📌 হরমুজ নালা দিয়ে তেল রফতানি ৮১ শতাংশের বেশি পুনরুদ্ধার হলেও আক্রমণ ও নিরাপত্তা খরচ বাড়ছে। গত সপ্তাহে সাতটি ট্যাঙ্কার আক্রমণে আঘাত পেয়েছে, যার মধ্যে একটি জ্বলে উঠেছে। মার্কিন সরকার দাবি করছে ওয়াশিংটন নালাটি নিয়ন্ত্রণ করছে, কিন্তু ইরান নিরাপত্তা সংকটকে আরও তীক্ষ্ণ করেছে
হরমুজ নালা দিয়ে তেল রফতানি পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রসর হলেও আক্রমণ ও নিরাপত্তা খরচের কারণে এই প্রবাহ কত দিন টিকে থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নৌযুদ্ধের পরিস্থিতি তীব্রতর হলেও গত সেপ্টেম্বর মাসে গলফের তেল রফতানি ৮১ শতাংশেরও বেশি পূর্ব-যুদ্ধের স্তরে ফিরে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রফতানির পিছনে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ব্যবহার এবং নালার চারপাশে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর করা প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮১ শতাংশের বেশি পূর্ব-যুদ্ধের স্তরে ফিরে এসেছে গলফের তেল রফতানি, যেখানে ১৪ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রফতানি পূর্ব-যুদ্ধের স্তরের উপরে চলে গেছে।
- 📌 গত সপ্তাহে সাতটি ট্যাঙ্কার আক্রমণ হয়েছে, যার মধ্যে একটি কুয়েতি জাহাজ MT Kazimah III জ্বলে উঠেছে এবং পাঁচজন কর্মী নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
- 📌 ১২ জন ভারতীয় নৌকা কর্মী আঘাত পেয়েছে গত রবিবার হরমুজ নালা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি অজানা প্রকল্পিলের আক্রমণে।
- 📌 ৪০ শতাংশ তেল রফতানি হরমুজ নালা বাইপাস করে অন্য পথে যাচ্ছে, যেখানে বাকি তেল জাহাজ থেকে জাহাজে স্থানান্তরিত হচ্ছে।
- 📌 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, ওয়াশিংটন হরমুজ নালাটি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং মার্কিন বাহিনী নিরাপদে জাহাজকে নালা দিয়ে যেতে দিচ্ছে।
- 📌 ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৭৫ শতাংশ কমে গেছে ৯৯.৫৭ ডলার প্রতি ব্যারেলে, যেখানে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১.২ শতাংশ কমে ৮৮.৩৭ ডলার প্রতি ব্যারেলে হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
হরমুজ নালা দিয়ে তেল রফতানির পুনরুদ্ধার ঘটলেও নিরাপত্তা সংকট তীব্রতর হয়েছে। গত সপ্তাহে সাতটি ট্যাঙ্কার আক্রমণে আঘাত পেয়েছে, যার মধ্যে একটি কুয়েতি জাহাজ MT Kazimah III অক্টোবর ১ তারিখে জ্বলে উঠেছে। পাঁচজন কর্মী নিরাপদে উদ্ধার করা হলেও জাহাজের ক্ষতি ব্যাপক। অন্যদিকে, লিবেরিয়ান-ফ্ল্যাগযুক্ত আফ্রামাক্স ট্যাঙ্কার লিপসি অক্টোবর ৪ তারিখে ওমানের জাজিরাত উম্ম আল-ফায়ারিনের উত্তর-পূর্বে আঘাত পেয়েছে, যার ফলে ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর UK Maritime Trade Operations (UKMTO) সংস্থা জানিয়েছে, গত অক্টোবর ২ তারিখ থেকে প্রতিদিনই হরমুজ নালা বা আদেনের উপকূলে একাধিক আক্রমণ হয়েছে। বিশেষত, ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি সংযুক্ত জাহাজগুলিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করছে। গত সোমবার, একটি ট্যাঙ্কার ওমানের কাছে হরমুজ নালায় প্রবেশ করার সময় ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দ্বারা ডাক পেয়েছে এবং জাহাজকে ফিরে যেতে বা আক্রমণের ঝুঁকি নিতে বলা হয়েছে।
তেলের রফতানি বাড়ার পিছনে প্রধান কারণ হলো সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ব্যবহার এবং জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ৪০ শতাংশ তেল রফতানি হরমুজ নালা বাইপাস করে অন্য পথে যাচ্ছে। তবে, এই পদ্ধতিও নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি।
"তেলের বাড়তি সরবরাহের পিছনে দুটি কারণ: সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ব্যবহার এবং হরমুজ নালার চারপাশে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন, ওয়াশিংটন হরমুজ নালাটি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং মার্কিন বাহিনী নিরাপদে জাহাজকে নালা দিয়ে যেতে দিচ্ছে। তবে, ইরান এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিরাপত্তা সংকটকে আরও তীক্ষ্ণ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবাহ টিকে থাকবে যতদিন না জাহাজ আক্রমণ বা পাইপলাইন আক্রমণ শুরু হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ নালা, আদেন উপসাগর, ওমান, কুয়েত, লিবেরিয়া, ভারত, সৌদি আরব, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট), ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC), সৌদি আরামকো, ভারতের বৈদেশিক বিষয় মন্ত্রণালয়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮১ শতাংশ (তেল রফতানি পুনরুদ্ধার), ১৪ দিন (পূর্ব-যুদ্ধের স্তরের উপরে রফতানি), ৭টি (ট্যাঙ্কার আক্রমণ), ১২ জন (আঘাত পেয়েছেন), ৪০ শতাংশ (তেল রফতানি বাইপাস), ৯৯.৫৭ ডলার (ব্রেন্ট ক্রুডের দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!