📌 ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হাজার হাজার প্রতিবাদী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সড়ক দখল করছেন। এই আন্দোলন দেশের ইতিহাসে একাধিকবার ক্ষমতাসীন সরকারকে হাতছাড়া করতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৬৫ সালের অহিংস আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭০-এর দশকের বিপ্লবী আহ্বান পর্যন্ত প্রতিবাদ ভারতের রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলেছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় এই সময় হাজার হাজার সশস্ত্র সৈনিক প্রতিবাদীদের অনুসরণ করছেন যারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) গ্যানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনী অশুদ্ধতার জন্য ব্যাপক সংস্কার চাইছেন। গত সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি রণনীতিগত লড়াই চলছে। মঙ্গলবার হাজারো প্রতিবাদী সড়ক দখল করে সিট-ইন করার চেষ্টা করছেন, যা পুলিশের সংখ্যা থেকে অনেক বেশি। এই আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় থাকার সর্বশেষ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষত যখন এই দলের প্রতিবাদীরা মাত্র তিন মাস আগে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিল। মোদি সরকার প্রতিবাদীদেরকে দেশের বিকাশে বাধা সৃষ্টিকারী বা এমনকি দেশ ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টাকারী হিসেবে চিত্রিত করছে। তবে ভারত, বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে ৭৯ বছরের প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে নিজের আধুনিক পরিচয় গড়ে তুলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **দিল্লিতে সিইসি পদত্যাগের দাবিতে** হাজারো প্রতিবাদী সড়ক দখল করে সিট-ইন করার চেষ্টা করছেন, পুলিশের সংখ্যা থেকে অনেক বেশি।
- 📌 **মোদি সরকারের বিরুদ্ধে** এই আন্দোলন সর্বশেষ চ্যালেঞ্জ, যখন মাত্র তিন মাস আগে শিক্ষামন্ত্রীও পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
- 📌 **ভারতের ইতিহাসে প্রতিবাদ** ১৯৬৫ সালের অহিংস আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭০-এর দশকের "সম্পূর্ণ বিপ্লব" আহ্বান পর্যন্ত ক্ষমতাসীন সরকারকে হাতছাড়া করতে সক্ষম হয়েছে।
- 📌 **১৯৬৫ সালের অহিংস আন্দোলন** তামিলনাড়ুর ছাত্র ও রাজনৈতিক দল DMK-এর নেতৃত্বে, হিন্দি ভাষাকে কেন্দ্রীয় সরকারের একমাত্র কর্মভাষা করার বিরুদ্ধে।
- 📌 **১৯৭০-এর দশকের JP আন্দোলন** সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতা জয়া প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে, "সম্পূর্ণ বিপ্লব" (সাম্পূর্ণ ক্রান্তি) আহ্বান করে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের বিরুদ্ধে।
📰 বিস্তারিত
ভারতের ইতিহাসে প্রতিবাদ আন্দোলন একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক জার্নালিস্ট রাশীদ কিদওয়াই আল জাজিরাকে বলেছেন, “সময় সময় সরকার প্রতিবাদকে প্রতিরোধ করেছে, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সেগুলোকে সমালোচনামূলকভাবে জড়িত হয়েছে। তবে প্রতিবাদ ভারতের গল্পের কেন্দ্রীয় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
১৯৬৫ সালের অহিংস আন্দোলন ছিল ভারতের সংবিধানে হিন্দি ভাষাকে কেন্দ্রীয় সরকারের একমাত্র কর্মভাষা করার বিরুদ্ধে। তৎকালীন মাদ্রাজ রাজ্য (বর্তমান তামিলনাড়ু) এর তামিল ভাষাভাষীদের ভয়ে এই আন্দোলন শুরু হয়। তারা ভয়ে ছিল যে, এই পদক্ষেপ তাদের সরকারি চাকুরী, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা এবং কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগে পিছিয়ে ফেলবে। ফেডারেল সরকারের জন্য একটি একক সরকারি ভাষা থাকা একত্রীকরণের একটি উপায় হিসেবে আকর্ষণীয় ছিল, কিন্তু ভারতের বহু প্রাচীন সমাজের জন্য এটি হিন্দি-ভাষী উত্তর ভারতের সাংস্কৃতিক আধিপত্যের ভয়ে পরিণত হয়।
তামিল ভাষার রাজনৈতিক দল ডিএমকে (Dravida Munnetra Kazhagam) এর নেতৃত্বে ছাত্র সংগঠনগুলি হিন্দি ভাষার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে। ১৯৬৫ সালের জানুয়ারিতে, ডিএমকে নেতা সি.এন. আনন্দরাইজকে অহিংস আন্দোলনের আগে গ্রেফতার করা হয়। এরপর দুজন তরুণ প্রতিবাদী নিজেদের জ্বালিয়ে ফেলেন এবং হিন্দি বই জ্বালিয়ে ফেলা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রি প্রতিবাদীদেরকে নিশ্চিত করেন যে, ইংরেজি ভাষা হিন্দির পাশাপাশি অব্যাহত থাকবে। এই আন্দোলনের ফলে ১৯৬৭ সালে ডিএমকে তামিলনাড়ুর রাজ্য নির্বাচনে জয়ী হয় এবং কংগ্রেস পার্টি রাজ্য থেকে দূরে সরে যায়। এটি ভারতীয় ফেডারেলিজম ও রাজ্য পরিচয়ের একটি সংজ্ঞাকর ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়।
১৯৭০-এর দশকের JP আন্দোলন (জয়া প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে) শুরু হয় গুজরাট ও বিহারের ছাত্রদের কর্পোরেট ও সরকারি অপচয়, মন্দা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে। এই আন্দোলন দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত হয় এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের বিরুদ্ধে একটি জাতীয় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়। ছাত্র, সিভিল সোসাইটি, ট্রেড ইউনিয়ন ও বিরোধী দলগুলি এই আন্দোলনে যোগ দেন। জয়া প্রকাশ নারায়ণ “সম্পূর্ণ বিপ্লব” (সাম্পূর্ণ ক্রান্তি) আহ্বান করেন, যা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য স্লোগান হয়ে দাঁড়ায়। এই আন্দোলন ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন ইন্দিরা গান্ধী কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় আতঙ্কের পটভূমি তৈরি করে।
"সম্পূর্ণ বিপ্লব" (সাম্পূর্ণ ক্রান্তি) আহ্বান করে জয়া প্রকাশ নারায়ণ এই আন্দোলনকে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: গ্যানেশ কুমার (সিইসি), নরেন্দ্র মোদি (প্রধানমন্ত্রী), জয়া প্রকাশ নারায়ণ, লাল বাহাদুর শাস্ত্রি, সি.এন. আনন্দরাইজ, রাশীদ কিদওয়াই
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৯ বছর (ভারতের প্রজাতন্ত্রের ইতিহাস), ১৫ বছর (হিন্দি ভাষা চালু করার সময়সীমা), ১০০ জন (প্রতিবাদী), ৬০% (আন্দোলনের সফলতা), ২৩ বছর (JP আন্দোলনের সময়কাল)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!