📌 ইরানের তেল ব্যবসায়ীরা সরকারকে ১০ থেকে ১১ বিলিয়ন ইউরো (১১ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার) ঋণে ফেলেছে। মার্কিন নৌব্লকেড ও সנקশনের কারণে এই অর্থের অদৃশ্যতা ইরানের অর্থনীতিকে মারাত্মক সংকটে ফেলেছে। ২০১২ সালে মার্কিন সנקশন এড়াতে শুরু করা ‘ট্রাস্টি নেটওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে এই অর্থের অদৃশ্যতা ঘটেছে
ইরানের তেল ব্যবসায়ীরা সরকারকে ১০ থেকে ১১ বিলিয়ন ইউরো (১১ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার) অর্থ ঋণে ফেলেছে, যা দেশটির বর্তমান অর্থবছরের তেল আয়ের অর্ধেকের সমান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌব্লকেড ও তেল রফতানির উপর আরো সঙ্কটজনক সঙ্কশন জারি করার ফলে ইরান সরকারের এই অর্থের অদৃশ্যতা একটি মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে। ইরানের বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র সেপ্টেম্বর মাসে জানিয়েছিলেন যে, ‘ট্রাস্টি নেটওয়ার্ক’ নামে পরিচিত তেল ব্যবসায়ীরা এই অর্থের দায়িত্বে রয়েছে। মার্কিন সরকারের কর্মকর্তারা এই অর্থের অদৃশ্যতাকে ইরানের অর্থনৈতিক চাপের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানের তেল ব্যবসায়ীরা সরকারকে ১০ থেকে ১১ বিলিয়ন ইউরো (১১ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার) অর্থ ঋণে ফেলেছে, যা বর্তমান অর্থবছরের তেল আয়ের অর্ধেকের সমান।
- 📌 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌব্লকেড ও সঙ্কশন ইরানের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে, বিশেষত তেল রফতানির উপর।
- 📌 মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) বলেছেন, ‘ইরানের ছায়াবাণিজ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে’।
- 📌 ২০১২ সালে মার্কিন সঙ্কশন এড়াতে ইরান সরকার ‘ট্রাস্টি নেটওয়ার্ক’ নামে একটি ব্যবস্থা চালু করেছিল, যেখানে তেল বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের।
- 📌 এই ব্যবস্থায় তেল বিক্রির অর্থের অদৃশ্যতা ঘটে, যা ইরানের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
📰 বিস্তারিত
ইরানের তেল ব্যবসায়ীরা সরকারকে ঋণে ফেলা এই অর্থের অদৃশ্যতা একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলি ২০১২ সাল থেকে ইরানের তেল রফতানি ও আয় সংগ্রহে সঙ্কশন জারি করেছে। এই সঙ্কশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ন্যুক্লিয়ার প্রোগ্রামের অর্থায়নে বাধা দেওয়া। সঙ্কশন এড়াতে ইরান সরকার একটি বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তারা তেল বিক্রির দায়িত্ব দিয়েছিল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও কোম্পানির হাতে। এই ব্যবস্থায় তেল বিক্রির অর্থ সরকারের খাজনা খাতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
২০১২ সালে এই ‘ট্রাস্টি নেটওয়ার্ক’ চালু করা হয়। এই ব্যবস্থায় তেল বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে, যেমন তেল মন্ত্রণালয়ের পেনশন ফান্ড, খাতাম আল-আনবিয়া কনস্ট্রাকশন বেস (Khatam al-Anbiya Construction Base) এবং এমনকি স্থানীয় পুলিশও তেলের মাধ্যমে তাদের দাবী মেটাত। এই ব্যবস্থায় তেল বিক্রির অর্থের অদৃশ্যতা ঘটে, যা ইরানের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
২০১৬ সালে ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জোট সম্মেলন (Joint Comprehensive Plan of Action, JCPOA) স্বাক্ষরিত হয় এবং তেল রফতানির সঙ্কশন তুলে নেওয়া হয়। এই সময়ে ইরান সরকার তেল বিক্রির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া অর্থের পরিমাণ এখনও ইরানের অর্থনীতিকে চাপিয়ে রেখেছে।
"ইরানের ছায়াবাণিজ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ওয়াশিংটন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ থেকে ১১ বিলিয়ন ইউরো (১১ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!