📌 অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজার ইসরায়েলের গণহত্যা অভিযানে ভারতের অস্ত্র রপ্তানি অবদান রেখেছে। দিল্লির শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পেলেট গানের ব্যবহারে ১০ জন আহত হবার পাশাপাশি কাশ্মীরে ২০১৬-১৯ সালে ১৮ জন নিহত ও ১৩৯ জন অন্ধ হয়ে পড়েন
গাজার গণহত্যা থেকে শুরু করে ভারতের নিজস্ব বিক্ষোভ দমনে পেলেট গানের ব্যবহার — এই বৈশ্বিক নৃশংসতার চক্রে ভারতের ভূমিকা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইসরায়েলের গণহত্যা অভিযানে ভারতের অস্ত্র রপ্তানি সরাসরি অবদান রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় পুলিশ বিক্ষোভ দমনে 'অপ্রাণঘাতী' পেলেট গান ব্যবহার করে বেসামরিক মানুষের জীবনকে চিরতরে ক্ষতবিক্ষত করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজার গণহত্যা অভিযানে ইসরায়েলের অস্ত্র সরবরাহে ভারতের ভূমিকা উঠে এসেছে — অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ইসরায়েলকে লাখো অস্ত্র উপাদান সরবরাহ করেছে।
- 📌 দিল্লির শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দমনে পুলিশ পেলেট গান ব্যবহার করে অন্তত ১০ জন বেসামরিক মানুষ আহত হন — তাদের মধ্যে একজন চিরতরে অন্ধ হতে পারে।
- 📌 কাশ্মীরে ২০১৬-১৯ সময়ে পেলেট গানের ব্যবহারে ১৮ জন নিহত, ১৩৯ জন অন্ধ, ২ হাজার ৯৪২ জন আহত হন — এর মধ্যে ১ হাজার ৪৫৯ জনের চোখে গুরুতর আঘাত লাগে।
- 📌 পেলেট গান হলো .12 বোর পাম্প অ্যাকশন শটগান — এক গুলিতে ৪০০+ ছোট পেলেট ১০০-১৫০ মিটার গতিতে ছড়িয়ে পড়ে, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া বেসামরিক মানুষকে আঘাত করে।
- 📌 ভারত সরকার পেলেট গানকে 'অপ্রাণঘাতী' বলে উপস্থাপন করলেও, বাস্তবে শত শত মানুষের জীবন চিরতরে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে — কিন্তু তেমন কোনো প্রতিবাদ দেখা যায়নি।
📰 বিস্তারিত
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় চলমান ইসরায়েলের 'চলমান গণহত্যা' অভিযানে ভারতের অস্ত্র রপ্তানি সরাসরি অবদান রেখেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে, এই রপ্তানি ইসরায়েলের নৃশংসতা বৃদ্ধিতে 'যথেষ্ট ঝুঁকি' তৈরি করছে। তবে ভারতের নিজস্ব নৃশংসতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ হলো পেলেট গানের ব্যবহার।
দিল্লির একটি বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ভারতীয় পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ পেলেট গান ব্যবহার করে। এতে অন্তত ১০ জন বেসামরিক মানুষ আহত হন — তাদের মধ্যে একজন তরুণ চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারাতে যাচ্ছেন। এই ঘটনা কাশ্মীরের মতোই নৃশংসতা প্রদর্শন করে, যেখানে ২০১৬ সালে সন্ত্রাসবাদী কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর ব্যাপক বিক্ষোভ দমনে পেলেট গান ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাশ্মীরে পেলেট গানের ব্যবহারে ১৮ জন নিহত হন, ১৩৯ জনের চোখে আঘাত লাগে এবং মোট ২ হাজার ৯৪২ জন আহত হন। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৫৯ জনের চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। পেলেট গান হলো .12 বোর পাম্প অ্যাকশন শটগান — সাধারণত পাখি শিকারে ব্যবহৃত এই অস্ত্র এক গুলিতে ৪০০+ ছোট পেলেট ছোড়ে, যা ১০০-১৫০ মিটার গতিতে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া বেসামরিক মানুষকে আঘাত করা হয়।
"এই অস্ত্র দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্য বেছে নিয়ে গুলি চালানো হয় না। নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে যে-ই থাকুক, তার গায়ে পেলেট লাগতে পারে। কাশ্মীরে পেলেটের কারণে যে বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত, এমনকি নিহতও হয়েছেন।" — অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিবেদন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি (বিক্ষোভ), কাশ্মীর (পেলেট গান ব্যবহারের প্রধান কেন্দ্র), গাজা (ইসরায়েলের গণহত্যা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিবেদনকারী, পুলিশ কর্মকর্তা, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী, বুরহান ওয়ানি (সন্ত্রাসবাদী কমান্ডার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ জন আহত (দিল্লি), ১৮ জন নিহত (কাশ্মীর), ১৩৯ জন অন্ধ (কাশ্মীর), ২ হাজার ৯৪২ জন আহত (কাশ্মীর), ১ হাজার ৪৫৯ জন চোখে আঘাত (কাশ্মীর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!