📌 ৯/১১ আক্রমণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘টেররিজমের যুদ্ধ’ শব্দবন্ধের মাধ্যমে সংঘাতের ভাষা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়। ‘অতিরিক্ত রেন্ডিশন’, ‘উন্নততর জিজ্ঞাসাবাদ’ এবং ‘বিপক্ষী যোদ্ধা’-এর মতো শব্দগুলো ব্যবহার করে মার্কিন সরকার সংঘাতের প্রকৃতি ও মানবিক দিকগুলোকে অস্পষ্ট করে দেয়। এখনও পর্যন্ত এই ভাষার প্রভাব মার্কিন রাজনীতিতে লুকিয়ে আছে
৯/১১ আক্রমণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংঘাতের ভাষায় একটি বিপ্লব ঘটে। ‘টেররিজমের যুদ্ধ’ শব্দবন্ধের মাধ্যমে মার্কিন সরকার সংঘাতের প্রকৃতি, মানবিক দিক এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পদ্ধতিগুলোকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দেয়। ‘টর্চার’কে ‘এনহ্যান্সড ইন্টাররগেশন’ হিসেবে, ‘সাসপেক্টদের সীমান্ত অতিক্রম’কে ‘এক্সট্রার্ডিশন’ হিসেবে এবং ‘গুয়ান্তানামো বে’র বন্দীদের ‘এনেমি কামব্যাট্যান্ট’ হিসেবে বর্ণনা করা শুরু হয়। এই নতুন ভাষা মার্কিন রাজনীতিতে বাস্তবিকতা থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং সহিংসতার মানবিক দিকগুলোকে অস্পষ্ট করে দেয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৯/১১ আক্রমণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘টেররিজমের যুদ্ধ’ শব্দবন্ধের মাধ্যমে সংঘাতের ভাষা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়। ‘টর্চার’কে ‘এনহ্যান্সড ইন্টাররগেশন’, ‘সাসপেক্টদের সীমান্ত অতিক্রম’কে ‘এক্সট্রার্ডিশন’ এবং ‘গুয়ান্তানামো বে’র বন্দীদের ‘এনেমি কামব্যাট্যান্ট’ হিসেবে বর্ণনা করা শুরু হয়।
- 📌 মার্কিন সরকারের এই নতুন ভাষা সহিংসতার প্রকৃতি ও মানবিক দিকগুলোকে অস্পষ্ট করে দেয় এবং বিশ্বকে ‘ভালো’ ও ‘বুর্জুয়া’ হিসেবে বিভক্ত করে।
- 📌 ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক সিটি ও ওয়াশিংটন ডিসি’র আক্রমণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ‘টেররিজমের যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন এবং কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে আফগানিস্তান ও ইরাকে আক্রমণ শুরু করেন।
- 📌 মার্কিন রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘টেররিজমের যুদ্ধ’-এর ভাষা ও ধারণা এখনও মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাবশালী।
📰 বিস্তারিত
৯/১১ আক্রমণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংঘাতের ভাষায় একটি বিপ্লব ঘটে। ‘টেররিজমের যুদ্ধ’ শব্দবন্ধের মাধ্যমে মার্কিন সরকার সংঘাতের প্রকৃতি, মানবিক দিক এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পদ্ধতিগুলোকে সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করে দেয়। ‘টর্চার’কে ‘এনহ্যান্সড ইন্টাররগেশন’, ‘সাসপেক্টদের সীমান্ত অতিক্রম’কে ‘এক্সট্রার্ডিশন’ এবং ‘গুয়ান্তানামো বে’র বন্দীদের ‘এনেমি কামব্যাট্যান্ট’ হিসেবে বর্ণনা করা শুরু হয়। এই নতুন ভাষা মার্কিন রাজনীতিতে বাস্তবিকতা থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং সহিংসতার মানবিক দিকগুলোকে অস্পষ্ট করে দেয়।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্ক সিটি ও ওয়াশিংটন ডিসি’র আক্রমণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ কংগ্রেসের সামনে ভাষণ দেন এবং ‘টেররিজমের যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “আমাদের টেররিজমের যুদ্ধ শুরু হয় আল কায়েদার বিরুদ্ধে, কিন্তু এখানেই শেষ হবে না। এটি শেষ হবে না যতক্ষণ না প্রতিটি বৈশ্বিক পরিসরের টেররিস্ট গ্রুপকে খুঁজে পাওয়া, থামানো এবং পরাজিত করা হবে না।” কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে বুশ ১৮ সেপ্টেম্বর ‘অথরাইজেশন ফর ইউজ অব মিলিটারি ফোর্স’ সই করেন, যা তাকে ৯/১১ আক্রমণে জড়িত বা তাদেরকে আশ্রয় দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বাহিনী ব্যবহার করার ব্যাপারে ব্যাপক ক্ষমতা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘টেররিজমের যুদ্ধ’ শব্দবন্ধটি একটি সংঘাতকে সংজ্ঞায়িত করতে ব্যর্থ হয় যা কোনো স্পষ্ট ভূগোল বা পরিষ্কারভাবে সংজ্ঞায়িত শত্রুকে নির্দেশ করে না। এর ফলে কোনো স্বাভাবিক শেষবিন্দুও নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ এই যুদ্ধের সময় ‘ইভিল’ শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেন। হারমোনি টোরোস, রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক, বলেন যে এই ভাষা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা নেওয়া কিছু কার্যকলাপকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে দেখানো থেকে রক্ষা করে, যা একটি স্বাভাবিক, কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অনুমোদিত নয়। একই সাথে, তিনি বলেন, এটি শত্রুকে ‘দুষ্ট’ হিসেবে চিত্রিত করার একটি শক্তিশালী ভাষাগত প্রচেষ্টা।
"‘টেররিজমের যুদ্ধ’ শব্দবন্ধটি একটি সংঘাতকে সংজ্ঞায়িত করতে ব্যর্থ হয় যা কোনো স্পষ্ট ভূগোল বা পরিষ্কারভাবে সংজ্ঞায়িত শত্রুকে নির্দেশ করে না। এর ফলে কোনো স্বাভাবিক শেষবিন্দুও নেই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (নিউ ইয়র্ক সিটি, ওয়াশিংটন ডিসি), যুক্তরাজ্য (নর্থাম্ব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জর্জ ডব্লিউ বুশ, লিওনি জ্যাকসন, হারমোনি টোরোস, ক্রিস্টোফার বেকার-বিল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯/১১ (আক্রমণের তারিখ), ১১ সেপ্টেম্বর (আক্রমণের তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!