📌 ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘ্চি নিউইয়র্কে কাতার মধ্যস্থতাদের সাথে বৈঠকে হরমুজ নৌকোঠা পুনরায় খোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন। আমেরিকা ইরানের ন্যুক্লিয়ার প্রোগ্রামের বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে রাজি নয়। ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাবকে ‘অনুচিত’ ঘোষণা করেন
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘ্চি নিউইয়র্কে কাতার মধ্যস্থতাদের সাথে বৈঠকে হরমুজ নৌকোঠা পুনরায় খোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছেন। একই সাথে মার্কিন সরকার ইরানের ন্যুক্লিয়ার প্রোগ্রামের বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি নয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘ্চি বলেছেন, কাতার মধ্যস্থতারা আলোচিত বিষয়গুলো মার্কিন পক্ষকে তুলে ধরবেন এবং তিনি আশা করেন, মার্কিন সরকারের প্রতিক্রিয়া পেতে পারবেন শুক্রবার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হরমুজ নৌকোঠা পুনরায় খোলার প্রস্তাব: ইরান কাতার মধ্যস্থতাদের মাধ্যমে মার্কিন পক্ষকে জানিয়েছে, হরমুজ নৌকোঠা খোলার জন্য মার্কিন সরকারকে ইরানের জমা পড়া অর্থ মুক্ত করতে, সנקশন তুলে নিতে এবং ইরানের বন্দরগুলোর নৌব্লকেড শেষ করতে হবে।
- 📌 ৪ থেকে ৭ দিনের সময়সীমা: ইরানের দাবি, মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপগুলো সম্পন্ন হলে হরমুজ নৌকোঠা ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে পুনরায় খোলা যাবে এবং ৭ দিনের মধ্যে ন্যুক্লিয়ার চুক্তি আলোচনার জন্য আলোচনা শুরু হবে।
- 📌 ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করলেন প্রস্তাব: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরানের প্রস্তাবকে ‘অনুচিত’ ঘোষণা করেন।
- 📌 মার্কিন সরকারের অবস্থান: মার্কিন সরকার ইরানের ন্যুক্লিয়ার প্রোগ্রামের বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে রাজি নয়। মার্কিন সরকার ইরানের ন্যুক্লিয়ার বিষয়ে কিছুটা লচকশীল থাকলেও, আলোচনার সময়সূচী এবং পদক্ষেপের ক্রমে দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
- 📌 হরমুজ নৌকোঠার অবস্থা: ইরান হরমুজ নৌকোঠা বন্ধ করে দিয়েছে, যা বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই নৌকোঠা বন্ধের কারণে তেলের দাম ১০০ ডলার প্রতি ব্যারেলের উপরে উঠেছে।
- 📌 মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তা: মার্কিন সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ২০০০টি জাহাজের নিরাপদ পথ প্রদান করেছে এবং ১ বিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহনে সহায়তা করেছে।
📰 বিস্তারিত
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘ্চি বলেছেন, “আমরা আলোচনা করেছি এবং সমাধানের উপায় খুঁজতে চেষ্টা করেছি ইরানের শর্তপূরণের জন্য। তারা কিছু প্রস্তাব রেখেছে এবং আমরা আলোচনা করেছি যে তারা মার্কিন পক্ষকে এই বিষয়গুলো তুলে ধরবে।” আরাঘ্চি আরও বলেন, “তারা কিছু প্রস্তাব রেখেছে এবং আমরা আলোচনা করেছি যে তারা মার্কিন পক্ষকে এই বিষয়গুলো তুলে ধরবে। আমরা আশা করি, কাতার মধ্যস্থতারা আমাদের কাছে প্রতিক্রিয়া পৌঁছে দেবে।”
আরাঘ্চি জানান, এই আলোচনা কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান বার্তাবিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ইরান ২৯ শে সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সংযুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ সভায় তাদের প্রস্তাব ঘোষণা করেছিল। ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, মার্কিন সরকারকে ইরানের জমা পড়া অর্থ মুক্ত করতে, সকল সנקশন তুলে নিতে এবং ইরানের বন্দরগুলোর নৌব্লকেড শেষ করতে হবে। এই পদক্ষেপগুলো সম্পন্ন হলে হরমুজ নৌকোঠা ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে পুনরায় খোলা যাবে এবং ৭ দিনের মধ্যে ন্যুক্লিয়ার চুক্তি আলোচনার জন্য আলোচনা শুরু হবে।
মার্কিন সরকারের এক কর্মকর্তা আল জাজীরা-কে বলেন, আলোচনা ইতিমধ্যে চলছে এবং তা ‘স্বাগতযোগ্য ও নির্মাণমূলক’। তবে তিনি বলেন, ইরানের ন্যুক্লিয়ার প্রোগ্রামের বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে রাজি হবে না। মার্কিন সরকার ইরানের ন্যুক্লিয়ার বিষয়ে কিছুটা লচকশীল থাকলেও, আলোচনার সময়সূচী এবং পদক্ষেপের ক্রমে দুই পক্ষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
মার্কিন সরকারের কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান জুন মাসে স্বাক্ষরিত মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং ভঙ্গ করেছে। ইরান বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ করেছে। তবে ইরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে এবং বলেছে, মার্কিন সরকার লেবাননে ইসরায়েলের আক্রমণ বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং হরমুজ নৌকোঠার বিকল্প পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে।
"আমরা আলোচনা করেছি এবং সমাধানের উপায় খুঁজতে চেষ্টা করেছি ইরানের শর্তপূরণের জন্য। তারা কিছু প্রস্তাব রেখেছে এবং আমরা আলোচনা করেছি যে তারা মার্কিন পক্ষকে এই বিষয়গুলো তুলে ধরবে।"
"তারা কিছু প্রস্তাব রেখেছে এবং আমরা আলোচনা করেছি যে তারা মার্কিন পক্ষকে এই বিষয়গুলো তুলে ধরবে। আমরা আশা করি, কাতার মধ্যস্থতারা আমাদের কাছে প্রতিক্রিয়া পৌঁছে দেবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (ইউএস), নিউইয়র্ক সিটি (ইউএন সাধারণ সভা), ওয়াশিংটন (মার্কিন সরকার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আব্বাস আরাঘ্চি (ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী), ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট), মার্কিন সরকারের কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ শতাংশ (হরমুজ নৌকোঠার বিশ্ব তেল ও গ্যাস সরবরাহের অংশ), ১০০ ডলার (তেলের দাম প্রতি ব্যারেল), ৪ থেকে ৫ দিন (হরমুজ নৌকোঠা পুনরায় খোলার সময়সীমা), ৭ দিন (ন্যুক্লিয়ার আলোচনা শুরু করার সময়সীমা), ২০০০টি (মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপদ পথ প্রদান করা জাহাজ), ১ বিলিয়ন ব্যারেল (মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় পরিবহিত তেল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!