📌 ১ অক্টোবর ইরান দক্ষিণ লেবাননে পাঠায় উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল, যার মধ্যে ছিলেন আইআরজিসির জেনারেল হোসেইন ইয়েকতা ও কট্টরপন্থী নেতা আলিরেজা পানাহিয়ান। ইরান হিজবুল্লাহর সামরিক ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে, যেখানে বড় বাহিনী থেকে ছোট ইউনিটে রূপান্তর ঘটছে। সামরিক পরাশক্তি থেকে টিকে থাকার জন্য গেরিলা কৌশল ও ড্রোন হামলা বাড়ছে
১ অক্টোবর দক্ষিণ লেবাননে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে, যা হিজবুল্লাহর পুনর্গঠনের নতুন কৌশলকে চিহ্নিত করছে। এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন ইয়েকতা এবং কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা আলিরেজা পানাহিয়ান। উভয়েই ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির সঙ্গে একই ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সফর ইরানের উদ্বেগের সীমা প্রকাশ করে, যা হিজবুল্লাহর সামরিক ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের দিকে নির্দেশ করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১ অক্টোবর দক্ষিণ লেবাননে পাঠানো ইরানের প্রতিনিধিদলে ছিলেন আইআরজিসির জেনারেল হোসেইন ইয়েকতা ও কট্টরপন্থী নেতা আলিরেজা পানাহিয়ান, যারা ইরান-ইরাক যুদ্ধে খামেনির সঙ্গে একই ব্যাটালিয়নে ছিলেন।
- 📌 হিজবুল্লাহর সামরিক ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনে ইরানের নতুন কৌশল হলো বিকেন্দ্রীকৃত ছোট ইউনিট গঠন, যেখানে বড় বাহিনী ও কেন্দ্রীয় কমান্ডের পরিবর্তে গেরিলা কৌশল ও ড্রোন হামলা বাড়ছে।
- 📌 ২০২৬ সালের মার্চ-জুলাই মেয়াদে হিজবুল্লাহর সরাসরি সশস্ত্র সংঘর্ষের হার ১১% এ নেমে এসেছে, যা ২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মেয়াদে ছিল ৩৪%।
- 📌 ২৪% হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে আত্মঘাতী ড্রোন, যেখানে ২০২৪ সালে এ হার ছিল মাত্র ৬%। এছাড়া ২১% হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে ফাইবার-অপটিক ড্রোন।
- 📌 ইরান ১০০ জন কর্মকর্তা পাঠিয়ে হিজবুল্লাহর পুনর্গঠনে সহায়তা করছে, যারা পুনঃপ্রশিক্ষণ, অস্ত্রসজ্জা ও সংগঠনটির বিকেন্দ্রীকরণ তদারক করছে।
- 📌 ইরানের লক্ষ্য নেই হিজবুল্লাহকে পুরাতন সামরিক কাঠামোতে ফিরিয়ে আনতে, বরং টিকে থাকার সামর্থ্য তৈরি করা, যেখানে ইসরায়েলের কমান্ড নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ ও শীর্ষ নেতাদের হত্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
হিজবুল্লাহ সামরিকভাবে দুর্বল ও রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়ার পর ইরান নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এই কৌশলটি হিজবুল্লাহকে টিকে থাকার উপযোগী করে তুলতে চায়, যেখানে ইসরায়েলের বড় ধরনের অভিযান ও কমান্ড নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ হচ্ছে। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় খামেনির সঙ্গে একই ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালনকারী জেনারেল হোসেইন ইয়েকতা ও আলিরেজা পানাহিয়ানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পাঠানো হয়েছে, যা ইরানের উদ্বেগের সীমা প্রকাশ করে।
হিজবুল্লাহর সামরিক কৌশলেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত লেবাননে হিজবুল্লাহর সংঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাত্র ১১% ছিল সরাসরি সশস্ত্র সংঘর্ষ। এর আগের বছর (২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বর) এই হার ছিল ৩৪%। অন্যদিকে, আত্মঘাতী ড্রোন হামলার হার বেড়ে ২৪% হয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালে এ হার ছিল মাত্র ৬%। ফাইবার-অপটিক ড্রোন (এফপিভি) মোট হামলার ২১% এ ব্যবহৃত হয়েছে, যা ইরানের কৌশলগত পরিবর্তনের প্রমাণ।
ইরান হিজবুল্লাহর পুনর্গঠনে ১০০ জন কর্মকর্তা পাঠিয়েছে। তারা পুনঃপ্রশিক্ষণ, নতুন অস্ত্রসজ্জা ও সংগঠনটির বিকেন্দ্রীকরণ তদারক করছে। গোয়েন্দা অনুপ্রবেশ ও জ্যেষ্ঠ কমান্ডারদের হত্যার কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কমাতে সংগঠনটিকে ছোট ও স্বাধীন ইউনিটে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এই পরিবর্তন ইরানের লক্ষ্য বোঝায়—হিজবুল্লাহকে পুরাতন কাঠামোতে ফিরিয়ে আনতে নয়, বরং টিকে থাকার সামর্থ্য তৈরি করা।
"হিজবুল্লাহর সামরিক পরাশক্তি থেকে টিকে থাকার জন্য গেরিলা কৌশল ও ড্রোন হামলা বাড়ছে। বড় বাহিনী থেকে ছোট ইউনিটে রূপান্তর ঘটেছে, যা ইসরায়েলের বড় অভিযানের মুখোমুখি হলে সহজে ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দক্ষিণ লেবানন, ইরান, ইরাক, তেহরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেনারেল হোসেইন ইয়েকতা, আলিরেজা পানাহিয়ান, আয়াতুল্লাহ খামেনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ অক্টোবর, ১১%, ৩৪%, ৬%, ২৪%, ২১%, ১০০ জন কর্মকর্তা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!