📌 ইরানের পার্লামেন্ট মেহরদাদ আখলাঘিকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করার দায়িত্বে তিনি। ৬৮ বছর বয়সী এই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে
ইরানের পার্লামেন্ট গত রোববার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচিকে দায়িত্ব প্রদান করেছে। ৬৮ বছর বয়সী এই সামরিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের মনোনয়ন ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেহরদাদ আখলাঘি ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
- 📌 পার্লামেন্টে অনুমোদন পাওয়ার সময় ২৩৭ জন আইনপ্রণেতা ভোট দিয়েছেন তার পক্ষে, বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন মাত্র ১৫ জন।
- 📌 মজিদ ইবনে-রেজা এখন উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন।
- 📌 আখলাঘির বিশেষজ্ঞতা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, অ্যারোস্পেস প্রযুক্তি ও সামরিক পণ্য উৎপাদনে।
- 📌 মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের সামরিক শিল্প পুনর্গঠনের দায়িত্ব তার ওপর।
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আখলাঘি।
📰 বিস্তারিত
ইরানের পার্লামেন্টের অনলাইন অধিবেশনে মেহরদাদ আখলাঘিকে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে পার্লামেন্টের অধিবেশন অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই আক্রমণে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহসহ অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এরপর থেকে মজিদ ইবনে-রেজা সাময়িকভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। এখন তিনি উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
আখলাঘির প্রযুক্তিগত দক্ষতা ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কঠিন জ্বালানিচালিত রকেট ইঞ্জিন, অ্যারোস্পেস প্রযুক্তি ও সামরিক পণ্য উৎপাদনে বিশেষজ্ঞ। তিনি শাহিদ বাঘেরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপ, অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন ও ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আখলাঘির নাম রয়েছে।
ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট পত্রিকা ‘তাসনিম’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে ইরানের বেশ কিছু বড় ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র উন্নয়ন প্রকল্পে আখলাঘি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তিনি ইরানের বিখ্যাত ‘সেজিল’ ও ‘জুলফিকার’ সিরিজের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘আলমাস’ ক্ষেপণাস্ত্র ও গাইডেড বোমা ‘ইয়াসিন’ তৈরিতে বড় ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া তিনি সেমনানের ইমাম খোমেনি স্পেস সেন্টারের মহাকাশ যান ও গবেষণা রকেটের অবকাঠামো উন্নয়নেও কাজ করেছেন।
“ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কোনো দেশের ওপর আগ্রাসনকারী প্রথম পক্ষ হবে না। তবে যেকোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে দেশের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় শেষনিশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করবে।”
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে আখলাঘির ৪২ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন, আখলাঘির প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাগুলো আগেই দেশের শীর্ষ সামরিক কর্তৃপক্ষ, প্রেসিডেন্ট এবং পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির অনুমোদন পেয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক বলেছেন, আখলাঘির মনোনয়ন মূলত কৌশলগত অস্ত্র, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির গুণগত ও সংখ্যাগত বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র বারবার দাবি করে আসছে, তারা ইরানের সামরিক উৎপাদন সক্ষমতার বেশিরভাগ ধ্বংস করে দিয়েছে। তবে ইরানের দাবি, তাদের পর্যাপ্ত আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বহাল রয়েছে এবং যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়ে সেগুলো আরও উন্নত করা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আখলাঘি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামোতে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা ফেলার হুমকির জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি এবং সম্পূর্ণ নিশ্চিন্তে আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এখন চিন্তা করতে হবে, কীভাবে তিনি এই অঞ্চল থেকে তাঁর বাহিনীকে বহাল তবিয়তে ফিরিয়ে নেবেন। তিনি যদি এখানে একটি বোমাও ফেলেন, তবে তাঁর কতজন সেনাকে কফিনে করে ফেরত নিতে হবে, তা তিনি নিজেই দেখতে পাবেন।
আখলাঘি বলেন, যুদ্ধ চলাকালে ও যুদ্ধ-পরবর্তী সামরিক প্রয়োজন ভালোভাবে বোঝার জন্য তিনি আইআরজিসির প্রধান জেনারেল আহমেদ ওয়াহিদিসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে ইতিমধ্যে বৈঠক করেছেন। তাঁর অগ্রাধিকার থাকবে সামরিক শিল্পের দ্রুত বিকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উদীয়মান প্রযুক্তির সংযোজন এবং সশস্ত্র বাহিনীর কল্যাণ ও আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইরান (তেহরান), যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেহরদাদ আখলাঘি, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, আজিজ নাসিরজাদেহ, মজিদ ইবনে-রেজা, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৮ বছর বয়স, ২৩৭ জন আইনপ্রণেতা, ১৫ জন বিপক্ষে ভোট, ৪২ বছর অভিজ্ঞতা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!