📌 ইয়েমেনের সরকারি তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানির মতে, হুথিস গোষ্ঠী এডেন বিমানবন্দরে দুটি মিসাইল আঘাত হানে, যেখানে একটি বিমান উড়ান প্রস্তুত ছিল। একই সময়ে সৌদি আরবের রিয়াধে হুথিসের মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণে সফলভাবে প্রতিরোধ করা হয়। ইরান হুথিসের আক্রমণে নিজের কোনো ভূমিকা নেই বলে দাবি করে
ইয়েমেনের সরকারি তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানির তথ্য অনুযায়ী, হুথিস গোষ্ঠী এডেন বিমানবন্দরে দুটি মিসাইল আঘাত হানে, যা বিমানবন্দরের রানওয়েতে ৫০০ মিটার দূরে পড়ে। এই আক্রমণে কোনো যাত্রী বা ক্রু আহত হয়নি, তবে মন্ত্রী ‘দৈবিক অনুগ্রহ’-এর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন যে এটি একটি ‘অসাধারণ মানবতাবিরোধী বিপর্যয়’ থেকে বাঁচিয়েছে। তিনি এই আক্রমণকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হুথিসের মিসাইল আক্রমণে এডেন বিমানবন্দরে ৫০০ মিটার দূরে বিমান থেকে মাত্র ১,৬৪০ ফুট দূরে মিসাইল পড়ে, কিন্তু কোনো আহত হয়নি।
- 📌 **হুথিসের দাবি: তারা এডেন প্রদেশের বাদর ক্যাম্পে সৌদি বাহিনীর কমান্ড হেডকোয়ার্টার ও অস্ত্রাগার আক্রমণ করেছে।
- 📌 **ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী মারিব প্রদেশে ২৪ ঘণ্টায় ৪৩০ হুথিস সৈনিক নিহত ও ১০০টিরও বেশি তাদের যানবাহন ধ্বংস করেছে।
- 📌 **তাইজ প্রদেশে হুথিসের ‘বড় আকারের’ আক্রমণ প্রতিহত করে ইয়েমেনের বাহিনী তাদের ‘ভীষণ ক্ষতি’ করেছে এবং একটি বিশেষ ড্রোন দল ধরে নিয়ে আসেছে।
- 📌 **হুথিসের আক্রমণে রিয়াধে মিসাইল ও ড্রোন নিচুতে নামানো হয়েছে, কিন্তু সৌদি আরবের বাহিনী সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে।
- 📌 **ইরান হুথিসের আক্রমণে নিজের কোনো ভূমিকা নেই বলে দাবি করে এবং মধ্যস্থতায় আসার প্রস্তাব পুনরাবৃত্তি করেছে।
- 📌 **২০১৪ সাল থেকে চলমান ইয়েমেন যুদ্ধে হুথিস (আনসার আল্লাহ) সেপ্টেম্বর মাসে মোচা ও বাব আল-মন্দেব স্ট্রেইটের মায়ুন দ্বীপ দখল করে নেয়।
📰 বিস্তারিত
ইয়েমেনের সরকারি তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি জানিয়েছেন, হুথিস গোষ্ঠী শুক্রবার এডেন বিমানবন্দরে দুটি মিসাইল আঘাত হানে। এই মিসাইলগুলো বিমানবন্দরের রানওয়েতে ৫০০ মিটার দূরে পড়ে, যেখানে একটি বিমান উড়ান প্রস্তুত ছিল। তবে কোনো যাত্রী বা ক্রু আহত হয়নি। তিনি ‘দৈবিক অনুগ্রহ’-এর জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, “এটি একটি ‘অসাধারণ মানবতাবিরোধী বিপর্যয়’ থেকে বাঁচিয়েছে”। তিনি এই আক্রমণকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছেন।
হুথিসের দাবি, তারা এডেন প্রদেশের বাদর ক্যাম্পে সৌদি বাহিনীর কমান্ড হেডকোয়ার্টার ও একটি অস্ত্রাগার আক্রমণ করেছে। এই তথ্য এএফপি সংবাদ সংস্থা থেকে পাওয়া যায়। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী শুক্রবার জানিয়েছে, তারা মারিব প্রদেশে (সানায়ের উত্তর-পূর্বে) ২৪ ঘণ্টায় ৪৩০ হুথিস সৈনিক নিহত ও ১০০টিরও বেশি তাদের যানবাহন ধ্বংস করেছে। তারা আরও বলেছে, তারা ‘কীটি অবস্থান’ দখল করেছে।
