📌 ইরান সরকার সামরিক মহড়ায় ৩ কোটি ১৬ লাখেরও বেশি নাগরিককে নিবন্ধিত করেছে। এই ‘জানফাদায়ে ইরান’ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধে বেসামরিক বাহিনীকে সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি ব্যবহার করা। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বাহিনীর ৩২ শতাংশ নারী এবং অধিকাংশের বয়স ৪৬ বছরের নিচে
ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব একটি অপ্রতিম জনসমাবেশের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিপুল পরিবর্তন আনে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর তেহরানে অনুষ্ঠিত ‘জানফাদায়ে ইরান’ (ইরানের জন্য আত্মত্যাগ) মহড়ায় অংশ নেন হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক। এই কর্মসূচি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী বাসিজের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়। এতে ৫ লাখেরও বেশি নাগরিক নিবন্ধিত হন, যার মধ্যে ৩ লাখ ১৩ হাজার জন অংশগ্রহণ করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানের ‘জানফাদায়ে ইরান’ কর্মসূচিতে ৩ কোটি ১৬ লাখেরও বেশি নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছে — যা সরকারকে বিস্মিত করেছে।
- 📌 এই বাহিনীর ৩২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী নারী এবং অধিকাংশের বয়স ৪৬ বছরের নিচে।
- 📌 কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধে বেসামরিক বাহিনীকে সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি ব্যবহার করা।
- 📌 দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর ও পারস্য উপসাগরের এলাকায় ইতিমধ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যবহার করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
- 📌 ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মোকাবেলায় এই বাহিনীকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
ইরানের ‘জানফাদায়ে ইরান’ কর্মসূচি ২০২৬ সালের মার্চে শুরু হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় চাপ পড়ে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইরানের সাধারণ নাগরিকদেরকে দেশের জন্য সেবা প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কর্মসূচির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে ৫ লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছেন এবং অন্তত ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেবেন। তবে নিবন্ধিতদের সংখ্যা ৩ কোটি ১৬ লাখেরও বেশি হয়ে গেছে, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।
ইরানের স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী ‘জানফাদায়ান-ই ইরান’ (ইরানের জন্য আত্মত্যাগকারীরা) নামে পরিচিত। এই বাহিনীর ৩২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী নারী এবং তাদের অধিকাংশের বয়স ৪৬ বছরের নিচে। কর্মসূচির মুখপাত্র সাসান জারে বলেছেন, এই বাহিনীকে ইরানের শহর ও জনপদ রক্ষায় ব্যবহার করা হবে, বিশেষ করে তেহরান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা মোকাবেলায় এই বাহিনীকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যাতে সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি বাইরের শত্রুর বিরুদ্ধে আক্রমণে মনোযোগ দিতে পারে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইরানের বেশ কয়েকটি শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর এই কর্মসূচির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। তেহরানের অভিযোগ ছিল, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এজেন্টরা এসব সহিংসতায় সক্রিয় ছিল। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদও ইরানিদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছিল। ইরানের উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সহযোগিতা নিয়ে তেহরানের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরানি পরিকল্পনাবিদদের কাছে এগুলো শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের অভিযানের অংশ বলে মনে করা হয়।
"আমি মনে করি, এই অভিযান বিশ্বের কাছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শক্তি, স্থিতিস্থাপকতা, জনপ্রিয়তা ও বৈধতার চিত্র তুলে ধরে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: তেহরান (ইরান), পারস্য উপসাগর, ইরানের দক্ষিণাঞ্চল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ, সাসান জারে, সাদ্দাম হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ কোটি ১৬ লাখ (নিবন্ধিত নাগরিক), ৩২ শতাংশ (নারী অংশগ্রহণকারী), ৪৬ বছরের নিচে (অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীর বয়স)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!