📌 ভারতের নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) মুখ্য কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিরোধী জোটের মধ্যে একতা সৃষ্টি হলেও দলীয় স্বার্থের কারণে সবাই একজোট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন বিরোধীদেরকে একত্রিত করেছে, কিন্তু কংগ্রেস, ডিএমকে, আপ ও অন্যান্য দলের অন্তর্লীন দ্বন্দ্ব এখনো সমাধান হয়নি
ভারতের নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ‘কর্তৃত্ববাদী’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’ আচরণের অভিযোগে মুখ্য কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা হচ্ছে। বিরোধী মহলে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘বিজেপির হাতের পুতুল’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। তাঁকে অপসারণের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র কমিশনারদের (সিইসি) অবস্থানও খারিজ করার দাবি উঠেছে। তবে বিরোধী জোটের মধ্যে একতা কতটা স্থায়ী, তা নিয়ে প্রশ্ন জাগছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জ্ঞানেশ কুমারকে ‘বিজেপির পুতুল’ বলে অভিহিত করেছে বিরোধী দলগুলো।** তাঁকে পদচ্যুত করার পাশাপাশি সিনিয়র কমিশনারদেরও অবস্থান খারিজ করার দাবি উঠেছে।
- 📌 **দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন বিরোধীদেরকে একত্রিত করেছে।** ১০ মাস ধরে দু’জন কমিশনার (সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি) কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানালেও তা অগ্রাহ্য করা হয়নি।
- 📌 **বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-এর বৈঠকে ২০টি দল অংশ নিয়েছে, কিন্তু অন্তর্লীন দ্বন্দ্বের কারণে একতা কতটা স্থায়ী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।** ডিএমকে, আপ ও তামিলনাড়ুর টিভি দলের অনুপস্থিতি সন্দেহের কারণ।
- 📌 **কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী ও তামিলনাড়ুর এম কে স্ট্যালিনের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে।** স্ট্যালিন বিজেপির বিরোধিতা করলেও ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে অংশ নেননি।
- 📌 **আম আদমি পার্টি (আপ) পাঞ্জাবের রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষার জন্য জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে মাঠে নামতে রাজি হননি।**
📰 বিস্তারিত
ভারতের নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ‘কর্তৃত্ববাদী’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’ আচরণের অভিযোগে মুখ্য কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা হচ্ছে। বিরোধী মহলে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘বিজেপির হাতের পুতুল’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। তাঁকে অপসারণের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র কমিশনারদের (সিইসি) অবস্থানও খারিজ করার দাবি উঠেছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাংবাদিক ঋতিকা চোপড়ার প্রতিবেদন বিরোধীদেরকে একত্রিত করেছে। তাঁর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১০ মাস ধরে দু’জন কমিশনার (সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি) কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানালেও তা অগ্রাহ্য করা হয়নি। জ্ঞানেশ কুমার এই অভিযোগ খণ্ডন করতে পারেননি। বরং কমিশনের পরবর্তী আচরণ প্রমাণ করেছে যে, প্রতিটি অভিযোগই নির্ভেজাল।
গত বুধবার ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে ২০টি দল অংশ নিয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে সবাইকে জোটবদ্ধ মনে হচ্ছে। তবে প্রশ্ন জাগছে জোট শরিক বিভিন্ন দল ও শক্তির অন্তর্লীন দ্বন্দ্ব নিয়ে। কংগ্রেসের মধ্যে যে তাগিদ অনুভূত, অন্য অনেকের মধ্যে তা কতটা সঞ্চারিত হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
বিশেষভাবে, তামিলনাড়ুর ডিএমকে দলের নেতা এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সম্পর্ক ভেঙ্গে গেছে। স্ট্যালিন বিজেপির বিরোধিতা করলেও ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে অংশ নেননি। তামিলনাড়ুতে টিভি দলের সমর্থনে কংগ্রেস সরকার গঠন করেছে, যা স্ট্যালিনের সাথে সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।
আম আদমি পার্টি (আপ) পাঞ্জাবের রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষার জন্য জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে মাঠে নামতে রাজি হননি। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের নেতারা জ্ঞানেশ কুমারকে নিত্য শূলেও চড়াচ্ছেন, কিন্তু পাঞ্জাবের রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে কংগ্রেসের পাশে দাঁড়াতে রাজি হননি।
"দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনই বিজেপি বিরোধীদেরকে নতুন করে জমাট বাঁধতে সাহায্য করেছে। যে অভিযোগ এত দিন পর্যন্ত খণ্ড খণ্ডভাবে উঠে আসছিল, ওই প্রতিবেদনের পর হঠাৎই সবাই সমস্বরে প্রতিবাদী হয়ে উঠলেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত (দিল্লি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জ্ঞানেশ কুমার, রাহুল গান্ধী, এম কে স্ট্যালিন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সুখবীর সিং সান্ধু, বিবেক যোশি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০টি দল (ইন্ডিয়া জোট), ১০ মাস (কমিশনারদের আপত্তি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!