📌 যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের অবৈধ কলসেন্টার থেকে বয়স্ক নাগরিকদের প্রতারণা চালানো হচ্ছে। ফেডারেল আদালত ভারতীয় নাগরিক ভবেশ কুমার ঠক্করকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৫ কোটি মার্কিন ডলারের চক্রের সাথে তার সংযোগ প্রমাণিত হয়। সিবিআই তদন্তে দেখা যায়, গুজরাটের কলসেন্টার থেকে ৭২ লাখ ডলারেরও বেশি প্রতারণা চালানো হয়েছিল
যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক নাগরিকদের প্রতারণার একটি বিশাল নেটওয়ার্কের পিছনে ভারতের অবৈধ কলসেন্টারগুলোর ভূমিকা সক্রিয়। ফোন কলের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব ঝুঁকিতে ফেলা বা পরিচয় চুরির সতর্কবার্তা দিয়ে প্রতারকরা নিজেদের সরকারি কর্মকর্তা বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বলে পরিচয় দেন। এই প্রতারণায় ভুক্তভোগীরা নিজেদের সঞ্চয় বা সোনা তুলে দিতে রাজি হয়ে পড়েন। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কর্তৃপক্ষের তদন্তে দেখা গেছে, এই চক্রের সাথে ভারতের কলসেন্টার, সংগঠক ও অর্থদাতাদের সরাসরি সংযোগ রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে ভারতীয় নাগরিক ভবেশ কুমার ঠক্করকে ১৫ কোটি মার্কিন ডলারের প্রতারণা চক্রে জড়িত থাকার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
- 📌 গুজরাটের আহমেদাবাদ থেকে পরিচালিত একটি কলসেন্টার নেটওয়ার্কে ৭২ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি প্রতারণা চালানো হয়েছিল।
- 📌 ২০২৫ সালের মহারাষ্ট্রের ইগতপুরী অভিযানে ৬২ জন কর্মী নিয়ে একটি ভুয়া অ্যামাজন সহায়তা কার্যক্রমের সন্ধান পায় সিবিআই।
- 📌 কলসেন্টার মডেলে ভারতের বৈধ আউটসোর্সিং শিল্পের দক্ষতা অপরাধীদের দ্বারা অপব্যবহার করা হয়।
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা চালানো হয় এবং অর্থ পাচারের জন্য ভারত থেকে নির্দেশনা দেওয়া হতো।
📰 বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে এক ফেডারেল জুরি ভারতীয় নাগরিক ভবেশ কুমার ঠক্করকে তারবার্তা জালিয়াতি ও অর্থ পাচারসংক্রান্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঠক্কর ভারতের কলসেন্টারভিত্তিক প্রতারকদের সাথে কাজ করতেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক নাগরিকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও সোনা হাতিয়ে নিতেন। লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্ক হয়ে এই অর্থ বিদেশে পাচার করা হতো। তথ্য প্রমাণে দেখা যায়, ঠক্করের সাথে ১৫ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি প্রতারণালব্ধ অর্থের সরাসরি যোগসূত্র ছিল।
সিবিআই তদন্তে দেখা যায়, গুজরাটের আহমেদাবাদে একটি অবৈধ কলসেন্টার নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছিল। কলকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্মকর্তা সেজে ভুক্তভোগীদের বলতেন যে, তাদের পরিচয় শিশু যৌন নির্যাতনের উপকরণে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ভিত্তিতে ভুক্তভোগীদের টাকা তুলতে, সোনা কিনতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে কুরিয়ারের হাতে তা তুলে দিতে প্ররোচিত করা হতো। সিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতারণায় ক্ষতির পরিমাণ ৭২ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি।
২০২৫ সালের আগস্টে মহারাষ্ট্রের ইগতপুরীতে সিবিআই একটি অভিযান পরিচালনা করে। একটি ভাড়া নেওয়া স্থানে ভুয়া অ্যামাজন সহায়তা কার্যক্রমের সন্ধান পায় তারা। অভিযানের সময় সেখানে ৬২ জন কর্মী কাজ করছিলেন। জব্দ করা হয় ৪৪টি ল্যাপটপ ও ৭১টি মুঠোফোন। কল দেওয়া, তথ্য যাচাই এবং অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করার মতো দায়িত্ব কর্মীদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া ছিল। এই অভিযান থেকে দেখা যায়, ভারতের কলসেন্টার মডেলটি কীভাবে অপরাধীদের দ্বারা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
২০২০ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের আদালত আহমেদাবাদভিত্তিক কলসেন্টার পরিচালনাকারী হিতেশ মধুভাই প্যাটেলকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। প্যাটেল স্বীকার করেন যে, তিনি ভারতের একাধিক কলসেন্টার পরিচালনা ও অর্থায়ন করতেন। এই কলসেন্টারগুলোর মধ্যে এইচগ্লোবালও ছিল। কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের কর ও অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তা সেজে কথা বলতেন এবং অর্থ পাচারের জন্য নির্দেশনা দিতেন।
"ভারতের কলসেন্টারভিত্তিক প্রতারকরা বয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও সোনা হাতিয়ে নিতেন। লস অ্যাঞ্জেলেস ও নিউইয়র্ক হয়ে অর্থ বিদেশে পাচার করা হতো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (টেক্সাস, লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক), ভারত (গুজরাট, আহমেদাবাদ, মহারাষ্ট্র, ইগতপুরী)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভবেশ কুমার ঠক্কর, হিতেশ মধুভাই প্যাটেল, সিবিআই তদন্তকারীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৫ কোটি মার্কিন ডলার, ৭২ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার, ৬২ জন কর্মী, ৪৪টি ল্যাপটপ, ৭১টি মুঠোফোন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!