📌 ইরানের আপিল আদালত কোনো শুনানি ছাড়াই নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছে। হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ২৯ বছর বয়সী পারাস্তু আহমাদিকে ৭৪টি দোররার শাস্তি এবং দুই বছরের জন্য সব ধরনের অডিও-ভিজ্যুয়াল কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই সাজাকে নিষ্ঠুর বলে নিন্দা জানিয়েছে
ইরানের একটি আপিল আদালত কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানি ছাড়াই নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছে। ২৯ বছর বয়সী জনপ্রিয় ইরানি নারী সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদিকে হিজাব ছাড়া গান পরিবেশন করার জন্য ৭৪টি দোররার মারার পাশাপাশি দুই বছরের জন্য সব ধরনের অডিও-ভিজ্যুয়াল কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই সাজার ঘটনায় ইরানজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানের আপিল আদালত কোনো শুনানি ছাড়াই ৭৪টি দোররার শাস্তি বহাল রেখেছে
- 📌 পারাস্তু আহমাদিকে দুই বছরের জন্য সব ধরনের অডিও-ভিজ্যুয়াল কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে
- 📌 আদালত দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে
- 📌 ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত কনসার্টে হিজাব ছাড়া গান পরিবেশন করেছিলেন পারাস্তু
- 📌 ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ইরানের বিচার বিভাগ ‘আইনি ও সাংস্কৃতিক বিধিমালার লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে মামলা করে
- 📌 আইনজীবী বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে এই কনসার্টের আয়োজন কোনো অপরাধ ছিল না’
- 📌 মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সাজাকে ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে
- 📌 খ্যাতিমান সংগীতজ্ঞ হোসেইন আলিজাদেহ আহমাদির হয়ে নিজ শরীরে দোররা নিতে রাজি
📰 বিস্তারিত
২৯ বছর বয়সী পারাস্তু আহমাদি ইরানের জনপ্রিয় নারী সংগীতশিল্পীদের একজন। তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত এক কনসার্টে হিজাব ছাড়া স্লিভলেস পোশাক পরে গান পরিবেশন করেছিলেন। সেই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে তা লাখ লাখ দর্শক দেখেন। ইরানি আইনে নারীদের প্রকাশ্যে গান গাওয়ার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং তাদের জন্য হিজাব ও শালীন পোশাক পরার কঠোর বিধান রয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরই ইরানের বিচার বিভাগ এটিকে ‘আইনি ও সাংস্কৃতিক বিধিমালার লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে।
গত জুনে কোম প্রদেশের একটি ফৌজদারি আদালত পারাস্তু আহমাদি এবং তাঁর ব্যান্ডের আট সদস্যকে ‘অশ্লীল কনটেন্ট প্রকাশের মাধ্যমে জনশালীনতা ভঙ্গের’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালত পারাস্তু আহমাদিকে ৭৪টি দোররা মারার পাশাপাশি দুই বছরের জন্য সব ধরনের অডিও-ভিজ্যুয়াল কাজ এবং দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে গত শুক্রবার কোনো শুনানি ছাড়াই তা খারিজ করে দেওয়া হয়।
পারাস্তু আহমাদির একজন আইনজীবী বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে এই কনসার্টের আয়োজন কোনো অপরাধ ছিল না। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানা বা লঘুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও বিচারিক আদালত সবচেয়ে কঠোর শাস্তিগুলোর একটি চাপিয়ে দিয়েছিলেন। আপিল আদালত কোনো শুনানি গ্রহণ করেননি এবং আগের রায়ই বহাল রেখেছেন। মনে হচ্ছে, ভবিষ্যতে যাতে কেউ এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটায়, সেই ভীতি তৈরি করতেই এই রায় দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে এই সাজার ঘটনায় ইরানজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। নির্বাসিত জনপ্রিয় ইরানি গায়িকা গুগুশ ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘এই অন্ধকার দিনগুলো শেষ হোক, নারীরা যেন তাঁদের জীবন ও পোশাকের স্বাধীনতা ফিরে পান।’ সংহতি প্রকাশ করে খ্যাতিমান সংগীতজ্ঞ হোসেইন আলিজাদেহ বলেন, তিনি পারাস্তু আহমাদির হয়ে নিজ শরীরে দোররা নিতে রাজি আছেন। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই সাজাকে ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির লঙ্ঘন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
"আমাদের দৃষ্টিতে এই কনসার্টের আয়োজন কোনো অপরাধ ছিল না। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানা বা লঘুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও বিচারিক আদালত সবচেয়ে কঠোর শাস্তিগুলোর একটি চাপিয়ে দিয়েছিলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান (কোম প্রদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পারাস্তু আহমাদি (২৯ বছর), হোসেইন আলিজাদেহ, গুগুশ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৪টি দোররা, ২ বছর, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!