📌 হিমালয়ের নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও বন্যায় নিহত হয়েছে অন্তত ৩৫৯ জন। নিখোঁজ রয়েছেন এক হাজারেরও বেশি মানুষ। বিজ্ঞানীরা একে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে বুধবার সংঘটিত ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও প্রলয়ংকরী বন্যায় অন্তত ৩৫৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো প্রায় এক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ৮০০ বিদেশি নাগরিক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হিমালয়ের নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট প্রলয়ংকরী বন্যায় নিহত ৩৫৯ জন
- 📌 নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে ৮০০ বিদেশি
- 📌 ধ্বংস হয়েছে ছয়টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও জিরং স্থলবন্দরের অবকাঠামো
- 📌 বিজ্ঞানীরা দুর্যোগটির কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে চিহ্নিত করেছেন
📰 বিস্তারিত
বুধবার হিমালয়ের ‘লাংটাং লিরুং’ চূড়ার উত্তর ঢালে একটি বিশাল হিমশিলা ধসে পড়ে। এর ফলে তিব্বত অংশের ‘লেন্দে খোলা’ নদীতে বিপুল পরিমাণ পাথর ও বরফ আছড়ে পড়লে শুরু হয় ধারাবাহিক বিপর্যয়। উপত্যকা ও পাহাড়ি জনপদ ভাসিয়ে নিয়ে যায় প্রলয়ংকরী বন্যা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে এমন দুর্যোগ বারবার ঘটছে।
আর্থ সায়েন্সেস নিউজিল্যান্ডের ‘মাউন্টেনস টু সি’ কর্মসূচির প্রধান বিজ্ঞানী সাইমন কক্স বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উঁচু পর্বতের পাথর ও বরফের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে হিমবাহ ধস এবং বন্যার মতো দুর্যোগ বারবার ঘটছে।’ তিনি আরও জানান, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে খাড়া ঢালে বরফের বাঁধন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং গলিত বরফের প্রবাহ বেড়ে যায়।
এই দুর্যোগে সীমান্তজুড়ে অন্তত ছয়টি বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে জিরং স্থলবন্দরের বাণিজ্যকেন্দ্রের অবকাঠামো। ভারত সীমান্তের কাছাকাছি ভাটির ১০০ কিলোমিটারের বেশি এলাকার নদীর গতিপথ প্রভাবিত হয়েছে।
‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উঁচু পর্বতের পাথর ও বরফের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। এর ফলে হিমবাহ ধস এবং চলতি সপ্তাহের মতো একের পর এক দুর্যোগ বারবার ঘটছে।’ — সাইমন কক্স, প্রধান বিজ্ঞানী, ‘মাউন্টেনস টু সি’ কর্মসূচি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চল
- 👥 বিজ্ঞানী: সাইমন কক্স
- 🔢 হতাহত: নিহত ৩৫৯ জন, নিখোঁজ প্রায় এক হাজার
- 🔢 ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎকেন্দ্র: ৬টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!