📌 ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানির বৃদ্ধির পিছনে গোপন টোল আদায়ের সন্দেহ উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানকে অর্থ প্রদান করছে নিরাপদ চলাচলের বিনিময়ে। তবে মার্কিন প্রশাসন এই দাবিকে নাকচ দিচ্ছে
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানির বৃদ্ধির পিছনে ইরানের গোপন টোল আদায়ের সন্দেহ উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানকে অর্থ প্রদান করছে নিরাপদ চলাচলের বিনিময়ে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে বাধা দিচ্ছে। তবে মার্কিন প্রশাসন এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিশেল ব্রোহার্ড (কেপলার) বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানকে টোল প্রদান করছে নিরাপদ তেল পরিবহনের বিনিময়ে।
- 📌 গত মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক ১৯ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে বেশি।
- 📌 ৪০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালি পাশ কাটিয়ে চলে যায়, বাকি ১৬ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানকে ছাড়া রপ্তানি হয়।
- 📌 মার্কিন প্রশাসন দাবি করে, ইরানকে কোনো টোল আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না।
- 📌 ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইতিমধ্যে প্রণালিতে ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করেছে বলে জানা গেছে।
📰 বিস্তারিত
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কিন্তু ইরান হামলা ও অবরোধের কারণে তেল রপ্তানিতে বাধা পড়ছিল। গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে তেল রপ্তানির পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। কেপলারের বিশ্লেষক মিশেল ব্রোহার্ড বলেছেন, এই বৃদ্ধির পিছনে ইরানকে অর্থ প্রদানের সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রোহার্ডের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে জাহাজ পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা টেকসই নয়। তাই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ইরানকে অর্থ প্রদান করছে নিরাপদ চলাচলের বিনিময়ে। তিনি বলেন, ‘একটি টোল বা মাশুল প্রদান করা হচ্ছে, যা জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে।’ তবে ব্রোহার্ডের এই দাবি প্রমাণভিত্তিক নয়, বরং এটি একটি অনুমান।
গত মার্চে শিপিং সংক্রান্ত সাময়িকী লয়েডস লিস্ট জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইতিমধ্যে প্রণালিতে ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে মার্কিন প্রশাসন দাবি করে, কোনো সম্ভাব্য চুক্তির অধীনে ইরানকে টোল আদায়ের সুযোগ দেওয়া হবে না।
মেরিন ট্র্যাকারদের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে দৈনিক তেল রপ্তানির পরিমাণ ১৮ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের রেকর্ডের চেয়ে বেশি। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এখন ৪০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালি পাশ কাটিয়ে চলে যায়। বাকি ১৬ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানকে ছাড়া রপ্তানি হয়।
"আমি এটাও ধারণা করছি, এই দেশগুলো জানে যে যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে জাহাজ পাহারা দেওয়ার এই ব্যবস্থাটি টেকসই নয়। তাই যুদ্ধ আবার পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই যতটা সম্ভব তেল বের করে নেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে।"
মিশেল ব্রোহার্ড (কেপলার)
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, মধ্যপ্রাচ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিশেল ব্রোহার্ড (কেপলার বিশ্লেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯-২২ মিলিয়ন ব্যারেল (দৈনিক তেল রপ্তানি), ৪০ শতাংশ (প্রণালি পাশ কাটিয়ে তেল), ১৬ মিলিয়ন ব্যারেল (ইরান ছাড়া তেল রপ্তানি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!