📌 ইরাকের তেল বিক্রি থেকে আসা অর্থ ২৩ বছর ধরে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ইরাকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলছে। ইরাকি কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আস্থা বাড়ায়, কিন্তু ইরানের প্রভাব ও অনানুষ্ঠানিক ডলার বাজারের সৃষ্টি করেছে
ইরাকের তেল বিক্রি থেকে আসা অর্থ ২৩ বছর ধরে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ইরাকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গভীর প্রভাব ফেলছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরাকে থাকা শেষ মার্কিন সেনারা সরে যাবার পরেও এই অর্থনৈতিক বন্ধন ইরাকের সার্বভৌমত্বকে চাপিয়ে দেয়ার একটি শক্তিশালী উপায় হিসেবে কাজ করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরাকের তেল বিক্রি থেকে আসা অর্থ ২৩ বছর ধরে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা হচ্ছে, যা ইরাকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বজায় রাখে
- 📌 ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাক আক্রমণের পর থেকে ইরাকের তেল রাজস্বের ৯০ শতাংশেরও বেশি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা দেশটির অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে সীমাবদ্ধ করে
- 📌 ইরাকি কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক আস্থা বাড়ায়, কিন্তু ইরানের প্রভাব ও অনানুষ্ঠানিক ডলার বাজারের সৃষ্টি করেছে
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের এই আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ইরাককে ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগের সুযোগ দেয়, যারা ইরাকের ডলার প্রবেশাধিকার শিথিল করার দাবি করে আসছে
- 📌 মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশেরও বেশি হয়েছে, যা ইরাকের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আরও চাপ সৃষ্টি করেছে
📰 বিস্তারিত
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমণের পর থেকে ইরাকের তেল বিক্রি থেকে আসা অর্থের নিয়ন্ত্রণ মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে রাখা হয়েছে। এই ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে। সেই সময় থেকে প্রতিটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ব্যবস্থা নবায়ন করে আসছেন। এই অর্থের তহবিলের নাম ছিল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর ইরাক (ডিএফআই), যা নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে রাখা হয়েছিল। এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরাকের তেল বিক্রি থেকে আসা অর্থ সংগ্রহ করে দেশটির পুনর্গঠন ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা। তবে এই ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল ইরাকের তেল রাজস্বকে সাদ্দাম হোসেনের শাসনামল-সংক্রান্ত মামলা, ঋণদাতাদের দাবি এবং অন্যান্য আইনি দাবির হাত থেকে সুরক্ষিত রাখা।
ইরাকের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ আসে তেল বিক্রি থেকে। এই তেল রাজস্বের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ ইরাকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। ইরাকি কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ব্যবস্থা ইরাকের তেল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর আন্তর্জাতিক আস্থা বাড়ায় এবং দেশটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আমদানির জন্য মার্কিন ডলার সংগ্রহে সহজ প্রবেশাধিকার দেয়। তবে এই ব্যবস্থা ইরাকের নিজস্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশে বাধা সৃষ্টি করেছে।
২০২০ সালে যখন ইরাকি সরকার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে থাকা অর্থে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল। এই হুমকির কারণে ইরাকি সরকার সেই অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসে। ইরাকি কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ব্যবস্থা ইরাকের আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করেছে। তবে এই ব্যবস্থা ইরানের প্রভাব ও অনানুষ্ঠানিক ডলার বাজারের সৃষ্টি করেছে, যা ইরাকের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি করেছে।
"ইরাকের তেল রাজস্ব ও ডলার প্রবাহের ওপর প্রভাব রাখার মাধ্যমে ওয়াশিংটন দেশটির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এই ব্যবস্থা ইরাকের আর্থিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক), ইরাক (বাগদাদ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জর্জ ডব্লিউ বুশ (মার্কিন প্রেসিডেন্ট), ইরাকি সরকারি কর্মকর্তারা (অনামিক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ বছর (অর্থের নিয়ন্ত্রণ), ৯০ শতাংশ (ইরাকের অর্থনীতির তেলের অবদান), ৫ দশমিক ৬ শতাংশ (মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!