📌 ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির ও পাকিস্তান সম্পর্কের খোলামেলা সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন মোদি সরকারের জন্য রাজনৈতিক চাপের প্রতিক্রিয়া
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিউইয়র্কে এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির ও পাকিস্তান সম্পর্কের খোলামেলা সমালোচনা করেছেন। এই বক্তব্য ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে নবীন দিল্লি দীর্ঘদিনের নীরবতা ভাঙ্গছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন, যিনি দেশে চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সুর পরিবর্তন করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রথম খোলামেলা সমালোচনা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আত্মকেন্দ্রিক’ বাণিজ্য নীতির জন্য সমালোচনা করেছেন এবং পাকিস্তান সম্পর্ক উষ্ণ করার অভিযোগ তুলেছেন।
- 📌 বাণিজ্য ভারসাম্য: ২০২৫ সালে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৯১০ কোটি ডলার, কিন্তু ভারসাম্য ভারতের পক্ষে — আমদানি-রপ্তানির পার্থক্য ৫ হাজার ৮৪০ কোটি ডলার।
- 📌 মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপের শীতলতা: গত বুধবার মোদি ও ট্রাম্পের ফোনালাপকে ‘ফলপ্রসূ’ বলে উল্লেখ করলেও, মন্তব্যে উষ্ণতা ছিল না — আগের মতো ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়নি।
- 📌 বিশ্লেষকদের বিশ্লেষণ: চ্যাথাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ চিয়েতিগ বাজপেয়ি বলেছেন, “ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সেই উজ্জ্বল সম্পর্ক আর নেই। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ভারত সবচেয়ে আশাবাদী ছিল, কিন্তু বর্তমান অবস্থা সম্পূর্ণ আলাদা।”
- 📌 রাজনৈতিক চাপ: দেশে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নমনীয়তার অভিযোগ বাড়ছে, যা তার সমালোচনার পেছনে একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
📰 বিস্তারিত
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের শেষে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেছেন, “ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দিকে দূর থেকে তাকালে দেখি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বের অনেক দেশের আরও কঠিন সম্পর্ক রয়েছে। এটি বাস্তবতা, যদিও সান্ত্বনা দেওয়ার মতো নয়।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘আত্মকেন্দ্রিক’ বাণিজ্য নীতিকে সমালোচনা করে বলেন, “দেশগুলো নিজেদের জীবন কঠিন করে তোলার উদ্দেশ্যে এতটা আত্মকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়।”
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, ভারত দীর্ঘদিন ধরে নীরবতা অবলম্বন করত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের অনিশ্চয়তার মধ্যেই নবীন দিল্লি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছে। চ্যাথাম হাউসের গবেষক চিয়েতিগ বাজপেয়ি বলেন, “স্পষ্টতই দুই দেশের সম্পর্কের সেই উজ্জ্বলতা আর নেই। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ভারত সবচেয়ে আশাবাদী ছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা।”
বাণিজ্য বিষয়ক বিরোধের মধ্যে, ২০২৫ সালে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৯১০ কোটি ডলার। তবে ভারসাম্য ভারতের পক্ষে — আমদানি-রপ্তানির পার্থক্য ৫ হাজার ৮৪০ কোটি ডলার। জয়শঙ্কর বলেন, “দুই দেশের মাথাপিছু আয় ও উৎপাদনব্যবস্থার পার্থক্য রয়েছে, যা বাণিজ্য আলোচনার একটি বড় বাধা।”
"দেশগুলোর নিজেদের নিয়ে এতটা আত্মকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়, যাতে তারা নিজেদের জগতের মধ্যেই থাকবে, নিজেরাই সব সিদ্ধান্ত নেবে। এরপর বলবে, আপনাদের জীবন কঠিন করে তোলা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (জাতিসংঘ অধিবেশন), লন্ডন (চ্যাথাম হাউস), দিল্লি (ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এস জয়শঙ্কর (ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী), নরেন্দ্র মোদি (ভারতের প্রধানমন্ত্রী), ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট), চিয়েতিগ বাজপেয়ি (চ্যাথাম হাউস গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ হাজার ৯১০ কোটি ডলার (২০২৫ সালের ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য), ৫ হাজার ৮৪০ কোটি ডলার (বাণিজ্য ভারসাম্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!