📌 ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন রণকৌশলে তারা মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করার পরিকল্পনা করছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত হামলা স্থগিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তির কারণে
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় রণকৌশল পরিবর্তন করেছে। দেশটির সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবার হামলা হলে ইরানের পাল্টা জবাব আগের তুলনায় আরও ব্যাপক ও অনিশ্চিত হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং সেনাবাহিনী তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরান ২০২৫ সালের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং ফেব্রুয়ারি মাসের ৪০ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন রণকৌশল গড়ে তুলেছে।
- 📌 নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় ইসরায়েল পর্যন্ত আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে, যা আগের তুলনায় দ্রুত সক্রিয় করা যাবে।
- 📌 ইরানের সামরিক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ সাদেক আলিজাদেহের দাবি, মিত্র দেশ থেকে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রতিরোধ করা কঠিন হবে।
- 📌 ইরানের সামরিক প্রধান আলী আবদোল্লাহের হুঁশিয়ারি, নতুন হামলায় ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে যা শনাক্ত করা সম্ভব নয়।
- 📌 ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পরিকল্পিত ১০ অক্টোবর থেকে হামলা স্থগিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তির কারণে।
- 📌 ইরানের আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি হরমুজ প্রণালির সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কেবলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
ইরানের সামরিক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ সাদেক আলিজাদেহ লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্য নিউ আরবকে বলেছেন, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধ এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪০ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে ইরানের রণকৌশল পরিবর্তন হয়েছে। তিনি জানান, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মহাকাশ ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছাড়া, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারের কিছু অস্ত্রের উন্নয়ন করেছে।
আলিজাদেহের মতে, কিছু ক্ষেপণাস্ত্রকে মডিউলার ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে, যা ইসরায়েল পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। নতুন ব্যবস্থায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র আরও দ্রুত সক্রিয় করা যাবে এবং রসদ সংক্রান্ত জটিলতা কমবে। উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যবহৃত জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রেও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হয়েছে। সাম্প্রতিক সামরিক মহড়াগুলোর উদ্দেশ্য ছিল এসব ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা পরীক্ষা করা।
ইরানের সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার হোসেইন কানানি মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, নতুন হামলায় ইরানের জবাব আগের সংঘাতগুলোর মতো সীমাবদ্ধ থাকবে না। তিনি বলেছেন, ইরানের অভিযান শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলি অবস্থানগুলোর লক্ষ্য করবে না, বরং আরও দূরের স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তিনি বিশেষভাবে ইসরায়েলের হাইফা ও তেল আবিব শহর এবং দিমোনা পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন।
ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আলী আবদোল্লাহিও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নতুন হামলায় ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করবে যা আগে কখনো মোতায়েন করা হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী তড়িৎচুম্বকীয় বোমা এবং ‘রাস্তাখিজ’ নামে পরিচিত একটি ক্ষেপণাস্ত্র। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
"আগের দুই যুদ্ধের তুলনায় ইরান আরও ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তবে পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করছি না।"
— মোহসেন রেজায়ি, ইরানের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন, হরমুজ প্রণালি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ সাদেক আলিজাদেহ, হোসেইন কানানি মোগাদ্দাম, আলী আবদোল্লাহ, মোহসেন রেজায়ি, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ দিন, ৪০ দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১০ অক্টোবর, ৩ নভেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!