📌 ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানদের অপরিসীম অবদান ও ত্যাগের কথা তুলে ধরেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নেহা বোরা। তিনি আরএসএসের ইতিহাস ও বর্তমান জাতীয়তাবাদী আচরণের সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, স্বাধীনতার ইতিহাসে মুসলমানদের অবদানকে উপেক্ষা করা হচ্ছে
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে মুসলমানদের অবদান ও ত্যাগকে কখনো উপেক্ষা করা যাবে না—এই মর্মে সতর্কবার্তা দিয়েছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসার) সভাপতি নেহা বোরা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বক্তব্যে বলেছেন, আজকাল মুসলমানদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং তাদেরকে ‘পাকিস্তানি’ আখ্যা দিয়ে জাতীয়তাবাদের পাঠ শেখানো হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেহা বোরা বলেছেন, স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকা (তিরঙ্গা) প্রথমবারের মতো তৈরি হয়েছিলো একটি মুসলিম দম্পতির হাতে, কিন্তু আরএসএসের লোকেরা তখনই প্রতিবাদ করেছিলো—তিন রঙের পতাকা হিন্দু সংস্কৃতিতে অশুভ বলে মনে করা হয়।
- 📌 তিনি দাবি করেছেন, স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানদের রক্তের অবদানকে আজকাল উপেক্ষা করা হয়, কিন্তু আরএসএসের লোকেরা নিজেদের পুলিশ সদর দফতরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি।
- 📌 আম্বেদকরের মূর্তি ভাঙা ও কালি মাখানো আরএসএসের পছন্দের কাজ, কিন্তু এই আম্বেদকরই স্বাধীন ভারতের সংবিধান রচনা করেছেন।
- 📌 নেহা বলেছেন, যারা গোরক্ষার নামে দলিতদের হত্যা করে, তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিতে হবে যে, স্বাধীনতার ইতিহাসে মুসলমানদের অবদান অনস্বীকার্য।
- 📌 তিনি আরএসএসের লোকদেরকে সতর্ক করেছেন, যখনই কাউকে ‘পাকিস্তানি’, ‘আইএসআইয়ের এজেন্ট’ বা ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলে আখ্যায়িত করা হয়, তখন তাদের নিজেদের ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দিতে হবে।
📰 বিস্তারিত
নেহা বোরা বলেছেন, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানদের অবদানকে আজকাল উপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, যখন স্বাধীন ভারতের জাতীয় পতাকা (তিরঙ্গা) প্রথমবারের মতো দিল্লিতে তৈরি হয়েছিলো, তখন আরএসএসের লোকেরা তাদের পত্রপত্রিকায় লিখেছিলো, হিন্দুরা কখনোই এই তিন রঙের পতাকা মেনে নেবে না। কারণ, হিন্দু সংস্কৃতিতে ‘তিন’ সংখ্যাকে অত্যন্ত অশুভ মনে করা হয়।
তিনি আরো বলেছেন, আজ যারা জাতীয়তাবাদ, ‘বন্দে মাতরম’ বা গোরক্ষার নামে মুসলমানদের পিটিয়ে হত্যা করে, তাদের মনে রাখা উচিত যে, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস আজও মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত। তিনি দাবি করেছেন, স্বাধীনতার অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ঝলকারি বাইয়ের মতো বিপ্লবীদের ঐতিহাসিক অবদানকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
নেহা বোরা বলেছেন, আরএসএসের লোকেরা নিজেদের পুলিশ সদর দফতরে ভারতের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেনি, কিন্তু আজ তারা দেশের তরুণদের শেখাচ্ছে কে দেশবিরোধী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন কথা বলা যাবে আর কোন কথা বলা যাবে না। তিনি বলেছেন, এই জাতীয়তাবাদী আচরণের ইতিহাসের কথা মনে রাখতে হবে যখনই কাউকে ‘পাকিস্তানি’, ‘আইএসআইয়ের এজেন্ট’ বা ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।
"আমাদের শেখানো হবে জাতীয়তাবাদ কী? তারাই জাতীয়তাবাদের নামে, গোরক্ষার নামে, ‘বন্দে মাতরম’-এর নামে এ দেশের সাধারণ তরুণদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবে?"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি (ভারত), ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নেহা বোরা (অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩ (তিরঙ্গার তিন রঙ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!