📌 জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি পুনরাবৃত্তি করেছেন এবং জাতিসংঘের সংস্কার ও কার্যকর বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের পরীক্ষা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া তাদের পাশে থাকবে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সুগিওনো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক বিবেকের পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো।
- 📌 ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া তাদের পাশে থাকবে বলে ঘোষণা।
- 📌 গাজা ও পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ১৯৪৫ সালের পূর্বের বিশ্বের মতোই বলে মন্তব্য।
- 📌 জাতিসংঘ সংস্কারের দাবি তুলে ধরেছেন সুগিওনো, বলেছেন: "অসম্পূর্ণ বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা নয়, বরং আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা প্রয়োজন।"
- 📌 ২০২৯-৩০ মেয়াদে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য পদের জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রার্থিতা ঘোষণা।
- 📌 আসিয়ান, জি২০, ব্রিকস ও মিকতার মতো জোটের মাধ্যমে শান্তি ও ঐক্যের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি।
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো ফিলিস্তিনের অধিকার সংক্রান্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনের অধিকার লড়াই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিবেকের পরীক্ষা। তিনি উল্লেখ করেছেন, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রয়োজন। সুগিওনো বলেন, গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ১৯৪৫ সালের পূর্বের বিশ্বের মতোই, যখন জাতিসংঘের সনদ, মানবাধিকার ঘোষণা ও জেনেভা কনভেনশন কার্যকর ছিল না।
ইন্দোনেশিয়া নিজেও ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে বলে উল্লেখ করে সুগিওনো বলেছেন, দুর্বল আন্তর্জাতিক আইন ও শক্তিশালী পক্ষের ইচ্ছার প্রাধান্য সেই সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান তৈরি হয়েছে। তিনি জাতিসংঘের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন, একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর করতে হবে।
সুগিওনো ২০২৯-৩০ মেয়াদে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদে ইন্দোনেশিয়ার প্রার্থিতার কথাও ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইন্দোনেশিয়া ঐক্য জোরদার, শান্তি এগিয়ে নেওয়া, সংলাপ অব্যাহত রাখা এবং বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমঝোতা তৈরিতে কাজ করবে। তিনি আসিয়ান, জি২০, ডি-৮, ব্রিকস ও মিকতার মতো আন্তর্জাতিক জোটের মাধ্যমে এই নীতি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পথে থাকলেও ইন্দোনেশিয়ার প্রতিশ্রুতি শেষ হবে না বলে উল্লেখ করেছেন সুগিওনো। তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা নিয়ে বলেছেন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক শক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে জনগণকে কেন্দ্র করে ইন্দোনেশিয়ার স্থিতিশীলতা গড়ে তোলা হচ্ছে।
"ফিলিস্তিন শুধু একটি অঞ্চলের বিষয় নয়। এটি এমন একটি পরীক্ষা, যার মাধ্যমে বোঝা যাবে বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিজেদের প্রতিষ্ঠার সময় নির্ধারিত নীতিগুলো রক্ষা করতে পারে কি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, নিউ ইয়র্ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮১তম অধিবেশন, ২০২৯-৩০ মেয়াদ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!