📌 ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি দামের বৃদ্ধি এবং এল নিনোর কারণে বিশ্বে বড় খাদ্যসংকটের সম্ভাবনা রয়েছে। বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জাপানও স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি ২০ গুণ বাড়িয়েছে
বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের আশঙ্কা জোরদার করেছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি তেলের দামের ১৪ শতাংশের বৃদ্ধি এবং রেকর্ড ভাঙা এল নিনোর কারণে আগামী মাসগুলোতে বিশ্বে বড় ধরনের খাদ্যসংকটের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক দক্ষিণের কম উন্নত দেশগুলো এই সংকটের সবচেয়ে বেশি শিকার হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক দক্ষিণের অর্থনীতিতে ‘ধ্বংসাত্মক প্রভাব’ ফেলেছে এবং জ্বালানি, খাদ্য ও সারের দামে চাপ বাড়ছে
- 📌 ব্রেন্ট ক্রুডের দাম চলতি মাসে ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় মাসিক বৃদ্ধি
- 📌 ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন, যা তেল বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে
- 📌 সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পরে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়েছে
- 📌 রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ডিজেল রপ্তানি গত বছরের তুলনায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে
- 📌 শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা এবারের এল নিনোর কারণে বৈশ্বিক দক্ষিণে অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে
- 📌 জাপান স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি ২০ গুণ বাড়িয়েছে, যা ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে
📰 বিস্তারিত
নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেছেন, ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক দক্ষিণের অর্থনীতিতে ‘ধ্বংসাত্মক প্রভাব’ ফেলেছে। একই সময়ে জ্বালানি, খাদ্য, সার ও অর্থ—সব ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, জ্বালানি সংকটের সঙ্গে খাদ্য ও সারের সংকট যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। যুদ্ধের সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বাজারে অর্থ সরিয়ে নেওয়ায় বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো আর্থিক চাপেও পড়ে গেছে।
জয়শঙ্করের সতর্কবার্তার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম চলতি মাসে প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জুলাইয়ের পর সবচেয়ে বড় মাসিক বৃদ্ধি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য যে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না, তা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এদিকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন চলতি মাসের শুরুতে ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রিয়াদ এই হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। তবে পরে পাইপলাইনটি প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়েছে।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা এবং দেশটির ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে ইউরোপে ডিজেলের বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে রাশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সম্মিলিত ডিজেল রপ্তানি গত বছরের তুলনায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে। খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বাড়ছে। জয়শঙ্কর বলেন, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে শস্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম ও অন্যান্য শস্য সরবরাহকারী অঞ্চল থেকে খাদ্যশস্যের জোগান কমে যেতে পারে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর অঞ্চলটির শস্য রপ্তানি বারবার ব্যাহত হয়েছে।
সারের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় অবস্থিত। চলমান সংঘাতের কারণে এসব অঞ্চলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হলে কৃষি উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শক্তিশালী এল নিনো। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতার সঙ্গে সম্পর্কিত এই প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। জয়শঙ্করের ভাষায়, এবারের ‘সুপার এল নিনো’র সঙ্গে মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের বিশ্লেষণে এবারের এল নিনোর কারণে বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোতে অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।
"কোনো দেশের সিদ্ধান্ত শুধু তার নিজের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না; বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ে। তাই নীতিনির্ধারকদের অন্য দেশগুলোর ওপর নিজেদের সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য পরিণতিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।"
এই সকল ঘটনার পাশাপাশি জাপানও স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি ২০ গুণ বাড়িয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে এখন দুই লাখ ইয়েন দিতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নিউইয়র্ক (এশিয়া সোসাইটি অনুষ্ঠান), মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরান, বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ শতাংশ (জ্বালানি দামের বৃদ্ধি), ২০ গুণ (জাপানের আবেদন ফি বৃদ্ধি), ১ অক্টোবর (নতুন নিয়ম কার্যকর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!