📌 ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মৌখিকভাবে জানিয়েছে, বন্দে মাতরমের পুরো গান না গাওয়ার শাস্তি হবে না। বিবেকের কারণে গান না গাওয়ার অধিকার রক্ষা করবে আদালত। সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে আইনজীবীরা দাবি করেছেন, পুরো গান গাওয়ার বাধ্য করা ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, বিবেকের কারণে ‘বন্দে মাতরম’ গান না গাওয়ার শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের এই পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জাতীয় গানের পুরো স্তবক গাওয়ার বাধ্যতা নেই। তবে সরকারের নতুন সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে আইনজীবীরা দাবি করেছেন, পুরো গান গাওয়ার বাধ্য করা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের বিরুদ্ধে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য: বিবেকের কারণে ‘বন্দে মাতরম’ না গাওয়ার শাস্তি হবে না, আদালত তা রক্ষা করবে
- 📌 বন্দে মাতরমের ইতিহাস: ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস নেতারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে পরামর্শ নেন, শেষ চার স্তবকে হিন্দু দেবী (দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী, সরস্বতী) উল্লেখ থাকায় প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার প্রথা চালু হয়
- 📌 সংশোধনী বিলের বিরোধিতা: আইনজীবী এস মুরলীধর বলেন, পুরো গান গাওয়ার বাধ্য করা ‘নকশালপন্থী চিন্তা’র বিরুদ্ধে, ধর্মনিরপেক্ষতার লঙ্ঘন
- 📌 কংগ্রেসের প্রথা: ১৯৩৭ সাল থেকে কংগ্রেস নেতারা বন্দে মাতরমের প্রথম দুটি স্তবক গেয়ে থেমে যান, পুরো গান না গাওয়ার দাবি ত্যাগ করেনি
- 📌 সুপ্রিম কোর্টের রেফারেন্স: ১৯৮৬ সালের বিজোই ইমানুয়েল মামলায়, ধর্মীয় কারণে জাতীয় সংগীত না গাওয়ার অধিকার রক্ষা করা হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর মঙ্গলবার মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, ‘বন্দে মাতরম’ গান না গাওয়ার শাস্তি হবে না। তিনি বলেন, কোনো নাগরিক যদি বিবেকের কারণে পুরো গানটি গাইতে অস্বীকার করেন, তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ১৯৮৬ সালের বিজোই ইমানুয়েল মামলার উল্লেখ করে বলেন, ধর্মীয় কারণে জাতীয় সংগীত না গাওয়ার অধিকার রক্ষা করা হয়েছে। সেই রায় অনুযায়ী, বন্দে মাতরমের পুরো গান না গাওয়ার ক্ষেত্রেও শাস্তি প্রযোজ্য হবে না।
সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে কর্ণাটকী সংগীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণের আইনজীবী এস মুরলীধর সরকারের সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, বন্দে মাতরমের শেষ চার স্তবকে হিন্দু দেবীদের উল্লেখ থাকায় পুরো গান গাওয়ার বাধ্য করা ধর্মনিরপেক্ষতার লঙ্ঘন। তিনি দাবি করেন, সরকারের এই পদক্ষেপ ‘নকশালপন্থী চিন্তা’র বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনচেতা মানুষের অধিকারকে লঙ্ঘন করছে।
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সরকারের পক্ষে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়ন হয় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি মুরলীধরের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন। তবে বিচারপতিরা উভয় পক্ষের মন্তব্যগুলো নথিভুক্ত করবেন না।
সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের অভিমত জানাতে বলেছে। তবে এই বিষয়ে সরকারকে নোটিশ দেওয়া হয়নি।
"জাতীয় গানের সংজ্ঞা নিরূপণ করা আদালতের এখতিয়ার নয়। তবে কোনো নাগরিক যদি বিবেকজনিত কারণে পুরো গানটি গাইতে না চান অথবা তাঁকে যাতে তা গাইতে বাধ্য করা না হয়, আদালত তা খতিয়ে দেখতে পারে।"
১৯৩৭ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে পরামর্শ নেন। কারণ, কংগ্রেসের মুসলিম নেতারা বন্দে মাতরমের শেষ চার স্তবকে হিন্দু দেবীদের উল্লেখ থাকায় পুরো গান না গাওয়ার দাবি ত্যাগ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার পরামর্শ দেন। সেই প্রথা কংগ্রেস আজও চালিয়ে যাচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, কর্ণাটক বিধানসভা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর, টি এম কৃষ্ণ, এস মুরলীধর, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মৌলানা আজাদ, বল্লভভাই প্যাটেল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ (বন্দে মাতরমের স্তবকের সংখ্যা), ৩ (সর্বোচ্চ জেলের বছর), ১৯৩৭ (প্রথা শুরু), ১৯৮৬ (বিজোই ইমানুয়েল মামলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!