📌 হরমুজ প্রণালির কাছে গত ২৪ ঘণ্টায় একটি কনটেইনার জাহাজ ও একটি বাল্ক ক্যারিয়ার ডুবে গেছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের জবাবে এই হামলা জোরদার করছে বলে দাবি। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সিঙ্গাপুরের কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছেন
হরমুজ প্রণালির কাছে গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সূত্র ও সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) জানিয়েছে, এই দুটি জাহাজের মধ্যে একটি ছিল সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘জিএফএস প্রাইড’ এবং অন্যটি ছিল অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী শুকনা পণ্যবাহী জাহাজ ‘কেপ দাও’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি জাহাজ ডুবে গেছে — ‘জিএফএস প্রাইড’ ও ‘কেপ দাও’
- 📌 ‘জিএফএস প্রাইড’-এ আগুন ধরে ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও জাহাজটি ডুবে গেছে
- 📌 ‘কেপ দাও’-তে নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতে একজন নাবিক নিহত হন, বাকি নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়
- 📌 ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের জবাবে এই হামলা জোরদার করছে বলে দাবি
- 📌 সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘মারিস্কস’ বলেছে, এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের হুমকি তীব্র
- 📌 গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালিতে জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা বেড়েছে
📰 বিস্তারিত
হরমুজ প্রণালির কাছে গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘জিএফএস প্রাইড’ নামের একটি কনটেইনার জাহাজ মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আগুন ধরে ডুবে যায়। জাহাজটির ধারণক্ষমতা ছিল ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ। তবে জাহাজের ২১ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং এতে কেউ আহত হননি। জাহাজটির সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘জিএফএস শিপ ম্যানেজমেন্ট এফজেডই’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী ‘কেপ দাও’ নামের একটি শুকনা পণ্যবাহী জাহাজ গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিক্ষিপ্ত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময়ই একজন নাবিক নিহত হন এবং বাকি নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়। জাহাজটির সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘পিওনিজ শিপম্যানেজমেন্ট এফজেডই’-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়নি।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং গত মাসে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার জবাবে এই হামলা জোরদার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে। ইরানের দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে তেহরান ক্রমেই নতুন নতুন কৌশল প্রয়োগ করছে। তারা বলেছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম উঁচুতে ধরে রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করাও তাদের লক্ষ্য।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ১০ দিনে হরমুজ প্রণালির আশপাশে জাহাজে হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে এই প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি এখনো অত্যন্ত তীব্র। এই হুমকি শুধু তেলবাহী ট্যাংকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং কনটেইনারবাহী ও শুকনা পণ্যবাহী জাহাজও গুরুতর ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
"হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে অব্যাহত হামলার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিনা উসকানিতে চালানো এসব হামলার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং এগুলো সরাসরি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।"
সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি (এমপিএ) বুধবার এই মন্তব্য করেছেন। সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘মারিস্কস’ বলেছে, এই পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিঙ্গাপুরের মেরিটাইম অ্যান্ড পোর্ট অথরিটি কর্মকর্তারা, ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, নাবিকদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৪ ঘণ্টা, ২ হাজার ৮২৪ টিইইউ, ২১ জন নাবিক, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২৮ ফেব্রুয়ারি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!