📌 হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত হলে এশিয়া-আফ্রিকার খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সার পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত সম্মতির আহ্বান জানানো হয়েছে। বীজ বপনের মৌসুমের আগে এই সমাধান না হলে উৎপাদন ও খাদ্য দামে মারাত্মক প্রভাব পড়বে
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত হলে এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ জাগিয়েছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এই প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত সম্মতির আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। বীজ বপনের মৌসুমের আগে এই সমস্যা সমাধান না হলে কৃষকদের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং খাদ্য দামে বেড়ে যাবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত হলে** এশিয়া ও আফ্রিকার খাদ্য নিরাপত্তা বিপন্ন — জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
- 📌 **জাতিসংঘের প্রস্তাবে** ওমানে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সমন্বয়কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে সার পরিবহনের জন্য
- 📌 **বীজ বপনের মৌসুমের আগে** (১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ) চিনির দাম বেড়েছে, গমের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির দামও তিন বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে
- 📌 **ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ** শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত — ইউরিয়া ও সালফারের পরিবহনও সংকটে
- 📌 **জাতিসংঘের পরিকল্পনা** অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সম্মত হলে মাত্র ৭ থেকে ১০ দিনে সার পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা বলেছেন, বীজ বপনের মৌসুমের আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির প্রয়োজন ‘অত্যন্ত জরুরি’। তিনি বলেন, বীজ বপনের মৌসুম চলে গেলে বিপদ। এ সময় কৃষকরা সার না পেলে উৎপাদন অনেকটা কমে যাবে এবং খাদ্যের দামও বেড়ে যাবে।
জাতিসংঘের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ওমানে জাতিসংঘের কর্মীদের পরিচালনায় সমন্বয়কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই কেন্দ্রের কাজ হবে জাহাজের নিবন্ধন করে এই প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচল তদারকি করা। তবে, হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো কেন এই পরিকল্পনায় সম্মত হয়নি, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইরান এ প্রণালিতে চলাচালকারী জাহাজে হামলা করছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এই সংকটে বিশ্ববাজারে ইউরিয়া সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ইউরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ সার।
সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) খাদ্যমূল্য সূচক প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। গত মাসে এই সূচকের মান ছিল ১৩৬। সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ও আবহাওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার বিশেষ পরিস্থিতি এল নিনোর তীব্রতা বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম বেড়ে ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্য কার্যত ভেঙে পড়ায় গত মাসের শুরুতে গমের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে।
"বীজ বপনের মৌসুম ঘনিয়ে আসায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাবে সম্মত হওয়া ‘অত্যন্ত জরুরি’। বীজ বপনের মৌসুম চলে গেলে বিপদ। এ সময় কৃষকেরা সার না পেলে উৎপাদন অনেকটা কমে যাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালি, ওমান, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা (জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩৬ (খাদ্যমূল্য সূচক), ১৮ (মাস), ৭-১০ (দিন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!