📌 ইসরায়েলের হাইফা দিবস পালনে ভারতের ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে ফিলিস্তিন দূতাবাসের তীব্র আপত্তি। ভারতীয় সৈন্যদের ভূমিকাকে 'মুক্তি' হিসেবে উপস্থাপন করা ইতিহাসের সত্যকে আড়াল করে, বলে দাবি করা হয়েছে
২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ২৩ সেপ্টেম্বর ইসরায়েল ‘হাইফা দিবস’ পালন করে আসছে। এই দিবসটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ১৯১৮ সালের ‘হাইফা যুদ্ধে’ অংশগ্রহণকারী ভারতীয় সৈন্যদের স্মরণে পালিত হয়। তবে এই ঐতিহাসিক দিবসের ব্যাখ্যা নিয়ে ভারতের সঙ্গে ফিলিস্তিন দূতাবাসের তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। ফিলিস্তিন দূতাবাসের চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল হাইফাকে ‘মুক্ত’ করার দাবি করে ভারতের সঙ্গে ‘ভাগ করে নেওয়া ইতিহাস’ হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা ইতিহাসের সত্যকে আড়াল করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৩ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের ‘হাইফা দিবস’ পালন করে আসছে, যা ১৯১৮ সালের ‘হাইফা যুদ্ধে’ অংশগ্রহণকারী ভারতীয় সৈন্যদের স্মরণে।
- 📌 ফিলিস্তিন দূতাবাসের চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ বাহিনী হাইফাকে ‘মুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে, কিন্তু ইতিহাসে তা ‘দখল’ বা ‘জয়’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- 📌 ভারতীয় সৈন্যদের ভূমিকাকে ‘মুক্তি’ হিসেবে উপস্থাপন করা ইতিহাসের সত্যকে আড়াল করে, বলে দাবি করা হয়েছে।
- 📌 ফিলিস্তিন দূতাবাসের মতে, ভারতের এই ব্যাখ্যা দেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সার্বভৌম অধিকারকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।
- 📌 ১৯১৮ সালের যুদ্ধে ভারতের ‘যোধপুর ল্যান্সার্স’ ও ‘মহীশূর ল্যান্সার্স’ ব্রিটিশ বাহিনীর অংশ হিসেবে অংশ নিয়েছিল।
📰 বিস্তারিত
২৩ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের ‘হাইফা দিবস’ পালন করে আসছে। এই দিবসটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে ১৯১৮ সালের ‘হাইফা যুদ্ধে’ অংশগ্রহণকারী ভারতীয় সৈন্যদের স্মরণে পালিত হয়। তবে এই দিবসের ব্যাখ্যা নিয়ে ফিলিস্তিন দূতাবাসের তীব্র আপত্তি রয়েছে। ফিলিস্তিন দূতাবাসের ১৫ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ভারতীয় সংসদ সদস্যদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল হাইফাকে ‘মুক্ত’ করার দাবি করে ভারতের সঙ্গে ‘ভাগ করে নেওয়া ইতিহাস’ হিসেবে উপস্থাপন করছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিটিশ বাহিনী হাইফাকে ‘মুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে, কিন্তু ইতিহাসের নথিতে তা ‘দখল’ বা ‘জয়’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। ব্রিটিশ সামরিক ও সাংসদীয় নথিতে হাইফা ‘মুক্ত’ হওয়ার কোনো উল্লেখ নেই। বরং, সেখানে বলা হয়েছে, ‘শহরটি দখল করে নেয়’। ফিলিস্তিন দূতাবাসের মতে, ব্রিটিশ মিত্রবাহিনী ফিলিস্তিনকে শত্রু-ভূখণ্ড হিসেবে দখল করে সামরিক শাসনের অধীন রেখেছিল।
১৯১৮ সালের ‘হাইফা যুদ্ধে’ ভারতের ‘যোধপুর ল্যান্সার্স’ ও ‘মহীশূর ল্যান্সার্স’ ব্রিটিশ বাহিনীর অংশ হিসেবে অংশ নিয়েছিল। এই যুদ্ধে ‘মহীশূর ল্যান্সার্স’ পূর্ব ও উত্তর দিক থেকে আক্রমণের জন্য কারমেল পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে উঠে অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় কামানগুলোকে অকার্যকর করে দেয়। যুদ্ধে নিহত হন মেজর দলপত সিং শেখাওয়াত। যুদ্ধের পর ব্রিটিশ বাহিনী হাইফাকে দখল করে নেয়।
ফিলিস্তিন দূতাবাসের চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতের এই ব্যাখ্যা ইতিহাসের সত্যকে আড়াল করে এবং মুসলিমদের বিচ্ছিন্নতার অনুভূতিকেও বাড়িয়ে তোলে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘পেছন ফিরে ইতিহাসকে এভাবে ব্যাখ্যা করা যে “ভারতীয় সৈন্যরা হাইফাকে মুক্ত করেছিল”, তা মূলত ভারতের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সার্বভৌম অধিকারকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে। কারণ, তৎকালীন পরিস্থিতিতে ভারতের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো ক্ষমতা ছিল না।’
"ভারতীয় সৈন্যদের এই সেবাকে সেই সময়ের ঔপনিবেশিক ব্যবস্থার আলোকেই দেখতে হবে...যেখানে হাজার হাজার সৈন্যকে উপনিবেশ থেকে আনা হয়েছিল। যদিও নিয়োগপ্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বেচ্ছাসেবক’ বলা হতো, কিন্তু পুরো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করত ব্রিটিশরা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল (হাইফা), ভারত (নয়াদিল্লি), ফিলিস্তিন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফিলিস্তিন দূতাবাস, ভারতীয় সৈন্যরা (যোধপুর ল্যান্সার্স, মহীশূর ল্যান্সার্স)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ সেপ্টেম্বর (হাইফা দিবস), ১৯১৮ (হাইফা যুদ্ধ), ১৫ সেপ্টেম্বর (চিঠি পাঠানো), ১৮১ (জাতিসংঘের রেজোল্যুশন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!