📌 ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু (যাকে সমর্থকরা 'কিং বিবি' বলে ডাকেন) দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রতিষ্ঠানিক কাঠামোতে গভীর প্রভাব ফেলেছেন। তার নেতৃত্বে ইসরায়েলের বামপন্থী শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং জঙ্গিবাদী-ধর্মীয় দলগুলো শক্তিশালী হয়েছে। ২০২৭ সালের নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে, যেখানে তার রাজনৈতিক সংস্কার ও বিচার বিভাগের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক চলছে
ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু (১৯৪৯ জন্ম) দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রতিষ্ঠানিক কাঠামোতে গভীর প্রভাব ফেলেছেন। তার সমর্থকরা তাকে 'কিং বিবি' বলে সম্বোধন করেন, কিন্তু বিরোধীরা তাকে 'বিচার ব্যর্থতা ও দুর্নীতির রাজা' হিসেবে চিহ্নিত করেন। ১৯৯০-এর দশকে শুরু করে তার ১৯ বছরের (অন-অফ) রাজনৈতিক জীবনে ইসরায়েলের বামপন্থী শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং জঙ্গিবাদী-ধর্মীয় দলগুলো শক্তিশালী হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৯৯৫ সালের ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী ইৎজাক রাবিনের হত্যাকাণ্ডে নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক চলছে** — রাবিনের বিরুদ্ধে তার প্রচারণা ও র্যালিতে রাবিনকে নাজি ইউনিফর্মে দেখানো ও গুলি চিহ্নিত করা হয়েছিল।
- 📌 **১৯৯৬ সালে ইসরায়েলের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী** হিসেবে নির্বাচিত হন নেতানিয়াহু, তারপর থেকে তিনি দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে জঙ্গিবাদী ও ধর্মীয় দলগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি করেন।
- 📌 **২০১৮ সালে কনেসেটে 'জাতিরাষ্ট্রের মৌলিক আইন' পাস হয়** — যা ইসরায়েলকে 'জewish people-এর একচেটিয়া রাষ্ট্র' ঘোষণা করে এবং অবৈধ বসতিগুলোকে জাতীয় প্রাধান্য দেয়।
- 📌 **বিচার বিভাগের সংস্কার নিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলছে** — তিনি বিচার বিভাগকে 'বিচারিক দিক্তাত্য' বলে আখ্যায়িত করে তার নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করেন।
- 📌 **হামাসের ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের আক্রমণ ও গাজা যুদ্ধের পর নেতানিয়াহু নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে দোষারোপ করেন** — যার ফলে শিন বেতের প্রাক্তন প্রধান রোনেন বার তাকে মিথ্যা প্রচারণার জন্য মামলা করেন।
📰 বিস্তারিত
বেনজামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের রাজনীতিতে ১৯৯০-এর দশকে প্রবেশ করেন, যখন তিনি ফিলিস্তিনি ও সিরিয়ার সাথে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিরুদ্ধে জনমত জাগিয়ে তুলেন। তার প্রচারণায় ইৎজাক রাবিনকে নাজি ইউনিফর্মে দেখানো ও গুলি চিহ্নিত করা হয়েছিল। রাবিনের বিরুদ্ধে তার প্রচারণা ও র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের দ্বারা রাবিনকে 'ঘৃণ্য' বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। ইসরায়েলের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নেতানিয়াহুকে হত্যাকাণ্ডের পূর্বে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের সতর্কবাণী উপেক্ষা করেন।
১৯৯৬ সালে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে ইসরায়েলের রাজনৈতিক কাঠামোতে জঙ্গিবাদী ও ধর্মীয় দলগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি পায়। ধর্মীয় আদালতের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা সিভিল ও ব্যবসায়িক বিষয়ে বিচার করে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ধর্মীয় দাবিগুলোকে সমর্থন করে এবং অত্যন্ত ধর্মীয় বিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করে।
২০১৮ সালে কনেসেটে 'জাতিরাষ্ট্রের মৌলিক আইন' পাস হয়, যা ইসরায়েলকে 'জewish people-এর একচেটিয়া রাষ্ট্র' হিসেবে ঘোষণা করে এবং অবৈধ বসতিগুলোকে জাতীয় প্রাধান্য দেয়। এই আইনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করে, কিন্তু তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনকে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে 'অপার্টহাইড' হিসেবে চিহ্নিত করে।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তার সমর্থকদের নিয়োগ করা হয়। তিনি নিরাপত্তা প্রধানদেরকে 'বিরোধী' বলে আখ্যায়িত করে তাদের পদচ্যুত করেন। হামাসের ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের আক্রমণ ও গাজা যুদ্ধের পর নেতানিয়াহু নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে দোষারোপ করেন, যার ফলে শিন বেতের প্রাক্তন প্রধান রোনেন বার তাকে মিথ্যা প্রচারণার জন্য মামলা করেন।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সংস্কার ইসরায়েলের বিচার বিভাগের উপর তার নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করে। তিনি বিচার বিভাগকে 'বিচারিক দিক্তাত্য' বলে আখ্যায়িত করে, যা নির্বাচিত সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে। তার নেতৃত্বে কনেসেটে একটি আইন পাস হয়, যা বিচার বিভাগের নির্বাচন কমিটির গঠন পরিবর্তন করে। এই সংস্কার নিয়ে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলছে, যেখানে তিনি নিজেকে নিরাপদ বলে দাবি করেন।
"বিচারিক সংস্কার" — নেতানিয়াহু
"বিচারিক দিক্তাত্য" — নেতানিয়াহু
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ইসরায়েল, গাজা প্রান্তর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বেনজামিন নেতানিয়াহু, ইৎজাক রাবিন, রোনেন বার
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯ বছর (অন-অফ), ২০২৭ (নির্বাচন), ২০১৮ (জাতিরাষ্ট্রের মৌলিক আইন), ৭ অক্টোবর ২০২৩ (হামাস আক্রমণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!