📌 ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জয়ের নিশ্চয়তা দিচ্ছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান বিশ্বাস করে, তাদের কৌশলগত প্রতিরোধ ও জনসমর্থন যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটতে বাধ্য করবে। ইরানের নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের মনোভাবও বদলে গেছে, যারা এখন মার্কিন হুমকিকে স্বদেশের প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখছে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের কৌশলগত প্রতিরোধের নীতি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে তাদের জয়ের নিশ্চয়তা দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের রেকর্ড ইরানের প্রতি তীব্র বোমা হামলা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে তাদের পতন ঘটানোর চেষ্টা সত্ত্বেও, ইরান বিশ্বাস করে যে তারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পরাস্ত করবে। ইরানের এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে তাদের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধ কৌশল এবং মার্কিন হামলার মুখে জনসমর্থনের বৃদ্ধি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরান বিশ্বাস করে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করবে এবং পারস্য উপসাগর থেকে তাদের বাহিনী তাড়িয়ে দেবে।
- 📌 মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত এবং জনগণ দারিদ্র্যের মুখে পড়েছে, কিন্তু ইরান কৌশলগতভাবে টিকে আছে এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রতিরোধ অব্যাহত রেখেছে।
- 📌 ইরানের প্রধান শহরগুলোতে খামেনির মৃত্যুর পর কট্টর সমর্থকদের মিছিল এবং সাধারণ ইরানিরা সরকারের পক্ষে রাজপথে নেমে আসার মাধ্যমে তাদের জাতীয়তাবাদী মনোভাবের জোয়ার দেখা দিয়েছে।
- 📌 মার্কিন হামলা ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা বিশ্বাস করে যে মার্কিন প্রশাসন তাদের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কিছুই চায় না।
- 📌 ৪৫ বছর বয়সী ভিন্নমতাবলম্বী আলী এবং ত্রিশোর্ধ্ব লেখক মহাসাও বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরার কথা এখন মিথ্যা বলে মনে হয়।
📰 বিস্তারিত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ কৌশলটি দীর্ঘমেয়াদী এবং কঠোর। মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা হামলা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, ইরান বিশ্বাস করে যে তারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করবে। ইরানের এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে তাদের কৌশলগত প্রতিরোধ কৌশল এবং জনসমর্থনের বৃদ্ধি। ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন যে, তারা দীর্ঘ সময় টিকে থাকার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক অসহনীয় কষ্টের মুখে ফেলবে, যার ফলে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত ইরানকে কোণঠাসা করার নীতি থেকে পিছু হটতে বাধ্য হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জনগণ দারিদ্র্যের মুখে পড়েছে। মাসের পর মাস মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে দেশটির শিল্প ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বেকারত্ব বেড়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যে নিপতিত হয়েছে। ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের কারণে মূল্যস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে। কিন্তু কৌশলগত দিক থেকে এই সংঘাত মার্কিন শিবিরের জন্য বিপর্যয়কর প্রমাণিত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, বিমান হামলা এবং ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার বহুমুখী পদক্ষেপগুলো ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে হাঁটু গেড়ে বসাতে বাধ্য করবে। কিন্তু তা হয়নি।
ইরানের প্রধান শহরগুলোতে খামেনির মৃত্যুর পর কট্টর সমর্থকদের মিছিল এবং সাধারণ ইরানিরা সরকারের পক্ষে রাজপথে নেমে আসার মাধ্যমে তাদের জাতীয়তাবাদী মনোভাবের জোয়ার দেখা দিয়েছে। এই ঘটনাগুলো ইরানের সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে জেল খাটা ৪৫ বছর বয়সী ভিন্নমতাবলম্বী আলী বলেছেন, ‘আমরা আমেরিকান প্রতিশ্রুতির ওপর অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু এই যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসন যা বলেছে ও করেছে, তাতে এটা পানির মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে যে আমেরিকানরা আমাদের একটা মিথ্যা গল্প বিক্রি করেছিল। তারা ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কিছুই চায় না, যা আমাদের কাছে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’
"আমরা আমেরিকান প্রতিশ্রুতির ওপর অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু এই যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসন যা বলেছে ও করেছে, তাতে এটা পানির মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে যে আমেরিকানরা আমাদের একটা মিথ্যা গল্প বিক্রি করেছিল। তারা ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কিছুই চায় না, যা আমাদের কাছে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।"
ত্রিশোর্ধ্ব লেখক ও চিত্রশিল্পী মহাসাও একই রকম অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এত দিন যে স্বাধীনতা, সম্মান ও গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছে, তার সবকিছুকেই এখন আমার কাছে ডাহা মিথ্যা বলে মনে হয়।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পারস্য উপসাগর, ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের সরকারি কর্মকর্তারা, আলী (৪৫ বছর বয়সী ভিন্নমতাবলম্বী), মহাসাও (লেখক ও চিত্রশিল্পী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৫ বছর (আলীর বয়স), ১৫ বছর (মার্কিন হামলার সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!