📌 ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেননি। তারা চারটি প্রধান দাবি তুলে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি পেশ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার সংশোধন স্থগিত করা
ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠকের পর দাবি করেছেন, নির্বাচনে কারচুপির প্রমাণ শুনে রাষ্ট্রপতি তা অস্বীকার করেননি। বরং তিনি প্রমাণ চেয়েছেন। এই অবস্থানে বিস্মিত হয়ে রাহুল বলেছেন, ‘নির্বাচনে কীভাবে চুরি করা হয়েছে, তার সব প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। গোটা দেশ তা দেখেছে’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু** নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ শুনে প্রমাণ চেয়েছেন, যা রাহুল গান্ধীকে বিস্মিত করেছে।
- 📌 **১০ জন বিরোধী নেতা** রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, অন্যরা ‘জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ!’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করেছেন।
- 📌 **চারটি প্রধান দাবি** তুলে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে: ১) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, ২) ভোটার তালিকার সংশোধন স্থগিত, ৩) কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনা, ৪) ভোট চুরির প্রমাণে বাতিল নির্বাচন।
- 📌 **১৩ কোটি ৩০ লাখ** ভোটারের নাম পুনর্বহাল করার দাবি করা হয়েছে, যারা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
- 📌 **বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে** যোগসাজশের অভিযোগ তুলে বিরোধীরা স্লোগান দিয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
ভারতের বিরোধীদের জোট ‘ইন্ডিয়া’-এর নেতা রাহুল গান্ধী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠকের পর জানিয়েছেন, নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ শুনে রাষ্ট্রপতি তা অস্বীকার করেননি। বরং তিনি প্রমাণ চেয়েছেন। রাহুলের এই কথা রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচ করা হয়েছে। তারা বলেছেন, ‘এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা দুর্ভাগ্যজনক’।
বৈঠকের পর রাহুল জানান, আগামী সোমবার বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন এবং প্রধান বিচারপতির হাতে স্মারকলিপি তুলে দেবেন। এর আগে রাহুলের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশে মিছিল করেছেন। প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।
স্মারকলিপিতে চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরেছেন বিরোধীরা:
"১. প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের সেই আইন বাতিল, যে আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন দায়মুক্তির সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। ২. ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) অবিলম্বে স্থগিত করা এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহাল করা। ৩. সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনা। ৪. গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে বিরোধীরা দাবি করছেন, সেসব নির্বাচন বাতিল করা।"
বৈঠকে অংশ নেওয়া ১০ জন বিরোধী নেতার পাশাপাশি অন্যরা ‘জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ!’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনের পথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগ তুলে স্লোগান দিয়েছেন। বিরোধীরা দাবি করেছেন, নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির দপ্তরকে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে এনেছে। তিনি বলেছেন, ‘এটা একেবারেই স্পষ্ট যে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া এবং তা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাই কংগ্রেসের একমাত্র উদ্দেশ্য’।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবন, নিউ দিল্লি
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাহুল গান্ধী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, জ্ঞানেশ কুমার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ কোটি ৩০ লাখ (ভোটার), ১০ জন (বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নেতা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!