📌 ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ধ্বংসাত্মক’ যুদ্ধের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন। তবে তিনি শান্তির সুযোগ হারানোর বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ ইরানের প্রস্তাবকে ‘কৌশলী চেষ্টা’ হিসেবে নিন্দা করেছেন
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ধ্বংসাত্মক’ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তবে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো কূটনৈতিক আলোচনা। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আরাগচি বলেছেন, ইরান যদি যুদ্ধের পথে যেতে বাধ্য হয়, তবে সেটি হবে ‘ধ্বংসাত্মক’ প্রকৃতির। তবে তিনি শান্তির সুযোগ হারানোর বিরুদ্ধে সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, কূটনীতির পথ খোলা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ধ্বংসাত্মক’ যুদ্ধের প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন, তবে কূটনৈতিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
- 📌 ইরান প্রস্তাব করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাদের শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হবে।
- 📌 মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ ইরানের প্রস্তাবকে ‘নিছক কৌশলী চেষ্টা’ হিসেবে নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের কারণে বিশ্বের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে।
- 📌 ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বয়ংক্রিয় সাবমেরিন জব্দ করার দাবি করেছে।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন এবং বলেছেন, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালানোর আশা করছেন।
📰 বিস্তারিত
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ধ্বংসাত্মক’ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তবে তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো কূটনৈতিক আলোচনা। তিনি বলেছেন, ‘আমরা কূটনীতিতে ফেরার কোনো কারণ নেই। আমি কূটনীতির চেষ্টা চালাব, কারণ শান্তির কোনো সুযোগ আমাদের হাতছাড়া করা উচিত নয়।’
আরাগচি গত শুক্রবার একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যদি ইরানের শর্ত মেনে নেয়, তাহলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় ফিরবে তেহরান। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি ইরানে আবার হামলা শুরু করার আশা করছেন।
মধ্যস্থতাকারীরা এখনো তেহরানের কাছে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব পৌঁছে দেননি। আরাগচি বলেছেন, ‘আলোচনা ছাড়া এ অচলাবস্থা কাটানোর আর কোনো পথ নেই।’
এনবিসি নিউজকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ বলেছেন, ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবটি ছিল ‘নিছক কৌশলী চেষ্টা’। তিনি বলেন, ‘ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কারণে যেন পুরো বিশ্ব জিম্মি হয়ে না পড়ে এবং বিশ্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) সব ধরনের পথ খোলা রাখবেন।’
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বয়ংক্রিয় সাবমেরিন জব্দ করার দাবি করেছে। এই ঘটনা ইরান-আমেরিকা সংঘাতকে আরো তীক্ষ্ণ করেছে।
"আমরা যেমন আলোচনা করতে প্রস্তুত, তেমনি যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুত... তবে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ় থাকব। এমনকি সেই সংঘাত যদি দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো যুদ্ধেও গড়ায়"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (জাতিসংঘ অধিবেশন), ওয়াশিংটন (মার্কিন প্রশাসন), হরমুজ প্রণালি, উপসাগরীয় অঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্বাস আরাগচি (ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী), ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট), মাইকেল ওয়াল্টজ (মার্কিন রাষ্ট্রদূত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ ফেব্রুয়ারি (ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের শুরু), ৭ দিন (হরমুজ প্রণালি খোলার সময়সীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!