📌 ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরানোর কাজে রাস্তা চওড়া করার প্রকল্পের সাথে জড়িত হয়ে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা ও পুলিশ-জনতার সংঘর্ষ। ৬৩৬ বছরের পুরাতন এই মসজিদের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে সিংহস্থ কুম্ভ ২০২৮-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাস্তা চওড়া করার কাজে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরানোর উদ্যোগে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ২৮ শে সেপ্টেম্বর পুলিশের সঙ্গে জনতার সংঘর্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ার পর এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মসজিদের ১৫ মিটার অ্যালাইনমেন্টের মধ্যে পড়া অংশ সরানোর বিষয়। সোমবার সকালে মসজিদের আশপাশে জড়ো হওয়া মানুষের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে আরও উত্তেজনা বাড়ে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬৩৬ বছরের পুরাতন শাহী মসজিদের একটি অংশ সরানোর কাজে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা ও পুলিশ-জনতার সংঘর্ষ।
- 📌 ২৮ শে সেপ্টেম্বর রাতে প্রশাসন ও মসজিদ কমিটির বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সরানোর সম্মতি দেওয়া হলেও সোমবার সকালে সংঘর্ষ পুনরায় বেড়ে যায়।
- 📌 ১৩৯০ সালে নির্মিত মসজিদটিকে 'মুঘল-পূর্ব মালওয়া অঞ্চলের সুলতানশাহী আমলের' স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ইতিহাসবিদ জাফর আনসারী।
- 📌 ১৯২৫ ও ১৯৪৬ সালের নথি থেকে জানা যায়, তখনও মসজিদের অংশ সরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
- 📌 ওয়াকফ আইন ১৯৮৫ অনুযায়ী মসজিদটিকে 'ওয়াকফ মসজিদ পঞ্চ মোচিয়ান (শাহী মসজিদ)' হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে সিংহস্থ কুম্ভ ২০২৮-এর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাস্তা চওড়া করার কাজে শাহী মসজিদের একটি অংশ সরানোর উদ্যোগে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিবিসি সংবাদদাতা সমীর খান ও বিষ্ণুকান্ত তিওয়ারির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২৮ শে সেপ্টেম্বর রাতে প্রশাসন ও মসজিদ কমিটির মধ্যে বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সরানোর সম্মতি দেওয়া হলেও সোমবার সকালে মসজিদের আশপাশে জড়ো হওয়া মানুষের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে পড়ে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ার পর এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মসজিদের ১৫ মিটার অ্যালাইনমেন্টের মধ্যে পড়া অংশ সরানোর বিষয়। বিবিসি সংবাদদাতারা জানান, শাহী মসজিদের ইতিহাস প্রায় ৬৩৬ বছর পুরানো। ১৩৯০ সালে নির্মিত এই মসজিদটি 'মুঘল-পূর্ব মালওয়া অঞ্চলের সুলতানশাহী আমলের' স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ইতিহাসবিদ জাফর আনসারী। তিনি বলেছেন, "উজ্জয়িনী ও মধ্য ভারতের পুরোনো ঐতিহাসিক নথি, এখানকার অন্যান্য স্থাপনার স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে এই মসজিদটির নকশা মিলিয়ে দেখা হলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে এটি মুঘল আমলের আগের একটি স্থাপনা।"
১৯২৫ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ নথিতে শাহী মসজিদকে 'মোচিয়ান কি মসজিদ' নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তৎকালীন গোয়ালিয়র স্টেটের টাউন ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্টের চেয়ারম্যানের জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, রাস্তা সংস্কারের জন্য মসজিদ-সংলগ্ন কিছু জমি অধিগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে, 'মূল মসজিদ বাদ দিয়ে' তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু 'আরাজি' নেওয়া হবে। 'আরাজি' শব্দের অর্থ জমি, খেত বা ভূমিখণ্ড। চিঠিটিতে তখন মসজিদের অবস্থার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, তখন মসজিদটিতে কোনো মিনার ছিল না।
১৯৪৬ সালের একটি মানচিত্রেও শাহী মসজিদের উল্লেখ রয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, ওই মানচিত্রে মসজিদের দক্ষিণাংশে থাকা দুটি মাজার, প্রধান নামাজের স্থান এবং অন্যান্য অংশের উল্লেখ রয়েছে। ওয়াকফ নথিতে শাহী মসজিদকে 'ওয়াকফ মসজিদ পঞ্চ মোচিয়ান (শাহী মসজিদ)' নামে নিবন্ধিত করা হয়েছে। মসজিদ-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, এটি ওয়াকফ আইন ১৯৫৪-এর আওতায় নিবন্ধিত হয়েছিল এবং ১৩ই সেপ্টেম্বর, ১৯৮৫ সালে মধ্যপ্রদেশ গেজেটে একে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
"মুঘল-পূর্ব মালওয়া অঞ্চলের সুলতানশাহী আমলের স্থাপনা এই মসজিদ। উজ্জয়িনী ও মধ্য ভারতের পুরোনো ঐতিহাসিক নথি ও স্থাপত্যশৈলী মিলিয়ে দেখা গেছে এটি মুঘল আমলের আগের একটি স্থাপনা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উজ্জয়িনী, মধ্যপ্রদেশ, ভারত
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইতিহাসবিদ জাফর আনসারী, বিবিসি সংবাদদাতা সমীর খান ও বিষ্ণুকান্ত তিওয়ারি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৩৬ বছর (মসজিদের ইতিহাস), ১৩৯০ (নির্মাণ সাল), ১৫ মিটার (রাস্তা চওড়া করার অ্যালাইনমেন্ট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!