তাইজ প্রদেশে, যা যুদ্ধের একটি প্রধান মাঠ হয়ে উঠেছে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুথিসের ‘বড় আকারের’ আক্রমণ প্রতিহত করেছে এবং তাদের ‘ভীষণ ক্ষতি’ করেছে। তারা আরও জানিয়েছে, তারা হুথিসের একটি বিশেষ ড্রোন দল ধরে নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে, হুথিসের বাহিনী ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম নগরী তাইজকে ঘিরে ফেলেছে, তাদের প্রধান দক্ষিণে এডেনের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে, যা ব্যাপকভাবে বাস্তুচ্যুতি ঘটিয়েছে এবং মানবতাবিরোধী সংকটকে আরও খারাপ করেছে।
সৌদি আরবের নেতৃত্বে ইয়েমেনের হুথিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে, সৌদি আরবের বাহিনী শুক্রবার রিয়াধে ও সৌদি আরবের অন্যান্য অংশে মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণ প্রতিহত করেছে। সৌদি আরব হুথিসের আক্রমণে ইরানের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ করেছে, বলেছে ইরান হুথিসকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। তবে ইরানের বিদেশ মন্ত্রণালয় শুক্রবার এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা হুথিসের কোনো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেনি। তারা আরও বলেছে, তারা হুথিস ও রিয়াধের মধ্যে মধ্যস্থতায় আসার প্রস্তাব পুনরাবৃত্তি করেছে।
২০১৪ সালে ইয়েমেনের যুদ্ধ শুরু হয় যখন হুথিস গোষ্ঠী (আনসার আল্লাহ) রাজধানী সানায় দখল করে এবং সরকারকে পালাতে বাধ্য করে। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক সামরিক গোষ্ঠী ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পক্ষে হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সালে একটি ইউনাইটেড নেশন্স-সমর্থিত শান্তি চুক্তি যুদ্ধের বেশিরভাগ অংশ বন্ধ করে দেয়, কিন্তু ইরান-সহায়তা পাওয়ার পর হুথিস জুলাই মাসে সৌদি আরবের বন্দর ও বাব আল-মন্দেব স্ট্রেইটের নৌবন্ধন ঘোষণা করে। সেপ্টেম্বর মাসে হুথিসের বাহিনী মোচা ও পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় আক্রমণ করে এবং বাব আল-মন্দেব স্ট্রেইটের মায়ুন দ্বীপ দখল করে নেয়।
"দৈবিক অনুগ্রহের জন্য ধন্যবাদ, যা একটি ‘অসাধারণ মানবতাবিরোধী বিপর্যয়’ থেকে বাঁচিয়েছে।" — মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি, ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী
"এটি একটি ‘আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুতর লঙ্ঘন’।" — মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: এডেন বিমানবন্দর (ইয়েমেন), মারিব প্রদেশ, তাইজ প্রদেশ, রিয়াধ (সৌদি আরব), মোচা (ইয়েমেন), বাব আল-মন্দেব স্ট্রেইট
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোয়াম্মার আল-এরিয়ানি (ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী), হুথিসের সামরিক সূত্র, মাজেদ আল-নাজিলি (ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র), ইরানের বিদেশ মন্ত্রণালয়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০০ মিটার (মিসাইল থেকে বিমানবন্দর রানওয়ের দূরত্ব), ১,৬৪০ ফুট, ৪৩০ হুথিস সৈনিক (২৪ ঘণ্টায় নিহত), ১০০+ হুথিস যানবাহন (ধ্বংস), ৩টি প্রধান আক্রমণ (রিয়াধে মিসাইল ও ড্রোন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!