📌 ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালির সাবমেরিন কেবল কাটার হুমকি দিয়েছে। এএফই-১ কেবলসহ বিশ্বের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে এই হুমকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হুমকি বাস্তবায়নযোগ্য এবং হরমুজের অগভীর পানি হামলাকে সহজতর করছে।
হরমুজ প্রণালির তলদেশে বিস্তৃত সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল কাটার হুমকি দিয়েছে ইরান। বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা, আর্থিক লেনদেন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সাধারণ মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহারে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এই হুমকি। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এসব কেবলকে ‘বৈধ নতুন লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালির সাবমেরিন কেবল কাটার হুমকি দিয়েছে, যা বৈশ্বিক ব্যাংকিং ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলবে।
- 📌 জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাতটি বড় কেবল ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক তথ্যের প্রধান প্রবাহের অংশ।
- 📌 ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অষ্টম মাসে, ইরান ‘তৃতীয় ধাপ’ হিসেবে নতুন লক্ষ্যবস্তু ও অস্ত্রের পরিচয় দিতে পারে।
- 📌 ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের ওপর আবারও হামলা হতে পারে, যা কেবল কাটার হুমকিকে আরও বাস্তবায়নযোগ্য করে তুলবে।
- 📌 বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজের অগভীর পানি (১০০ মিটারেরও কম) এবং কেবলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হামলাকে সহজতর করছে।
- 📌 আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে সমুদ্রের তলদেশে ১০ লাখ মাইলেরও বেশি দীর্ঘ কেবল রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলগুলোর ওপর ইরানের হুমকি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বিপদে ফেলতে পারে। জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র, বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাতটি বড় কেবল গেছে। ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক তথ্যের সব প্রবাহই এসব কেবলের মধ্য দিয়ে যায়।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই যে নতুন লক্ষ্যবস্তু ও নতুন অস্ত্রের আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছে।’
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অষ্টম মাসে, পরিস্থিতি এমন একটি বিরতির পর্যায়ে রয়েছে, যার পর সংঘাতের সম্ভাব্য ‘তৃতীয় ধাপ’ শুরু হতে পারে। সেই পর্যায়ে ইরান যুদ্ধের একটি ‘নতুন ভৌগোলিক ক্ষেত্র’ এবং নতুন লক্ষ্যবস্তু পরিচয় দেবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের ওপর আবারও হামলা শুরু করা হতে পারে। এই হুমকির কারণে ইরানের কেবল কাটার হুমকি আরও বাস্তবায়নযোগ্য হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই হুমকি প্রযুক্তিগত দিক থেকে বাস্তবায়নযোগ্য। লন্ডনের কিংস কলেজের যুদ্ধ ও কৌশলবিষয়ক অধ্যাপক আলেসিও পাতালানো বলেছেন, ‘এই নকশার কারণে কেবলগুলো অনিবার্যভাবে সরু ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথের মধ্য দিয়ে চলে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পানির গভীরতা ১০০ মিটারেরও কম থাকে। হরমুজের অগভীর পানি হামলাকে সহজতর করছে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘এই কেবলগুলোর সঠিক অবস্থান জানা থাকলে, উন্নত সরঞ্জামসজ্জিত ডুবুরিরা সমুদ্রতলের গভীরে নেমে যেতে পারেন এবং সেগুলো কেটে দিতে বা ধ্বংস করতে পারেন।’
"হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাতটি বড় কেবল গেছে। ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক তথ্যের সব প্রবাহই এসব কেবলের মধ্য দিয়ে যায়। আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই যে নতুন লক্ষ্যবস্তু ও নতুন অস্ত্রের আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছে।"
ইরানের এক কর্মকর্তা টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ চলাকালে একাধিকবার এই কেবল কেটে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পুরো বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা এবং নতুন শত্রু তৈরি করার ঝুঁকি এড়াতে তেহরান এখন পর্যন্ত কেবলটিতে হামলার নির্দেশ দেয়নি। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ট্রাম্প যদি সংঘাত আরও বাড়িয়ে দেন, তাহলে কেবল কেটে দেওয়ার বিষয়টি ‘একটি বিকল্প হিসেবে থেকে যাবে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি, ডোনাল্ড ট্রাম্প, অধ্যাপক আলেসিও পাতালানো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ হাজার ৫০০ মাইল (এএফই-১ কেবলের দৈর্ঘ্য), ১০ লাখ মাইল (বিশ্বজুড়ে সাবমেরিন কেবলের মোট দৈর্ঘ্য), ১০০ মিটার (হরমুজের গভীরতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!