📌 হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নৌবাহিনী একটি তেলযানকে মাইন দিয়ে আক্রমণ করে আগুন ধরে ফেলেছে। একই সময়ে মার্কিন বাহিনী একটি প্যানামা-ফ্ল্যাগযুক্ত কার্গো জাহাজে বোমা হামলা করে। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের সমাধান আলোচনা বন্ধে পড়েছে
হরমুজ প্রণালী ও গলফ অব ওমানে সামরিক আক্রমণ ও সতর্কবার্তা বেড়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের সমাধান আলোচনা বন্ধে পড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী শনিবার রাতে জানিয়েছে, একটি অপরিচিত কাঁকিনী তেলযান একটি নৌমাইন আঘাত করে ভয়াবহ আগুন ধরে ফেলেছে। এই জাহাজটি প্রণালীতে অনুমোদিত পথ ছাড়িয়ে গিয়ে নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে চলছিল। আইআরজিসি নৌবাহিনী সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, যে কোনো তেলযান যদি ‘হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়মগুলো উপেক্ষা করে’, তাহলে তারও একই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই প্রণালী দিয়ে শান্তিকালে বিশ্বের পাঁচ ভাগের এক তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ইরানের নৌবাহিনী একটি তেলযানকে মাইন দিয়ে আগুন ধরে ফেলেছে; জাহাজটি অনুমোদিত পথ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
- 📌 মার্কিন বাহিনী গলফ অব ওমানে একটি প্যানামা-ফ্ল্যাগযুক্ত কার্গো জাহাজে বোমা হামলা করে এর চালক ব্যবস্থা নষ্ট করেছে।
- 📌 ইরানের সেনা প্রধান হাবিবোল্লাহ সায়্যারি বলেছেন, ‘শত্রু জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে আমরা আঘাত হানেছি। আর যদি ইরানের বিরুদ্ধে আরো কিছু ঘটে, আমরা আবার আঘাত হানবো।’
- 📌 ইউকে মারিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমুজ প্রণালী ও গলফ অব ওমানে বেশ কয়েকটি সামরিক কার্যক্রম ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
- 📌 মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জুলাই মাসের মধ্যভাগে ইরানের দক্ষিণ বন্দরগুলোর নৌব্লকেড আরম্ভ করার পর থেকে তারা ৪টি কার্গো জাহাজ নিষ্ক্রিয় করেছে, ১৩৫টি জাহাজ ফিরিয়ে দিয়েছে এবং ১০টি তেলযান ধ্বংস করেছে।
- 📌 গত সপ্তাহে (১০ অক্টোবর পর্যন্ত) অন্তত ১২টি জাহাজ আক্রমণ করা হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা।
- 📌 ক্লেপার ডেটা অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর পর্যন্ত শেষ হওয়া সপ্তাহে প্রণালী দিয়ে গড়ে ৮.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা শান্তিকালের গড়ের ৪০% কম।
- 📌 ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য জুন মাসে স্বাক্ষরিত একটি মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং পুনরুদ্ধার এবং ইরান-ওমান চুক্তির পক্ষে মার্কিন সমর্থন চাইছে।
- 📌 মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেড ডব্লিউ ভ্যান্স বলেছেন, ইরানকে ‘অর্থবহ’ভাবে ন্যুক্লিয়ার এনরিচমেন্ট কমাতে হবে, যা পূর্বের ‘শূন্য এনরিচমেন্ট’ দাবির পরিবর্তন।
📰 বিস্তারিত
হরমুজ প্রণালী ও গলফ অব ওমানে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, একটি অপরিচিত কাঁকিনী তেলযান একটি নৌমাইন আঘাত করে আগুন ধরে ফেলেছে। এই ঘটনা ঘটেছে প্রণালীতে অনুমোদিত পথ ছাড়িয়ে গিয়ে নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে চলার কারণে। আইআরজিসি সতর্কবার্তা জারি করে বলেছে, যে কোনো তেলযান যদি প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়মগুলো উপেক্ষা করে, তাহলে তারও একই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই প্রণালী দিয়ে শান্তিকালে বিশ্বের পাঁচ ভাগের এক তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
এই ঘটনার পরেই মার্কিন সেনাবাহিনী গলফ অব ওমানে একটি প্যানামা-ফ্ল্যাগযুক্ত কার্গো জাহাজে বোমা হামলা করে এর চালক ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জুলাই মাসের মধ্যভাগে ইরানের দক্ষিণ বন্দরগুলোর নৌব্লকেড আরম্ভ করার পর থেকে তারা ৪টি কার্গো জাহাজ নিষ্ক্রিয় করেছে, ১৩৫টি জাহাজ ফিরিয়ে দিয়েছে এবং ১০টি তেলযান ধ্বংস করেছে। মার্কিন সরকার দাবি করে, ব্লকেডের কারণে ইরান কোনো তেল রপ্তানি করতে পারছে না।
গত সপ্তাহে (১০ অক্টোবর পর্যন্ত) অন্তত ১২টি জাহাজ আক্রমণ করা হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এই আক্রমণগুলো হরমুজ প্রণালী ছাড়াও কাতারের উত্তর উপকূলেও ঘটেছে, যা ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধের প্রমাণ দেয়। এই আক্রমণগুলো তেল পরিবহনের উপর প্রভাব ফেলেছে। ক্লেপার ডেটা অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর পর্যন্ত শেষ হওয়া সপ্তাহে প্রণালী দিয়ে গড়ে ৮.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে, যা শান্তিকালের গড়ের ৪০% কম।
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের সমাধান আলোচনা বন্ধে পড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য জুন মাসে স্বাক্ষরিত একটি মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং পুনরুদ্ধার এবং ইরান-ওমান চুক্তির পক্ষে মার্কিন সমর্থন চাইছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেড ডব্লিউ ভ্যান্স বলেছেন, ইরানকে ‘অর্থবহ’ভাবে ন্যুক্লিয়ার এনরিচমেন্ট কমাতে হবে, যা পূর্বের ‘শূন্য এনরিচমেন্ট’ দাবির পরিবর্তন।
"আমরা শত্রু জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে আঘাত হানেছি। আর যদি ইরানের বিরুদ্ধে আরো কিছু ঘটে, আমরা আবার আঘাত হানবো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হরমুজ প্রণালী, গলফ অব ওমান, কাতার উপকূল, রাস আল-খাইমাহ (ইউএই)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: হাবিবোল্লাহ সায়্যারি (ইরানের সেনা প্রধান), জেড ডব্লিউ ভ্যান্স (মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮.৫ মিলিয়ন ব্যারেল (তেল পরিবহন), ৪০% (কম), ১২টি জাহাজ (আক্রমণ), ১৩৫টি জাহাজ (ফিরিয়ে দেওয়া), ১০টি তেলযান (ধ্বংস)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!