📌 ভারতে নতুন খনি ও খনিজ নিয়ন্ত্রণ আইন কেন্দ্রের কর্তৃত্ব বাড়িয়ে রাজ্যগুলোর কর আদায়ের ক্ষমতা সীমিত করেছে। রাজ্যগুলো আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষতি অনুভব করছে এবং সংবিধানীয় বিতর্কের মুখে পড়েছে
ভারতে খনি ও খনিজসম্পদ নিয়ন্ত্রণ আইনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে তীব্র সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। নতুন সংশোধিত আইনটি কেন্দ্রের কর্তৃত্ব বাড়িয়ে রাজ্যগুলোর কর আদায়ের ক্ষমতা সীমিত করেছে, যা রাজ্যগুলোর আর্থিক স্বায়ত্তশাসনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সংশোধিত আইন কেন্দ্রের কর্তৃত্ব বাড়িয়ে রাজ্যগুলোর কর আদায়ের ক্ষমতা সীমিত করেছে, যা সংবিধানের ২৩ নম্বর ও ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদের সাথে সংঘর্ষে পড়েছে।
- 📌 খনিজসমৃদ্ধ রাজ্যগুলো (ঝাড়খণ্ড ও ওডিশা) করবহির্ভূত রাজস্বের প্রায় ৮০ শতাংশ খনিজ থেকে আদায় করে, যা নতুন আইনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে।
- 📌 বাতিল করা বকেয়া কর (অদায়ী কর) রাজ্যগুলোর সম্ভাব্য রাজস্বের একটি উৎস বন্ধ করে দিয়েছে, বিশেষ করে খনিজসমৃদ্ধ রাজ্যগুলোর জন্য।
- 📌 সংবিধানীয় বিতর্ক জোরদার হয়েছে, কারণ সুপ্রিম কোর্টের পূর্বের রায় অনুযায়ী রাজ্যগুলোর কর আদায়ের ক্ষমতা কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের বাইরে থাকা উচিত ছিল।
- 📌 রাজনৈতিক বিভাজন ওডিশায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আইন সম্পর্কে মতভেদ দেখা দিয়েছে, যা রাজ্যগুলোর প্রতিক্রিয়া আরও জটিল করেছে।
📰 বিস্তারিত
ভারতের সংসদে পাস হওয়া খনি ও খনিজ (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী আইন–২০২৬ কেন্দ্রের কর্তৃত্ব বাড়িয়ে রাজ্যগুলোর কর আদায়ের ক্ষমতা সীমিত করেছে। আইনটি অনুযায়ী, কেন্দ্রের নির্ধারিত শর্ত ছাড়া খনিজের অধিকার ও খনিজসমৃদ্ধ জমির ওপর নতুন কর আরোপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও, রাজ্যগুলো যে কর আরোপ করেছিল কিন্তু পুরোপুরি আদায় করতে পারেনি, সেই বকেয়া করও বাতিল করা হয়েছে।
সংবিধানের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পার্লামেন্ট জনস্বার্থে খনি ও খনিজ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কর্তৃত্বের পরিধি নির্ধারণ করতে পারে। অন্যদিকে, ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, খনি ও খনিজ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাজ্যগুলোর হাতে রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় তালিকার ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে পার্লামেন্ট রাজ্যগুলোর কর আদায়ের ক্ষমতা খর্ব করতে পারে।
সংশোধিত আইনের বিরোধী দলের দাবি, এটি সংবিধানের ক্ষমতা বণ্টনকে লঙ্ঘন করেছে। বিশেষ করে খনিজসমৃদ্ধ রাজ্যগুলো (ঝাড়খণ্ড ও ওডিশা) করবহির্ভূত রাজস্বের প্রায় ৮০ শতাংশ খনিজ থেকে আদায় করে। এছাড়াও, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানও খনিজ খাতের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। এসব রাজ্যের করবহির্ভূত রাজস্বের মধ্যে খনিজ থেকে পাওয়া আয়ের অংশ যথাক্রমে ৪৮, ৪১ ও ৩৯ শতাংশ।
অতীতে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, পার্লামেন্ট জনস্বার্থে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, কিন্তু রাজ্যগুলোর খনিজের অধিকারের ওপর কর আরোপের ক্ষমতা কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের বাইরে থাকা উচিত ছিল। তবে নতুন আইনটি এই রায়ের সাথে সংঘর্ষে পড়েছে।
"কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি, বিভিন্ন রাজ্যে খনিজের ওপর ভিন্ন ভিন্ন কর আরোপের ফলে দেশীয় খনিজের দাম বেড়ে যায়। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খনিজের বদলে আমদানির দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং সরকারি কোষাগারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভারত (ভারতে, রাজ্যগুলো)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্যগুলোর সরকার, আইনটির সমালোচকরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩, ৫৪, ৫০, ৪৯, ৮০, ৪৮, ৪১, ৩৯, ১১, ৬
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!