📌 ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প ২০১৫ সাল থেকে ১১ বছর বিলম্বিত হয়ে পড়েছে। জাপান-ভারতের মধ্যে তীব্র বিরোধের কারণে প্রকল্পের সিগন্যালিং ব্যবস্থা জার্মান কোম্পানি সিমেন্সকে দেওয়া হয়েছে। জাপান দাবি করে ভারত চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, ভারত বলছে নিজস্ব উচ্চগতির ট্রেন তৈরি করবে।
ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প ২০১৫ সাল থেকে ১১ বছর বিলম্বিত হয়ে পড়েছে। মহারাষ্ট্রের মুম্বাই থেকে গুজরাটের আহমেদাবাদ পর্যন্ত ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথের কাজে জাপানের সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ে জাপান-ভারতের মধ্যে তীব্র বিরোধের কারণে কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। জাপানের সাবেক বিচারমন্ত্রী হিদেকি মাকিহারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, প্রকল্পে অগ্রগতি না হওয়ার দায় ভারতীয় পক্ষের।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১১ বছর বিলম্বিত ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পে, যা ২০১৫ সালে শুরু হয়েছিল।
- 📌 ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মুম্বাই-আহমেদাবাদ রুটে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে ১.৮৭ ট্রিলিয়ন রুপি (১৯.৫ বিলিয়ন ডলার) হয়েছে।
- 📌 জাপান দাবি করে ভারত চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে, বিশেষত সিগন্যালিং ব্যবস্থা জার্মান কোম্পানি সিমেন্সকে দেওয়ার জন্য।
- 📌 জাপানি কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রকল্পে জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী সিমেন্সের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ায় আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় পৌঁছেছে।
- 📌 ভারত নিজস্ব উচ্চগতির ট্রেন তৈরি করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা জাপানের বুলেট ট্রেনের সমপর্যায়ের সক্ষমতা অর্জন করবে।
- 📌 প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রকল্পের আধুনিকায়ন গুরুত্বপূর্ণ।
📰 বিস্তারিত
ভারতের রেলব্যবস্থা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম। উচ্চগতির রেলপথের জন্য জাপানের প্রযুক্তি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ২০১৫ সালে ভারত-জাপান ৯৮০ বিলিয়ন রুপি (১৫ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের চুক্তি স্বাক্ষর করে। জাপান ৫০ বছরের জন্য মাত্র ১ শতাংশ সুদে অর্থায়ন করার ব্যবস্থা করেছিল। তবে প্রকল্পের কাজে জমি অধিগ্রহণের বিলম্ব এবং ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রকল্পের সময়সূচি পিছিয়ে গেছে।
জাপানের সাবেক বিচারমন্ত্রী হিদেকি মাকিহারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “অগ্রগতি না হওয়ার দায় ভারতীয় পক্ষের। তারা কখনোই নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না।” জাপানি কর্মকর্তারা ভারতের পক্ষ থেকে সিগন্যালিং ব্যবস্থার চুক্তি জার্মান কোম্পানি সিমেন্সকে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। সিমেন্স জাপানি কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। জাপানি কর্মকর্তারা বলেছেন, এই সিদ্ধান্তে তাদের কোম্পানিগুলো হতাশ হয়েছে।
জাপানের পক্ষের যুক্তি হলো, একটি সমন্বিত রেলব্যবস্থা জাপানের বুলেট ট্রেনের নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা ও সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখে। অন্যদিকে, ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, “দুই পক্ষই পুরোপুরি একই অবস্থানে রয়েছে। বিস্তারিত আলোচনা ও উভয় পক্ষের সম্মতির পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য ভারতের রেলব্যবস্থার আধুনিকায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই রেলব্যবস্থার আধুনিকায়ন মোদির নিজেকে আধুনিকায়নের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনার অংশ। এছাড়াও, এই প্রকল্প ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ পরিকল্পনারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে, ভারতের ব্রড-গেজ রেলপথের ৯৯.৬ শতাংশ বিদ্যুতায়িত হয়েছে।
"অগ্রগতি না হওয়ার দায় ভারতীয় পক্ষের। তারা কখনোই নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না।"
— জাপানের সাবেক বিচারমন্ত্রী হিদেকি মাকিহারা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মুম্বাই (মহারাষ্ট্র), আহমেদাবাদ (গুজরাট), নয়াদিল্লি (ভারত), টোকিও (জাপান)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, জাপানের সাবেক বিচারমন্ত্রী হিদেকি মাকিহারা, জাপানি কর্মকর্তারা, ভারতীয় রেল মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১ বছর (বিলম্ব), ৫০৮ কিলোমিটার (রেলপথ দৈর্ঘ্য), ৯৮০ বিলিয়ন রুপি (চুক্তি মূল্য), ১৯.৫ বিলিয়ন ডলার (ব্যয় বৃদ্ধি), ১ শতাংশ (সুদ), ৫০ বছর (ঋণ মেয়াদ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!