার্কিন সেনা নিহত), ৩০ সেপ্টেম্বর (প্রত্যাহার শেষের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!