📌 ভারতের নির্বাচন কমিশন বিরোধী আন্দোলনে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে গেরিলা কায়দায় যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টায় দিল্লি পুলিশ পাঁজাকোলা করে আটক করে। পুলিশের মুখোমুখি হলে তারা মাটিতে শুয়ে ও বসে পড়েন। এফআইআর করা হয়েছে চার ডজনেরও বেশি
ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চে বিরোধী জোটের নেতারা গেরিলা কায়দায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। দিল্লির কন্ট প্লেস থেকে যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টায় রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে পুলিশ পাঁজাকোলা করে বাসে তুলে নিয়ে গেল। পুলিশের মুখোমুখি হলে রাহুল মাটিতে শুয়ে পড়েন এবং প্রিয়াঙ্কা বসে পড়েন। এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশ একগাদা এফআইআর করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দিল্লি পুলিশের মুখোমুখি হলে রাহুল গান্ধী মাটিতে শুয়ে পড়েন এবং প্রিয়াঙ্কা বসে পড়েন — পাঁজাকোলা করে বাসে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ
- 📌 ৯ ঘণ্টা আগে আকাশবাণী ভবনে আটক হওয়ার পর রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল — আজ বুধবার আবার আটক হয়
- 📌 বিরোধী নেতারা গেরিলা কায়দায় যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন — পুলিশের প্রতিরোধে বাস থেমে যায়, নেতারা হেঁটে যেতে থাকেন
- 📌 রাহুল বলেন, জ্ঞানেশ কুমার অবৈধ, মোদির নির্দেশে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে — ইস্তফা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে
- 📌 ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তর অভিযানের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি — বামপন্থী ছাত্রসংগঠনসমূহ সমর্থন জানিয়েছে
- 📌 জ্ঞানেশ কুমার ছত্তিশগড় সফর বাতিল করলেন — নির্বাচন কমিশন পরিচ্ছন্ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা
📰 বিস্তারিত
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও নির্বাচন সংক্রান্ত নির্দেশনা (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে বিরোধী জোটের নেতারা আজ বুধবার দিল্লিতে গেরিলা কায়দায় যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলেন। দুপুরে কন্ট প্লেসের কাছে রেস্তোরাঁয়ে বিরোধী নেতাদের মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণ জানান কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেখান থেকে যন্তর মন্তর বড়জোর এক কিলোমিটার দূরে। পুলিশের কাছে এই অভিযানের খবর ছিল না। তাই জমায়েতের খবর পেয়ে পুলিশ জনপথ ঘিরে ফেলে।
নির্দিষ্ট সময়ে বিরোধী নেতারা একে একে সেখানে জড়ো হন। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের ডেরেক ও’ব্রায়ান, মহুয়া মৈত্র, সিপিএম, আরজেডি, এনসিপি সহ অন্য বিরোধী নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মধ্যাহ্নভোজের আসরে তারা যন্তর মন্তরে ধরনা দেওয়ার ছক নতুনভাবে কষে নেন। সেই অনুযায়ী দুটি বাস চলে আসে। খাওয়াদাওয়া শেষে বিরোধী নেতারা সেই বাসে উঠে বসেন। জনপথ দিয়ে বাস চলতে থাকে মেরিডিয়েন হোটেলের দিকে। তবে বাস রুখতে দিল্লি পুলিশ নানাভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। নেতাদের নিয়ে বাসটি ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ে অশোক রোডে। উদ্দেশ্য ছিল সেখান দিয়ে ঢুকে পড়া যন্তর মন্তরের দিকে।
কিন্তু কিছুটা এগোতেই পুলিশি প্রতিরোধের মুখে বাস থেমে যায়। চাকার হাওয়াও ছেড়ে দেওয়া হয়। ততক্ষণে কয়েকশ কংগ্রেস কর্মী সেখানে উপস্থিত হন। গাড়ি থেকে নেমে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আন্দোলনকারীদের ভিড়ে মিশে যন্তর মন্তরের দিকে হাঁটতে থাকেন। পুলিশ সেখান থেকেই তাদের আটক করে। তবে সেই আটক সহজ ছিল না। একদিকে ‘ভোটচুরি’ নিয়ে বিরোধীদের স্লোগান, অন্যদিকে পুলিশি তৎপরতা। প্রতিরোধের দরুন কোনো নেতা–নেত্রী যাতে আঘাত না পান, তা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ ছিল পুলিশের প্রতি। আটক এড়াতে একসময় প্রিয়াঙ্কা মাটিতে শুয়ে পড়েন এবং রাহুল বসে পড়েন রাস্তায়। পুলিশ তাদের পাঁজাকোলা করে বাসে তুলতে হিমশিম খেতে হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। গোটা তল্লাট জনারণ্যে পরিণত হয়।
"শুনেছি, আমার বিরুদ্ধে নাকি চার ডজন এফআইআর করা হয়েছে। এতে কিছু যায় আসে না। আমি চাই, ১০০ এফআইআর হোক। প্রতিটি এফআইআর আমার মেডেল। ইস্তফা না নেওয়া ও এসআইআর বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না।"
রাহুলের এই উক্তি ছিল গ্রেপ্তার হওয়ার আগে গণমাধ্যমকে দেওয়া। ইন্ডিয়া জোটের নেতারা বলেছেন, এই আন্দোলন আগামী দিনেও চালিয়ে যাওয়া হবে। ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তর অভিযানের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তাদের নেতারা জানিয়েছেন, পুলিশ যেখানে আন্দোলনকারীদের আটকাবে, সেটাই হয়ে উঠবে যন্তর মন্তর। সিজেপির সেই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো। বুধবার দিল্লি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস বলেন, জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দিলেও তাঁরা তাঁদের আন্দোলন থামাবেন না। নির্বাচন কমিশন পরিচ্ছন্ন না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। কারণ, ওই কমিশনের দৌলতেই নরেন্দ্র মোদিরা ক্ষমতায় টিকে রয়েছেন।
ছত্তিশগড় সফরও বাতিল জ্ঞানেশ কুমারের দেশজুড়ে তাঁর অপসারণের দাবির মুখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ছত্তিশগড় সফরও বাতিল করলেন। বুধবার দুদিনের সফরে কমিশনের অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর ছত্তিশগড় যাওয়ার কথা ছিল।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: দিল্লি, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, জ্ঞানেশ কুমার, নরেন্দ্র মোদি, সৌরভ দাস
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯ ঘণ্টা, ১০০ এফআইআর, ১০ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!