📌 যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান জে ক্লেটন সতর্ক করেছেন, ইরান ও হুতি বিদ্রোহীরা মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে মার্কিন দূতাবাসে কর্মী সংখ্যা কমিয়ে নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবে হুতি হামলায় ১২ জন নিহত হয়
মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইরান ও ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান জে ক্লেটন সতর্কবার্তা জারি করেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন নাগরিক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশে চলছে। এই সতর্কতা জানানোর পরই ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে কর্মী সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান জে ক্লেটন স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছেন, ইরান ও হুতি বিদ্রোহীরা মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে।
- 📌 মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে (জর্ডান, লেবানন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত) মার্কিন দূতাবাসে কর্মী সংখ্যা কমিয়ে নেওয়া হয়েছে।
- 📌 সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১২ জন নিহত হয়।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের নিয়মিত গোয়েন্দা ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে।
- 📌 ইরানের সম্ভাব্য অপারেটিভদের সন্ধান চলছে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও।
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে জে ক্লেটন লিখেছেন, ইরান ও হুতি বিদ্রোহীরা মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের অন্যান্য দেশে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা চলছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এই প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে গোপনীয়তার মাত্রা কমিয়ে আনতে চাইছে। এর কিছুক্ষণ আগে, জর্ডান, লেবানন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোতে কর্মী সংখ্যা কমিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পিছনে ইরান ও হুতি বিদ্রোহীদের হুমকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা মূল্যায়ন করেছে, মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া হচ্ছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্লেষকরা মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকিসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করছেন।
ইরানের সম্ভাব্য অপারেটিভদের সন্ধান চলছে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও। ইউরোপের বিভিন্ন স্থানের নামও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, বিদেশে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা সীমিত। তিনি মনে করেন, ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর করার সামর্থ্য কম।
চলতি মাসেই, ইরানের হামলার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন বিমানবাহিনীর বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির মধ্যে, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের জরুরি নয় এমন কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয় ওয়াশিংটন। হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পাশাপাশি জেদ্দা ও ধাহরানের মার্কিন কনস্যুলেটের কর্মীদেরও এই নির্দেশের আওতায় রাখা হয়েছে।
"মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা ইরান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মধ্যপ্রাচ্য (জর্ডান, লেবানন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব), যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জে ক্লেটন (যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান), ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ জন (সৌদি আরবে নিহত), ২৩ অক্টোবর (স্মারকলিপি জারি করা তারিখ), ১০ অক্টোবর (রিয়াদ বিমানবন্দর হামলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!