📅 ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

ওলেশকিতে মানবিক বিপর্যয়: রুশ অধিকৃত এলাকায় বাসিন্দারা আগাছা খেয়ে বেঁচে আছে

ওলেশকিতে মানবিক বিপর্যয়: রুশ অধিকৃত এলাকায় বাসিন্দারা আগাছা খেয়ে বেঁচে আছে

📷 ছবি: Ajker Patrika

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 আজকের পত্রিকা ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 রুশ-অধিকৃত ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে প্রায় ২ হাজার বেসামরিক বাসিন্দা (৫০ জন শিশুসহ) চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন। খাবারের অভাবে তাদের ওজন কমে যাচ্ছে এবং মৃতদেহের সমস্যা তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ মানবিক সহায়তা আটকে দেওয়ার অভিযোগ করে রাশিয়া।

রুশ-অধিকৃত ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে মানবিক বিপর্যয়ের পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। খাবার, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে সেখানে প্রায় ২ হাজার বেসামরিক বাসিন্দা (যাদের মধ্যে ৫০ জন শিশু) চরম অনাহারের মুখে পড়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এই এলাকাকে ‘পৃথিবীর নরক’ বলে বর্ণনা করেছেন।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 ওলেশকিতে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার বেসামরিক বাসিন্দা (৫০ জন শিশুসহ) খাদ্য সংকটে আটকে পড়েছেন, যাদের মধ্যে একজন নারীর ওজন ১১০ কেজি থেকে কমে ৬৭ কেজিতে দাঁড়িয়েছে।
  • 📌 বাসিন্দারা দিনে মাত্র একবার খাবার পান, যেখানে আগাছা ও ফুলের টবের জায়গায় চাষ করা জুচিনি দিয়ে পাতলা স্যুপ তৈরি করছেন।
  • 📌 রুশ বাহিনী ওলেশকিতে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে, ড্রোন নজরদারি বাড়িয়ে সরবরাহের পথ বন্ধ করেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, রুশ সেনারা খাদ্য ড্রোন থেকেও কেড়ে নিচ্ছে।
  • 📌 ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা ওলেশকিকে ‘মানবিক বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং রাশিয়াকে দ্রুত বেসামরিকদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
  • 📌 শহরে মৃতদেহ পড়ে থাকায় কুকুর মৃতদেহ খেয়ে ফেলছে, বিদ্যুৎ ও নগদ অর্থের ব্যবস্থা কার্যত অচল।
  • 📌 রুশ বাহিনী বেসামরিকদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ।

📰 বিস্তারিত

ওলেশকি শহরটি দিনিপ্রো নদীর ওপারে অবস্থিত খেরসন শহরের বিপরীতে। যুদ্ধের আগে এখানে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ বাস করতেন। বর্তমানে সেখানে রয়ে যাওয়া বাসিন্দারা জানিয়েছেন, খাবারের সংকট এতটাই তীব্র যে অনেকের দিনে মাত্র একবার খাবার পায়। কখনো কখনো তারা ফুলের টবের জায়গায় চাষ করা জুচিনি দিয়ে আলু ছাড়া পাতলা স্যুপ তৈরি করছেন। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে বুনো ভোজ্য আগাছা পার্সলেন।

এই পরিস্থিতিতে একটি নারী বার্তা পাঠিয়েছেন, ‘আমার খাবার সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে আমার ওজন ছিল ১১০ কেজি; এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৭ কেজিতে। এখন বুঝতে পারছি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছাড়া আমি মারা যাব।’ তিনি আরও জানান, গত শীতকালে তাঁর বাড়িও ধ্বংস ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ বড় আকারের ড্রোন ব্যবহার করে ওলেশকি ও আশপাশের এলাকায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী ফেলেছে। খেরসনের সামরিক প্রশাসনের দাবি, প্রায় চার টন খাদ্য ১০০টি বিতরণকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে রুশ বাহিনীর হাতে কতটুকু খাদ্য পৌঁছেছে তা স্পষ্ট নয়।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রিই সিবিহা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ওলেশকির পরিস্থিতি তুলে ধরে একে ‘মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিকদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ওলেশকির ‘সংকটজনক পরিস্থিতি’ স্বীকার করলেও মানবিক সহায়তা আটকে দেওয়ার জন্য ইউক্রেনীয় বাহিনীকে দায়ী করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত মে মাস পর্যন্ত সেখানে কিছু খাদ্য সরবরাহ পৌঁছাতেও রুশ বাহিনী মাইনফিল্ড ও ড্রোন নজরদারি বাড়িয়ে সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ, খাবার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা ড্রোন থেকেও রুশ সেনারা খাবার কেড়ে নিচ্ছে। ওলেশকি সামরিক প্রশাসনের প্রধান তেতিয়ানা হাসানেঙ্কো জানান, গত বছরের শেষ দিক থেকেই পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়েছে। মাইন ও ড্রোন হামলার কারণে যানবাহনে করে খাবার পৌঁছানো ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শহরে বিদ্যুৎ নেই, এটিএম ও নগদ অর্থের ব্যবস্থাও কার্যত অচল। হাসানেঙ্কোর দাবি, ২০২৩ সালে কাখোভকা বাঁধ ধ্বংসের পর কাদায় ভরে যাওয়া ভূগর্ভস্থ কক্ষ থেকে খাবার উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ রুশ সেনাদের হাতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মৃতদেহ নিয়ে। হাসানেঙ্কোর দাবি, শহরের বিভিন্ন স্থানে মৃতদেহ পড়ে আছে। নিয়মিত ড্রোন উড়তে থাকায় সেগুলো সরিয়ে নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না; ফলে কুকুর মৃতদেহ খেয়ে ফেলছে বলে তিনি জানান।

"আমার খাবার সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে আমার ওজন ছিল ১১০ কেজি; এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৭ কেজিতে। এখন বুঝতে পারছি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ছাড়া আমি মারা যাব।"

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: ওলেশকি, ইউক্রেন (রুশ-অধিকৃত এলাকা)
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আন্দ্রিই সিবিহা (ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী), তেতিয়ানা হাসানেঙ্কো (ওলেশকি সামরিক প্রশাসনের প্রধান)
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ হাজার (বেসামরিক বাসিন্দা), ৫০ (শিশু), ২৪ হাজার (যুদ্ধের আগে বাসিন্দা), ১১০ কেজি (ওজন), ৬৭ কেজি (বর্তমান ওজন), ১০০ (বিতরণকেন্দ্র), ৭৪ (বয়স)

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