📌 ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের তেল কোম্পানি আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালায়। রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের সময় চারজন আহত হয়। সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলিতে বিমান চলাচল স্থগিত থাকে
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের তেল কোম্পানি আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে আগুন লাগলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হলেও চারজন আহত এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালায়, ধাহরানে আগুন লাগে কিন্তু কোনো হতাহত হয় না
- 📌 সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুতি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের সময় চারজন আহত ও ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
- 📌 সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ: হুতি গোষ্ঠী তেল স্থাপনা ও জ্বালানি ডিপো ব্যবহার করে অস্ত্রভান্ডার হিসেবে
- 📌 সানায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর হামলায় ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির তেল স্থাপনায় বিস্ফোরণ ঘটে
- 📌 সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলিতে বিমান চলাচল স্থগিত করে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা
- 📌 হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি: সানায় সৌদি হামলা করলে রিয়াদে ‘কঠোর পাল্টা জবাব’ দেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালায় ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। এই হামলায় ভবনে আগুন লাগলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার কারণে সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। তবে হামলার ধরন বা ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এই হামলার আগে, মঙ্গলবার সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলোতে কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল হুতি গোষ্ঠী। তারা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের তেল স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে উল্লেখ করে। ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় তেল স্থাপনায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের পরই এই হুঁশিয়ারি আসে।
হুতি গোষ্ঠীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সতর্কবার্তা দেন, সানায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনী হামলা চালালে রিয়াদে ‘কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। এর কিছুক্ষণ পরই সানায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের পরপরই সানায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। হুতি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের দাবি, সৌদি-সমর্থিত বাহিনী রাজধানীর আল-সাবাহ এলাকায় একটি তেল স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের হামলায় সানার ইয়েমেন অয়েল কোম্পানির আল-সাবাহ কেন্দ্রীয় তেল স্থাপনায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির অভিযোগ, হুতি গোষ্ঠী তেল স্থাপনা ও ভূগর্ভস্থ জ্বালানি ডিপো ব্যবহার করে অস্ত্রভান্ডার হিসেবে। তবে ইয়েমেন অয়েল কোম্পানি আগেই জানিয়েছে, তাদের তেল সংরক্ষণাগারগুলো খালি রয়েছে। ফলে সৌদি হামলা চালালেও তেলের মজুত বা সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়বে না। তবে জ্বালানির সংকট দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় সানার কয়েকটি পেট্রলপাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আরামকোর সদর দফতর, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আরামকোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি শোধনাগার থেকেও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে যাওয়ার সময় সেগুলো প্রতিহত করেছে সৌদি আরব। সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএর বরাতে জানানো হয়, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হলেও তাদের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হয়েছেন এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩শ’ জনের বেশি আহত হন। বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরবে এই হামলা ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করে। রোববার রিয়াদের বিমানবন্দরে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে আরও একজন নিহত এবং ১১ জন আহত হন। পরপর এসব হামলার পর সৌদি আরব ও প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা, যার মধ্যে রয়েছে এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম, এয়ার ইন্ডিয়া, ইতিহাদ, লুফথানসা, ডেল্টা, গালফ এয়ার ও কাতার এয়ারওয়েজ।
"সানায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছেন হুতি যোদ্ধারা। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সানায় হামলা চালালে যেসব স্থাপনা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সৌদি আরব (রিয়াদ, ধাহরান), ইয়েমেন (সানা, হোদেইদা প্রদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইয়াহিয়া সারি (হুতি মুখপাত্র), মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি (সৌদি মুখপাত্র)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩ জন নিহত (শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দর হামলায়), ৩শ’ জন আহত, ১১ জন আহত (রোববার), ৪ জন আহত (ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত), ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!