📌 হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের আরামকো সদর দপ্তর ও রিয়াদ বিমানবন্দর হামলা চালায়। মঙ্গলবার দহরানে আরামকো সদর দপ্তরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও, গত শনিবার ও রোববার রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০+ আহত হন। হুথিরা সৌদি তেল স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ ঘোষণা করে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান
হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সৌদি আরবের পূর্ব অঞ্চলের শহর দহরানে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হুথিরা হামলা চালায়। সৌদি সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, এই হামলায় সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে ইয়েমেনের হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সৌদি তেল স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ ঘোষণা করে সেখানে কর্মরত সবাইকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মঙ্গলবার দহরানে আরামকো সদর দপ্তরে হুথির হামলা — আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
- 📌 রিয়াদ বিমানবন্দরে গত শনিবার ও রোববার দু’টি হামলায় ১৩ জন নিহত, ৩০০+ আহত — বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটির স্থায়িত্বে আঘাত হানেছে এই হামলা।
- 📌 হুথিরা সৌদি তেল স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ ঘোষণা — সানার তেল কেন্দ্রে বিমান হামলার পরপরই বিকট বিস্ফোরণ শোনা যায়।
- 📌 সৌদি জোট প্রতিহত করে ৩টি ড্রোন ও ২টি ক্ষেপণাস্ত্র — প্রতিহত ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো পড়ে ৪ জন আহত ও ১৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- 📌 হুথি কর্মকর্তারা দাবি: সৌদি জোটের অনুগত বাহিনীর মুখোমুখি লড়াই চলছে সানায় — সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কবার্তা জারি করে সৌদি জোটের আরও আক্রমণের প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয়া হয়।
📰 বিস্তারিত
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তর হামলার পরপরই ইয়েমেনের হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সতর্কবার্তা জারি করেন। তিনি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের তেল স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ আখ্যা দিয়ে সেখানে কর্মরত কর্মচারীদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। এর কিছুক্ষণ পরই দহরানে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালানো হয়। সৌদি সরকারি কর্মকর্তা জানান, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানার আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় তেল স্টেশনে বিমান হামলা চালানোর পরপরই বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আল জাজিরার প্রতিনিধি ইউসেফ মাওরি জানান, সৌদি আরব লোহিত সাগরের রাস ঈসা বন্দরেও বিমান হামলা চালিয়ে জ্বালানি তেলের ট্যাংক ধ্বংস করেছে। হুথি নিয়ন্ত্রিত হোদাইদাহ প্রদেশের একটি তেল কেন্দ্রেও আঘাত হেনেছে। সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি অভিযোগ করেন, হুথিরা এই স্থাপনা ও এর ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ডিপোকে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করছিল।
গত শনিবার রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এরপর রোববার একই বিমানবন্দরে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আরও একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। এই হামলার পর এয়ার ফ্র্যান্স-কেএলএম, এয়ার ইন্ডিয়া, ইতিহাদ, লুফথানসা, ডেল্টা, গালফ এয়ার ও কাতার এয়ারওয়েজসহ বহু আন্তর্জাতিক বিমানসংস্থা সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলিতে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
“সৌদি জোট সানায় আক্রমণ অব্যাহত রাখলে খালি করার নির্দেশ দেওয়া অঞ্চলগুলোতে হামলা চালানো হবে”
সৌদি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এসপিএ জানায়, প্রতিহত করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো নিচে পড়ে চারজন আহত হয়েছেন এবং ১৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হুথি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, সৌদির নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিমান হামলায় রাজধানীর আল-সাবাহ এলাকার একটি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরামকো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের মজুতাগারগুলো আগেই খালি করা হয়েছিল, তাই এই হামলার কারণে সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহে কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে ঘাটতির আশঙ্কায় নগরের পেট্রল পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরবের দহরান (আরামকো সদর দপ্তর), সৌদি রাজধানী রিয়াদ (বিমানবন্দর), ইয়েমেনের সানা (তেল কেন্দ্র)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইয়াহিয়া সারি (হুথি মুখপাত্র), মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি (সৌদি জোট মুখপাত্র), সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ জন নিহত (রিয়াদ বিমানবন্দর), ৩০০+ আহত, ৪ জন আহত (ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত), ১৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, ১৭ জন আহত (গত রোববার রিয়াদ বিমানবন্দর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!