📌 ইরান হুমকি দিয়েছে যে যেকোনো দেশ যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে ইরানীয় বিমান সংস্থার আন্তর্জাতিক উড়ান বন্ধ করে, তাহলে তাদের বিমানবন্দরকে অকার্যকর করে দেবে। ইরানীয় কর্তৃপক্ষের এই হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চলাচলের আরও বিঘ্ন ঘটতে পারে
ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা মেনে প্রতিবেশী দেশের বিমানবন্দরকে অকার্যকর করার হুমকি দিয়েছে। এই হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চলাচল আরও বিঘ্নিত হতে পারে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই “অভিযান” ব্যর্থতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই “অভিযান”-এ জড়িত না হওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরান হুমকি দিয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে যেকোনো দেশের বিমানবন্দর অকার্যকর করে দেবে।
- 📌 ইরানীয় বিমান সংস্থা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল করেছে।
- 📌 ইরানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মেনে যেকোনো দেশের বিমানবন্দর থেকে ইরানীয় বিমান চলাচল বন্ধ করলে, সেই বিমানবন্দর “অকার্যকর” হয়ে যাবে।
- 📌 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের ২৭টি বিমান সংস্থা ও তাদের সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
- 📌 ইরানীয় বিমান সংস্থাগুলির সাথে ব্যবসা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে ইরানীয় বিমান সংস্থাগুলির জন্য জ্বালানি, ল্যান্ডিং সেবা ও টিকিট বিক্রয় আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
📰 বিস্তারিত
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, “আমি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানে জড়িত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। এই অভিযান অবশ্যই ব্যর্থতার দিকে অগ্রসর হবে।” তিনি আরও বলেছেন, “যেকোনো দেশ যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জড়িত হয়, তাহলে তাদের বিমানবন্দর থেকে ইরানের বিমান চলাচল বন্ধ করার পরিণামে সেই বিমানবন্দর অকার্যকর হয়ে যাবে।”
ইরানের এই হুমকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিমান সংস্থাগুলিকে আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ করার প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এই মাসে ইরানের ২৭টি বিমান সংস্থা ও তাদের সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর মধ্যে ইরানের প্রধান বিমান সংস্থা মাহান এয়ারকে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, যেকোনো বিমানবন্দর বা প্রতিষ্ঠান যদি ইরানীয় বিমান সংস্থার সাথে ব্যবসা করে, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হবে।
ইরানের এই হুমকির ফলে ইতিমধ্যে ইরান-যুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সব বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানীয় ছাত্র সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, আজারবাইজান ও জর্জিয়া ইরানীয় বিমান চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাগদাদ ও মাস্কাটের বিমানবন্দরেও ইরানীয় বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, তুরস্ক ও চীন সহ কিছু দেশের সাথে ইরানীয় বিমান সংস্থাগুলি কিছু উড়ান চালিয়ে যাচ্ছে, তবে বেশ কয়েকটি উড়ানও বাতিল হয়েছে।
ইরান কীভাবে এই হুমকি কার্যকর করতে পারে? ইরান এখনও স্পষ্টভাবে বলেনি যে তারা কীভাবে প্রতিবেশী দেশের বিমানবন্দর অকার্যকর করবে। তবে ইরান ইতিমধ্যে দেখিয়েছে যে তারা যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে পারে। ইরানের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুতে তারা মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের বিমান চলাচলকে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত করেছিল।
"আমি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযানে জড়িত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। এই অভিযান অবশ্যই ব্যর্থতার দিকে অগ্রসর হবে।"
"যেকোনো দেশ যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জড়িত হয়, তাহলে তাদের বিমানবন্দর থেকে ইরানের বিমান চলাচল বন্ধ করার পরিণামে সেই বিমানবন্দর অকার্যকর হয়ে যাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মধ্যপ্রাচ্য (ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আজারবাইজান, জর্জিয়া, তুরস্ক, চীন, কাতার, সৌদি আরব, বাগদাদ, মাস্কাট)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহসেন রেজাই (ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব), মার্কিন অর্থ মন্ত্রী স্কট বেসেন্ট
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭টি ইরানীয় বিমান সংস্থা, ৩টি দেশের বিমানবন্দর বন্ধ (ইরান-যুক্ত আরব আমিরাত, আজারবাইজান, জর্জিয়া)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!