📌 ফ্লোরেস দ্বীপে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৫১ জন নিহত ও ৪৬ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে খাবার, পানি ও আতঙ্কের সংগ্রাম চলছে। সরকারের অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধীরগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে
ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে ১৫ আগস্টের ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বেঁচে যাওয়া মানুষের জীবন আতঙ্ক ও অবহেলার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ছয় সপ্তাহ পরও বাড়ি ফিরতে পারছেন না তারা। নাগেকেও জেলার ৩৮ বছর বয়সী বাসিন্দা সাহরিয়া লেলু তার পরিবারের সাথে মসজিদের বাইরে তাঁবুতে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বাড়ি ফিরতে পারছি না। কারণ আমরা এখনো খুবই আতঙ্কিত।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৫ আগস্টের ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ফ্লোরেস দ্বীপে ১৫১ জন নিহত ও ৪৬ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে
- 📌 ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত, তবে পুরো এলাকায় বসবাসরত ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের অবস্থা অনিশ্চিত
- 📌 ভূমিকম্পের পর ১৫ হাজারাধিক পরাঘাতের কারণে বাসিন্দারা ঘরে ফিরতে আতঙ্কিত
- 📌 সরকারের ৩১৪টি অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের লক্ষ্য, তবে বাস্তবায়ন ধীরগতিতে চলছে
- 📌 খাবার ও পানি সংকটে পড়েছেন বাস্তুচ্যুতরা, অনেকের পানি সংরক্ষণ ট্যাংক ভেঙে গেছে
- 📌 ভূমিকম্পে সাহরিয়ার স্বামীর মেরামত দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবারের আয়ের উৎস বন্ধ
📰 বিস্তারিত
ফ্লোরেস দ্বীপের নাগেকেও জেলায় বাসিন্দা সাহরিয়া লেলু ও তার পরিবার মসজিদের বাইরে তাঁবুতে বসবাস করছেন। তিনি জানান, ‘আমাদের বাড়ি ফিরতে পারছি না। কারণ আমরা এখনো খুবই আতঙ্কিত।’ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে খাবার ও পানি সংকটের পাশাপাশি আতঙ্কের কারণে তারা ঘরে ফিরতে পারছেন না।
জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র বার্টন পাঞ্জাইতান জানান, ভূমিকম্পে ৪৬ হাজারাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। তবে সরকারের পূর্বে প্রকাশিত ১ লাখ ৫০ হাজার বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা থেকে এই সংখ্যা কম। তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ অনেক বাস্তুচ্যুত বাড়িতে ফিরে যাবার পরও তাঁবুতে বসবাস করছেন।
সিক্কা জেলার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাইরে বসে মারিয়া ওনসেলিয়া বলেন, ‘দুর্যোগের পর থেকে আমাদের খাবার ও পানি সংগ্রহে অসুবিধা হচ্ছে। এই মৌসুমে পানি পাওয়া কঠিন। চাল কেনার আগে আমাদের পানি কিনতে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছি। নতুন ভূমিকম্পে বাড়ি ধসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় আমরা ঘরে ফিরতে পারছি না।’
নাগেকেও জেলার উপপ্রধান গনজালো গ্রাতিয়ানুস মুগা সাদা জানান, সরকারের লক্ষ্য নভেম্বরের শেষ নাগাদ ৩১৪টি অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করা। তবে বাস্তবায়ন ধীরগতিতে চলছে। ভূমিকম্পে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের পরিবর্তে সরকার ২ হাজার ৪০০টির বেশি স্থায়ী আবাসন নির্মাণ করবে বলে জানানো হয়েছে।
ফ্লোরেসের উত্তরে পালুয়ে দ্বীপে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। দুর্যোগের পর থেকে সেখানকার বাসিন্দাদের খাবার ও পানি সংকটে পড়েছেন। তারা পানি কিনছেন এবং আগ্নেয় দ্বীপটির ভূ-তাপীয় উৎস থেকে বাঁশের নল ব্যবহার করে বাষ্প সংগ্রহ করছেন। ৪০ বছর বয়সী শিক্ষক মেথিলডুস নেস্টর লাঙ্গা বলেন, ‘আমাদের উদ্বেগের বিষয় হলো বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট। কারণ পুরো এলাকাই শুকিয়ে গেছে। পানির সব সংরক্ষণ ট্যাংক ভেঙে গেছে।’
"আমরা বাড়ি ফিরতে পারছি না। কারণ আমরা এখনো খুবই আতঙ্কিত।" — **সাহরিয়া লেলু**, নাগেকেও জেলার বাসিন্দা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্লোরেস দ্বীপ (নাগেকেও জেলা, সিক্কা জেলা, পালুয়ে দ্বীপ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাহরিয়া লেলু, বার্টন পাঞ্জাইতান, মারিয়া ওনসেলিয়া, মেথিলডুস নেস্টর লাঙ্গা, গনজালো গ্রাতিয়ানুস মুগা সাদা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭.৭ (ভূমিকম্পের মাত্রা), ১৫১ (মৃত্যু), ৪৬ হাজার (ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি), ২৮ হাজার (বাস্তুচ্যুত), ৩১৪ (অস্থায়ী আবাসন লক্ষ্য), ২ হাজার ৪০০ (স্থায়ী আবাসন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!