📌 ইরানের ভূগর্ভস্থ 'মিসাইল সিটি'-গুলোতে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০টি কার্যকর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইরানের ৩০টিরও বেশি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তাবরিজ, খোররামাবাদ ও কেশম দ্বীপের দুর্গ
ইরানের সামরিক শক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে বর্তমানে কতটুকু ক্ষেপণাস্ত্র বাকি রয়েছে এবং এগুলো কোথায় অবস্থিত — তা নিয়ে গবেষক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক হামলার পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০টি কার্যকর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংখ্যা ২ হাজারের কমে এসেছে। আগে ধারণা করা হতো ৩ হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছিলো, কিন্তু ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী বাকি রয়েছে মাত্র ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০টি কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র।
- 📌 ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে চারটি সামরিক অভিযানে ইরান প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে।
- 📌 ইরানের ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি (মিসাইল সিটি) এখনও আংশিক বা পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা অক্ষত বা ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
- 📌 ইরান ‘ডিসেন্ট্রালাইজড মোজাইক ডিফেন্স’ কৌশল অনুসরণ করে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছড়িয়ে রাখা হয়। ফলে কেন্দ্রীয় কমান্ডে হামলা হলেও সামরিক ইউনিটগুলো কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
- 📌 ইরানের ৩০টিরও বেশি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো তাবরিজ মিসাইল বেস, খোররামাবাদ সাইলো কমপ্লেক্স, কেশম দ্বীপের ভূগর্ভস্থ দুর্গ, কেনেশ্ত ক্যানিয়ন আন্ডারগ্রাউন্ড বেস, ইসফাহান অ্যাসেম্বলি কমপ্লেক্স ও শাহরুদ স্পেস সেন্টার।
📰 বিস্তারিত
ইরানের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান অংশ হলো এর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশ রাখা হয় পাহাড়ের ভেতরে তৈরি ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে, যেগুলোকে ‘মিসাইল সিটি’ বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী ইরানের কাছে ৩ হাজারেরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিলো। তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক হামলার পর এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, ইরানের কাছে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিলো।
২০২৪ সাল থেকে চলমান বিভিন্ন সংঘাতে ইরান হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেছে। ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে চারটি সামরিক অভিযানে ইরান প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তবে বর্তমানে ইরানের কাছে কার্যকর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০টি পর্যন্ত। ইরানের ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এখনও আংশিক বা পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা অক্ষত বা ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ইরান ‘ডিসেন্ট্রালাইজড মোজাইক ডিফেন্স’ নামে একটি বিকেন্দ্রীভূত সামরিক কৌশল অনুসরণ করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছড়িয়ে রাখা হয়। ফলে কেন্দ্রীয় কমান্ড বা যোগাযোগব্যবস্থায় হামলা হলেও সামরিক ইউনিটগুলো কাজ চালিয়ে যেতে পারে। এছাড়া, ইরানের কাছে বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও নেই।
"ইরানের ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এখনও আংশিক বা পুরোপুরি চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা অক্ষত বা ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ (তাবরিজ, খোররামাবাদ, কেশম দ্বীপ, কেনেশ্ত ক্যানিয়ন, ইসফাহান, শাহরুদ, পারচিন, দেজফুল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইরানের সামরিক বাহিনী, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী, ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০টি কার্যকর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি কার্যকর, ৬০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা অক্ষত, ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!